প্যাকেটজাত খাদ্যে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা: দ্রুত প্রবিধান চায় জনস্বাস্থ্যবিদরা
সম্পাদক১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · 1 ঘণ্টা আগে
প্যাকেটজাত খাদ্যে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা: দ্রুত প্রবিধান চায় জনস্বাস্থ্যবিদরা
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্যাকেটজাত খাদ্যে স্পষ্ট স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত এসব খাবারের পুষ্টিমান সম্পর্কে ভোক্তাদের অজ্ঞতা বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করছে।
আজ মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন দোকানে সহজলভ্য প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব খাবারে অতিরিক্ত লবণ, চিনি, চর্বি ও অন্যান্য উপাদান থাকলেও তার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ভোক্তাকে স্পষ্টভাবে জানানো হয় না। বাহারি মোড়ক, আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন এবং স্বাস্থ্যগুণের দাবি ব্যবহার করে এসব পণ্য বাজারজাত করা হয়।
ঢাকার একটি বেসরকারি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী লামিয়া প্রতিদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে চিপস, চকলেট, ক্রিম বিস্কুট এবং বিভিন্ন ধরনের প্যাকেটজাত স্ন্যাকস কেনে। লামিয়ার মা মমতাজ বেগম জানান, সকালে মেয়ে কিছু খেতে চায় না এবং স্কুল থেকে ফেরার পথে তার ক্ষুধা লাগে। তখন খোলা অস্বাস্থ্যকর খাবারের বদলে প্যাকেটজাত খাবারই কিনে দিতে হয়।
মমতাজ বেগম কয়েক মাস ধরে মেয়ের খাবারের অভ্যাস নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, বাসায় গিয়ে মেয়ে আর খেতে চায় না এবং বকাঝকা করেও তাকে খাওয়ানো যায় না। প্যাকেটের পেছনে পুষ্টি উপাদানের তালিকা ছোট অক্ষরে লেখা থাকে, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। কোন খাবারে কতটা চিনি, লবণ বা চর্বি রয়েছে, তা জানতে বড় অক্ষরে লেখা তথ্য প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
লামিয়ার মতো হাজারো পরিবার একই বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে। এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যার প্রতিচ্ছবি। বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৯৭ শতাংশ মানুষ নিয়মিত প্যাকেটজাত খাবার খাচ্ছে। তারা খাবারের প্রকৃত পুষ্টিমান ও স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না নিয়েই খাদ্য নির্বাচন করছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্যাকেটজাত খাবারগুলো লবণ, চিনি ও টেস্টিং সল্টের মিশ্রণে তৈরি করা হয়, যা মস্তিষ্কে সাময়িক আনন্দ দেয়। এর ফলে বিশেষ করে শিশুরা একবার এই স্বাদ পেলে বাড়িতে তৈরি পুষ্টিকর খাবারের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এই বাস্তবতায় প্যাকেটের সামনের অংশে স্পষ্ট স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা দেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, ভোক্তা অধিকারকর্মী ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন বলছে, অধিকাংশ ক্রেতাই এসব খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা ক্ষতিকর চর্বির পরিমাণ সম্পর্কে জানেন না। প্যাকেটের ভেতরে থাকা উপাদানের বিষয়ে সহজ ভাষায় সতর্ক করা হলে সুফল আসবে। গবেষণা বলছে, অস্বাস্থ্যকর প্যাকেটজাত পণ্য কেনার আগ্রহ কমানোর ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক লেবেল ক্রেতার ওপর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ৭১টি দেশে ‘ফ্যাট-ফ্রি’-এর মতো পুষ্টি বিষয়ক দাবির ওপর নীতিমালা রয়েছে। ৪৪টি দেশে ফ্রন্ট অব প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) প্রবর্তন করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৬টি দেশে এটি বাধ্যতামূলক। এই ১৬টি দেশের মধ্যে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, কানাডা, চিলি, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, পেরু, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর অন্যতম।
বাংলাদেশ সরকারও এই পথে এগোচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। ২০১৯ সালের মে মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘স্বাস্থ্যকর ডায়েট প্রচারের জন্য ফ্রন্ট অব প্যাকেজ লেবেলিংয়ের নির্দেশিকা এবং ফ্রেমওয়ার্ক ম্যানুয়াল’ প্রকাশ করে। এই ম্যানুয়ালের উদ্দেশ্য ছিল দেশগুলোকে উপযুক্ত ফ্রন্ট অব প্যাকেজ লেবেলিং ব্যবস্থা তৈরি, বাস্তবায়ন এবং মূল্যায়নে সহায়তা করা। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বাংলাদেশ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করছে।
মতামত (0)