ফেইমল্যাব একাডেমি ২০২৬-এর গ্র্যান্ড ফিনালেতে চ্যাম্পিয়ন হুমাইরা তাফসির সারা

ফেইমল্যাব একাডেমি ২০২৬-এর গ্র্যান্ড ফিনালেতে চ্যাম্পিয়ন হুমাইরা তাফসির সারা
ফেইমল্যাব একাডেমি ২০২৬-এর গ্র্যান্ড ফিনালেতে চ্যাম্পিয়ন হুমাইরা তাফসির সারা
ফেইমল্যাব একাডেমি বাংলাদেশ ২০২৬-এর গ্র্যান্ড ফিনালেতে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লন্ডন স্কুল অব ইংলিশের শিক্ষার্থী হুমাইরা তাফসির সারা। ব্রিটিশ কাউন্সিল আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় বিজ্ঞান যোগাযোগের দক্ষতা যাচাই করা হয়।

সায়েন্স কমিউনিকেটর হিসেবে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সাফল্য উদ্‌যাপনে গতকাল মঙ্গলবার ব্রিটিশ কাউন্সিল তাদের রাজধানীর ফুলার রোডে অবস্থিত নিজস্ব কার্যালয়ে ফেইমল্যাব একাডেমি বাংলাদেশ ২০২৬-এর গ্র্যান্ড ফিনালে আয়োজন করে। এই প্রতিযোগিতায় লন্ডন স্কুল অব ইংলিশের শিক্ষার্থী হুমাইরা তাফসির সারা জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। স্যার জন উইলসন স্কুলের শিক্ষার্থী ওয়ারদা ফাতিমা খান প্রথম রানারআপ এবং সেন্ট জোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থী মো. জিয়াউল হক রেয়ান দ্বিতীয় রানারআপের স্থান অর্জন করে।

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (এসটিইএম) বিষয়ে যোগাযোগের দক্ষতা বাড়াতে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। প্রতিযোগীদের খালি মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিন মিনিটের মধ্যে বিজ্ঞান, প্রকৌশল অথবা গণিত–সংশ্লিষ্ট ধারণা ব্যাখ্যা করতে হয়। এক্ষেত্রে প্রতিযোগীরা শুধু হাতে বহন করা যায়, এমন উপকরণ ব্যবহার করতে পারে; কোনো ডিজিটাল নোট বা পাওয়ারপয়েন্ট ব্যবহারের সুযোগ থাকে না।

প্রতিযোগীদের বিষয়বস্তু, স্পষ্টতা ও উপস্থাপনার ধরন—এই তিনটি মূল মানদণ্ডে বিচার করা হয়। এ বছর বাংলাদেশ থেকে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর ১১টি স্কুলের ৩১ জন শিক্ষার্থী অংশ নিলেও এবার ২২টি স্কুলের ৪৪ জন প্রার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

এবারের প্রতিযোগিতার আঞ্চলিক পর্বে মোট ৩৯ জন শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতা করে। তাদের মধ্যে সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০ জন গ্র্যান্ড ফিনালের জন্য নির্বাচিত হয়। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হলো স্যার জন উইলসন স্কুল, লন্ডন স্কুল অব ইংলিশ, কিডস ক্যাম্পাস স্কুল, প্যারামাউন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা, গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং সেন্ট জোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল।

ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও হেড অব মার্কেট জুনায়েদ আহমেদ বলেন, ফাইনালিস্টরা কতটা জানে, ফেইমল্যাবে তা যাচাই করা হয় না। বরং তারা যা জানে, তা দিয়ে অন্যদের আগ্রহী করে তুলতে পারে কি না, সেটাই এখানে যাচাই করা হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কোনো বিষয় জানা এবং সেই বিষয় অন্যকে বোঝাতে পারা দুটি ভিন্ন দক্ষতা।

প্রতিযোগীর নম্বরের দুই-তৃতীয়াংশ নির্ভর করে সে কতটা ভালোভাবে তার বিষয়টি অন্যদের বোঝাতে পারছে তার ওপর। ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের হেড অব বিজনেস ইমপ্রুভমেন্ট আহসানুল আজাদ, আইসিডিডিআরবির গবেষণা সহযোগী ফারিয়া মারহা এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক সালেকুল ইসলাম—এই তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল ফাইনালিস্টদের পরিবেশনা মূল্যায়ন করেন।

গ্র্যান্ড ফিনালের আগে ১০ জন জাতীয় ফাইনালিস্ট দুই দিনের একটি মাস্টারক্লাসে অংশ নেয়। ২৬ ও ২৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত এই মাস্টারক্লাস পরিচালনা করেন যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানবিষয়ক টেলিভিশন উপস্থাপক ও মাস্টার ট্রেইনার ডালাস ক্যাম্পবেল। মাস্টারক্লাসে মঞ্চে উপস্থিতি, গল্প বলার কৌশল এবং উপস্থাপনার দক্ষতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হিসেবে হুমাইরা তাফসির সারা ব্রিটিশ কাউন্সিলের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত চেনটেলহ্যাম সায়েন্স ফেস্টিভালে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। এই ভ্রমণের প্রয়োজনীয় সব খরচ ব্রিটিশ কাউন্সিল বহন করবে।

এছাড়াও অনুষ্ঠানের ব্র্যান্ড পার্টনারদের পক্ষ থেকে ১০ জন ফাইনালিস্টকেই পুরস্কৃত করা হয়। চ্যাম্পিয়নকে ১০ হাজার টাকা এবং অন্য ৯ জন ফাইনালিস্টকে ৩ হাজার টাকা করে ভ্রমণ ভাউচার প্রদান করা হয়। ফাইনালিস্টদের ফ্যাশন পোশাক কেনাকাটায় ২০ শতাংশ ছাড়ের ভাউচারও দেওয়া হয়।

পাশাপাশি ফাইনালিস্টদের জন্য একটি ডিজিটাল প্রকাশনার ১২ মাসের বিনা মূল্যে সাবস্ক্রিপশন প্রদান করা হয়। সকল ফাইনালিস্টকে প্রিমিয়াম ব্যাকপ্যাক ও কাস্টম ক্যাপও দেওয়া হয়েছে। সনদ প্রদান এবং শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্কুলের অধ্যক্ষ, মেন্টর ও অতিথিদের নেটওয়ার্কিং সেশনের মধ্য দিয়ে এই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...