অর্থনীতিঅর্থ পাচার রোধে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ে কমিটি গঠন করছে বিএফআইইউ
অর্থ পাচার রোধে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ে কমিটি গঠন করছে বিএফআইইউ
বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার ঠেকাতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে একটি আন্তসংস্থা স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। কমিটি ঝুঁকি শনাক্তকরণ, তথ্য বিনিময় ও তদন্তে সহযোগিতা বাড়াতে কাজ করবে।
বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) একটি আন্তসংস্থা স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করছে। এই কমিটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আদলে কাজ করবে। ঝুঁকি শনাক্তকরণ, তথ্য বিনিময় এবং তদন্তে সহযোগিতা বাড়ানো কমিটির অন্যতম প্রধান কাজ হবে।
বিএফআইইউ গত রোববার সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীজনদের নিয়ে একটি বৈঠক আয়োজন করে। বৈঠকে বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ পাচার প্রতিরোধের বিদ্যমান ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। আন্তসংস্থা সমন্বয় এবং ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়গুলোও আলোচনায় স্থান পায়।
বিএফআইইউ গত সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে পিপিপি মডেলের আওতায় একটি আন্তসংস্থা স্টিয়ারিং কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই কমিটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে এবং তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) এবং কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত পরিদপ্তরের (সিআইআইডি) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা কাস্টম হাউস, বেনাপোল কাস্টম হাউস, আইসিডি কমলাপুর এবং মোংলা কাস্টম হাউসের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশ নেন।
এছাড়া বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর প্রতিনিধিরাও বৈঠকে ছিলেন। ১৫টি তফসিলি ব্যাংকের প্রতিনিধিরাও এই আলোচনা সভায় যোগ দেন। অর্থ পাচার শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধে এসব সংস্থার পারস্পরিক সহযোগিতা কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে মতামত দেওয়া হয়।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার প্রতিরোধে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি নিয়ে তাঁদের মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাঁরা উল্লেখ করেন, বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ পাচারের পদ্ধতি ও কৌশল ক্রমাগত পরিবর্তিত ও জটিল হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ শনাক্ত ও প্রতিরোধে প্রচলিত নজরদারিব্যবস্থার পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
বিএফআইইউর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাণিজ্যভিত্তিক অর্থ পাচার কার্যকরভাবে শনাক্ত ও প্রতিরোধের জন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। একটি কার্যকর তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী ঝুঁকি বিশ্লেষণ কাঠামো গড়ে তোলাও প্রয়োজন। শুধুমাত্র একটি সংস্থার নজরদারির মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলা করা কঠিন বলে বিএফআইইউ মনে করে।
বৈঠকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, তফসিলি ব্যাংক, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে নিবিড় সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়। বাণিজ্যিক লেনদেন, আমদানি-রপ্তানি এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক কর্মকাণ্ডে সন্দেহজনক কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করতে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দেওয়া হয়।
নতুন কমিটি বিদ্যমান ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনা করবে। একই সঙ্গে এ ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে নেওয়া কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন করবে। তথ্য বিনিময়ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে এই কমিটি কাজ করবে।
কমিটি নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করবে। প্রয়োজন অনুযায়ী দিকনির্দেশনাও দেবে এই কমিটি। এর মাধ্যমে অর্থ পাচারের ঝুঁকি শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম আরও সমন্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি সম্ভাব্য সন্দেহজনক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে। তথ্য বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিএফআইইউ জানায়।
বিএফআইইউর মতে, বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ পাচারের ধরন ও কৌশল পরিবর্তিত হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারি সংস্থাগুলোর পাশাপাশি ব্যাংকসহ বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। নতুন কমিটি সেই সমন্বিত উদ্যোগকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সহায়তা করবে।
মতামত (0)