ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান ১০২ সাবেক কূটনীতিকের
সম্পাদক২৩ আগস্ট, ২০২৬ · 45 দিন আগে
ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান ১০২ সাবেক কূটনীতিকের
ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের ১০২ জন সাবেক কূটনীতিক ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ ও বাণিজ্য চুক্তি স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা ফিলিস্তিনে আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপের দাবি করেছেন।
ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের ১০২ জন সাবেক কূটনীতিক ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য দুই দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় যৌথভাবে কাজ করার দাবি জানানো হয়েছে। একটি খোলা চিঠির মাধ্যমে তারা এই আহ্বান জানান।
কূটনীতিকরা ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের দাবি তুলেছেন। একইসঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করা এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ফরাসি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ওই চিঠিতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে একসঙ্গে ফিলিস্তিনে আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার কথা বলা হয়। ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘে যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত জেরেমি গ্রিনস্টক ও এমির জোনস প্যারি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। ফ্রান্সের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক পরিচালক ইভ ওবাঁ দ্য লা মেসুজিয়ের ও দনি বোশারও স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তারা সতর্ক করেছেন।
তাদের মতে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বর্তমান নীতি একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করতে পারে। চিঠিতে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ধ্বংস এবং পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাকে জাতিগত নিধনের শামিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও পুলিশের নীরব সমর্থন রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত নিকোলাস হপটন বলেন, চিঠিতে ব্যবহৃত শব্দচয়ন কূটনীতিকদের নিজস্ব নয়। এগুলো জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আইনি সংস্থাগুলোর মূল্যায়নের প্রতিফলন। লিবিয়ায় যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার মিলেট বলেন, শুধু নিন্দা বা উদ্বেগ প্রকাশের সময় শেষ হয়েছে। এখন বাস্তব পদক্ষেপের প্রয়োজন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। সেই স্বীকৃতিকে অর্থবহ করতে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ফিলিস্তিন, সিরিয়া ও লেবাননে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।
জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মাধ্যমে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর দাবি জানানো হয়েছে। সাংবাদিক, কূটনীতিক ও সংসদ সদস্যদের নিরাপদ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে চিঠিতে।
চিঠিতে শুধু ইসরায়েল নয়, ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের সমালোচনাও করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি নেতৃত্বকে ‘অকার্যকর ও প্রতিনিধিত্বহীন’ উল্লেখ করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কূটনীতিকদের ভাষ্য, কেবল বিবৃতি নয়, বাস্তব পদক্ষেপই এখন মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে পারে।
মতামত (0)