সৈয়দ তানভীর আহমেদের পেশাগত অভিজ্ঞতা গত এক দশকের বেশি সময়ে বিস্তৃত হয়েছে। ক্যারিয়ারের শুরুতে তাঁর প্রধান কাজ ছিল ব্যবসা তৈরি করা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই দায়িত্ব পরিবর্তিত হয়ে বাজার তৈরি, দল গঠন এবং বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যবসা সম্প্রসারণে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে তাঁর অভিজ্ঞতার পরিধি আরও বড়, যেখানে একাধিক ব্যবসায়িক ইউনিটের কৌশল ও পরিচালনার সমন্বয় অন্তর্ভুক্ত।
অর্থনীতি ও অর্থব্যবস্থাপনা বিষয়ে শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি আন্তর্জাতিক আর্থিক সেবা খাতে ব্যবসা উন্নয়ন, বিক্রয় নেতৃত্ব ও আঞ্চলিক সম্প্রসারণের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বর্তমানে ডিবি ইনভেস্টিংয়ের গ্রুপ জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন।
গত এপ্রিল মাসে তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে প্রধান ব্যবসা উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। যোগদানের পর তাঁর প্রাথমিক দায়িত্বগুলোর মধ্যে ছিল দল পুনর্গঠন, কার্যক্রমের সমস্যা চিহ্নিতকরণ, প্রতিযোগী ও বাজার বিশ্লেষণ এবং প্রবৃদ্ধির পরিকল্পনা তৈরি করা। পরবর্তীতে তাঁর দায়িত্ব আরও বিস্তৃত হয় এবং গ্রুপ পর্যায়ের ব্যবসা, কৌশল ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত হয়।
তবে এই অবস্থানে পৌঁছানোর পথটি সহজ ছিল না। ক্যারিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁকে এমন বাজার ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতে হয়েছে, যেখানে নতুন করে কাঠামো তৈরি করা জরুরি ছিল। কোথাও ব্যবসা পুনর্গঠন, কোথাও নতুন ব্র্যান্ডকে বাজারে প্রতিষ্ঠা, আবার কোথাও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্কৃতি তৈরি—প্রতিটি অভিজ্ঞতা তাঁর পরবর্তী দায়িত্বের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
ব্যবসা যখন নিম্নমুখী, তখন প্রতিষ্ঠান থেকে দূরে থাকার পরামর্শই বেশি পাওয়া যায়। তবে ২০২২ সালে এমন এক সময়েই তানভীর গ্লোবাল মার্কেট ইনডেক্সে যোগ দেন। সেই সময় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা নিম্নমুখী ছিল এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার পর্যায়ে ছিল।
সেই পরিস্থিতিতে তাঁর দায়িত্ব ছিল শুধু নতুন গ্রাহক নিয়ে আসা নয়, বরং একটি কার্যকর ব্যবসায়িক কাঠামো নতুন করে দাঁড় করানো। তিনি বলেন, “সেই সময় পরিস্থিতি সহজ ছিল না। শুধু ব্যবসা বাড়ানোর চিন্তা করলে হতো না, পুরো কাঠামোকে নতুন করে ভাবতে হয়েছিল।”
তাঁর দাবি অনুযায়ী, সাত মাসের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে ৩৫টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও ১১৫টি খুচরা অংশীদারত্ব তৈরি হয়। পাশাপাশি স্থানীয় অর্থ লেনদেন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে লেনদেনের অবকাঠামো গড়ে তোলা হয় এবং কয়েকজন উচ্চ সম্পদশালী গ্রাহককে যুক্ত করা হয়।
গ্লোবাল মার্কেট ইনডেক্সে আঞ্চলিক ব্যবসা উন্নয়ন ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করার সময় একটি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া বাজারকে অংশীদারনির্ভর নেটওয়ার্কে পরিণত করাকেই তিনি নিজের বড় অবদান হিসেবে দেখেন। তিনি আরও বলেন, “সেখানে আমার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল একটি দুর্বল বাজারকে আবার কার্যকর করে তোলা। আমি শুধু বিক্রয় বাড়ানোর দিকে না গিয়ে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক কাঠামো তৈরির দিকে গুরুত্ব দিয়েছি।”


মতামত (0)