পিসিওএস পরিচিতি বদলে এখন পিএমওএস: বিপাকীয় সমস্যা হিসেবে নতুন নামকরণ

পিসিওএস পরিচিতি বদলে এখন পিএমওএস: বিপাকীয় সমস্যা হিসেবে নতুন নামকরণ
পিসিওএস পরিচিতি বদলে এখন পিএমওএস: বিপাকীয় সমস্যা হিসেবে নতুন নামকরণ
পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (পিসিওএস) এর নাম পরিবর্তন করে পলিএন্ডোক্রাইন মেটাবলিক ওভারিয়াস সিনড্রোম (পিএমওএস) রাখা হয়েছে। এটি শুধু ডিম্বাশয়ের সমস্যা নয়, বরং একটি বিপাকজনিত জটিলতা।

সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে পলিএন্ডোক্রাইন মেটাবলিক ওভারিয়াস সিনড্রোম (পিএমওএস) সচেতনতা মাস পালিত হচ্ছে। এ বছর এই সচেতনতা মাস বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ, এবারই রোগের বহুল প্রচলিত নাম পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (পিসিওএস) থেকে পরিবর্তন করে পিএমওএস রাখা হয়েছে।

তরুণী ও প্রজননক্ষম নারীদের মধ্যে এটি একটি অন্যতম আলোচিত হরমোনজনিত সমস্যা। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘পলিসিস্টিক ওভারি’ নামটি বিভ্রান্তিকর। অনেক রোগীর ডিম্বাশয়ে সিস্ট না থাকলেও সমস্যাটি বিদ্যমান থাকতে পারে।

এটি শুধু মাসিকের অনিয়ম বা ডিম্বাশয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ একটি সমস্যা নয়। বরং এটি একটি ব্যাপক বিপাকজনিত সমস্যা, যার সুদূরপ্রসারী দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রয়েছে। এই কারণে বর্তমানে রোগটিকে পিএমওএস হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

পিএমওএসে শরীরের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বেড়ে যায় এবং পুরুষ হরমোন বা অ্যান্ড্রোজেনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এটিই রোগের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে। এর ফলে মাসিকের অনিয়মিত হওয়া, ডিম্বস্ফোটন ব্যাহত হওয়া, মুখ ও শরীরে অবাঞ্ছিত লোম গজানো, ব্রণ দেখা দেওয়া এবং মাথার চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়।

এছাড়াও, পেটের দিকে চর্বি জমে ওজন বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘকাল ধরে যদি এই সমস্যার চিকিৎসা না করা হয়, তবে সন্তান ধারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এটি স্পষ্ট করা জরুরি যে পিএমওএস মানেই বন্ধ্যত্ব নয়; সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অধিকাংশ নারীই মা হওয়ার সুযোগ পান।

যাদের পিএমওএস আছে, তাদের স্থূলতা, প্রি-ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদ্‌রোগসহ বিভিন্ন বিপাকীয় জটিলতার ঝুঁকি থাকে। তাই কেবল মাসিকের অনিয়ম, অবাঞ্ছিত লোম বা বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা নয়, এই অন্যান্য স্বাস্থ্য ঝুঁকির দিকেও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

রোগটির কোনো একক কারণ নেই। বরং বংশগত প্রবণতা, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে এর মাত্রা বেড়ে যায়, যা ডিম্বাশয়ে অ্যান্ড্রোজেন উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়।

এই রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে শুধু আলট্রাসনোগ্রাম যথেষ্ট নয়। মাসিকের ইতিহাস, শারীরিক লক্ষণ, হরমোন পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে অন্যান্য হরমোনজনিত রোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। থাইরয়েড সমস্যা বা অন্যান্য শারীরিক অবস্থাও অনেক সময় একই রকম লক্ষণ দেখাতে পারে।

চিকিৎসার মূল ভিত্তি হলো জীবনযাত্রার পরিবর্তন। নিয়মিত হাঁটাচলা বা ব্যায়াম, সুষম খাবার গ্রহণ এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ এক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...