ফ্রান্সে পুনর্নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রদূত তালহাকে প্রবাসীদের সংবর্ধনা

ফ্রান্সে পুনর্নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রদূত তালহাকে প্রবাসীদের সংবর্ধনা
ফ্রান্সে পুনর্নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রদূত তালহাকে প্রবাসীদের সংবর্ধনা
ফ্রান্সে পুনর্নিয়োগ পাওয়া বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহাকে প্যারিসে প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা সংবর্ধনা দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্ক জোরদার ও প্রবাসীদের কল্যাণে কাজ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ফ্রান্সে বাংলাদেশের পুনর্নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রদূত ও ইউনেস্কোতে স্থায়ী প্রতিনিধি খন্দকার এম. তালহাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের হলরুমে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। ফ্রান্সের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই সংবর্ধনায় অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের আগে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় ফ্রান্সের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সে সময় বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্ক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

দূতালয় প্রধান মো. ওয়ালিদ বিন কাশেমের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় ফ্রান্স বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ তাহের, সাবেক সহসভাপতি আব্দুর রহিম, শাহ জামাল, অধ্যাপক তসলিম উদ্দিন, রশীদ পাটওয়ারি, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ আহমেদ বক্তব্য দেন। খেলাফত মজলিসের কাওছার উদ্দিন এবং জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ফ্রান্সের সভাপতি আলতাফুর রহমানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারাও সভায় বক্তব্য রাখেন। বক্তারা রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহাকে পুনর্নিয়োগ পাওয়ায় অভিনন্দন জানান।

তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, ফ্রান্সে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে। একইসঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে কাজ করা এবং বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে রাষ্ট্রদূতের ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।

রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। দায়িত্ব পালনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতা, পরামর্শ ও আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে তিনি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পুনর্নিয়োগের মাধ্যমে তাঁর ওপর আস্থা রাখার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্রান্সে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন করাই তাঁর লক্ষ্য। দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে দূতাবাসের কার্যক্রম আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে তিনি দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

দায়িত্ব পালনকালে দূতাবাসের বিভিন্ন উদ্যোগ ও কার্যক্রম তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এসব ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা। তিনি বলেন, বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের স্বার্থ ও অগ্রাধিকারগুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে দূতাবাসের যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিরা দেশের ভাবমূর্তি ও স্বার্থ সমুন্নত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দূতাবাস ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও কার্যকরভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের মধ্যে ডিফেন্স অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান মোল্লা (এনডিসি, পিএসসি) উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও কাউন্সিলর মাহফুজা সুলতানা, দূতালয় প্রধান মো. ওয়ালিদ বিন কাশেম, প্রথম সচিব শেখ মারেফত তারেকুল ইসলাম, মিনিস্টার (কমার্শিয়াল) মিজানুর রহমান এবং দ্বিতীয় সচিব কে. এফ. এম. শারহাদ শাকিলসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...