অটোরিকশায় কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম যুক্ত হচ্ছে
সম্পাদক৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · 1 ঘণ্টা আগে
অটোরিকশায় কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম যুক্ত হচ্ছে
সরকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে ডিজিটাল ও শৃঙ্খলিত ব্যবস্থার আওতায় আনতে প্রতিটি যানে কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই তথ্য জানান।
সরকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলোকে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ না করে একটি ডিজিটাল, নিবন্ধিত ও শৃঙ্খলিত ব্যবস্থার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি অটোরিকশায় কিউআর কোড এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম যুক্ত হতে যাচ্ছে। আজ সোমবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুর উত্থাপিত এক নোটিশের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য জানান।
সংসদ অধিবেশনে রেহানা আক্তার রানু রাজধানীর ১৭টি সিগন্যালে চালু থাকা ৫০টি এআই নির্ভর ট্রাফিক ক্যামেরার সুফল তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ট্রাফিক ক্যামেরা চালুর পর সড়কে লাল বাতি অমান্য করা, লাইন পরিবর্তন বা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর মতো অনিয়ম অনেকাংশেই কমে এসেছে। তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া গতিতে চলছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এসব যানের কোনো নম্বর প্লেট না থাকায় এআই ক্যামেরায় অনিয়ম শনাক্ত হলেও জরিমানা বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ঢাকা শহরে বিপুল সংখ্যক অটোরিকশা প্রধান সড়কগুলোতেও প্রবেশ করছে। সঠিক কাঠামোগত নকশা না থাকায় প্রায়ই এসব বাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের এই সংসদ সদস্য আরও জানান, কম ভাড়া ও সহজলভ্যতার কারণে অটোরিকশা সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাই তিনি অটোরিকশা সম্পূর্ণ বন্ধ না করে তাদের কাঠামোগত পরিবর্তন, নম্বর প্লেট সংযোজন, চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান ও প্রশিক্ষণের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
নোটিশের বিপরীতে দেওয়া জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে সংসদকে জানান, গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজি বাইক ও তিন চাকার বৈদ্যুতিক যান গ্রামীণ ও নগর পরিবহন ব্যবস্থার একটি প্রধান অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কম খরচ ও সহজ যাতায়াতের কারণে যেমন সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছে, তেমনি চালক, গ্যারেজ শ্রমিক, যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী ও চার্জিং সেবা দাতাসহ একটি বিশাল অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এর দ্রুত ও অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সারাদেশে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার রয়েছে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহার করে। বিপরীতে বৈধ চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা মাত্র প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি।
তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই প্রায় ৪৮ হাজার অনানুষ্ঠানিক ও অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে প্রতি বছর সরকারের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। এসব রিকশায় ব্যবহৃত ক্ষতিকারক লেড-এসিড ব্যাটারি এবং এর অনিরাপদ রিসাইক্লিং থেকে নির্গত ধোঁয়া ও সিসা বাতাস, মাটি ও পানি মারাত্মকভাবে দূষিত করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমনকি আশেপাশে গড়ে ওঠা পোল্ট্রি শিল্পগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান টেনে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালে দেশে মোট ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১ জন নিহত হন। এসব দুর্ঘটনার ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশেই অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা যুক্ত ছিল।
বর্তমান আইনি পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, প্রধান সড়কগুলোতে অটোরিকশা চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযান ও ডাম্পিং পরিচালনা করছে। একইসঙ্গে ডিএমপি, ডেসকো ও ডিপিডিসির যৌথ অভিযানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। সড়ক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে ঢাকা শহরের ১৭টি সিগন্যালে ৫০টি এআই ক্যামেরা থেকে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, তেজগাঁও ও রমনা বিভাগে আরও ২০০টি এআই ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে। এই ক্যামেরাগুলো পর্যায়ক্রমে পুরো রাজধানীতে সম্প্রসারণ করা হবে।
মতামত (0)