খেলাধুলাপ্লাতিনির ইনফান্তিনোকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য: 'সে টাকাপয়সা আর ক্ষমতা ভালোবাসে'
প্লাতিনির ইনফান্তিনোকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য: 'সে টাকাপয়সা আর ক্ষমতা ভালোবাসে'
সাবেক উয়েফা সভাপতি মিশেল প্লাতিনি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইনফান্তিনো "টাকাপয়সা আর ক্ষমতা খুব ভালোবাসে" এবং খেলার নিয়মকানুন লঙ্ঘন করেছেন।
সাবেক উয়েফা সভাপতি মিশেল প্লাতিনি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইনফান্তিনোকে অবশ্যই চলে যেতে হবে। প্লাতিনি তার সাবেক সহকর্মী সম্পর্কে মন্তব্য করেন, "আমি জানতাম, সে টাকাপয়সা আর ক্ষমতা খুব ভালোবাসে।"
ইনফান্তিনো বর্তমানে ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করে সমালোচনার মুখে রয়েছেন। এই পরিকল্পনায় বিশ্বকাপসহ বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য একটি কোম্পানি খুলে তার ২০ শতাংশ মালিকানা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। উয়েফা এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেছে।
মিশেল প্লাতিনি উয়েফার সভাপতি থাকাকালীন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তার অধীনে সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে কাজ করেছেন। সময়ের পরিক্রমায় ইনফান্তিনো এক দশক ধরে ফিফা সভাপতির দায়িত্বে আছেন, আর প্লাতিনি ফুটবল অঙ্গনে প্রায় বহিরাগত। তবে সম্প্রতি তিনি ফুটবল প্রশাসনে তার মতামত তুলে ধরছেন।
প্লাতিনি মনে করেন, ইনফান্তিনো খেলার নিয়মকানুনের রক্ষক হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজেই নিয়মগুলোকে সম্মান করেননি। তিনি বলেন, "অর্থনৈতিক বিষয় এক জিনিস, কিন্তু ইনফান্তিনো ব্যর্থ হয়েছে।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইনফান্তিনোকে অবশ্যই তার পদ থেকে সরে যেতে হবে।
সম্প্রতি শেষ হওয়া বিশ্বকাপে ইনফান্তিনোর সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বেশ কিছু বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ম্যাচের প্রতিটি অর্ধে প্রায় চার মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক এবং ফাইনালের বিরতি ১৫ মিনিটের সীমা অতিক্রম করে ৩০ মিনিট হওয়া নিয়ে সমালোচনা হয়। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোন করার পর যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা ফিফা তুলে নেওয়ায় বিতর্ক অন্য মাত্রা পায়।
প্লাতিনির মতে, এই ঘটনাগুলোর মধ্যে লাল কার্ডের বিষয়টিই সবচেয়ে গুরুতর। তিনি বলেন, "বিজ্ঞাপন বিরতির নিয়ম নেই, ফাইনালের ৩০ মিনিটের হাফটাইমও নিয়মে নেই। আর লাল কার্ডের ব্যাপারটি সবচেয়ে খারাপ।" তিনি আরও যোগ করেন, "সে নিয়মের রক্ষক। অথচ সে নিয়মগুলো মানে না। তাকে চলে যেতে হবে।"
৭১ বছর বয়সী এই সাবেক ফুটবলার ও প্রশাসক ২০১৫ সালে দুর্নীতির অভিযোগে ফুটবলীয় কার্যক্রম থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। সেপ ব্লাটারের পর ফিফার পরবর্তী সভাপতি হওয়ার আলোচনায় ছিলেন তিনি। ২০২৫ সালে সব অভিযোগ থেকে খালাস পাওয়ার পর থেকে তিনি ধীরে ধীরে আবার সরব হচ্ছেন।
গতকাল ফরাসি টেলিভিশনটির একটি ফুটবল অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্লাতিনি এখনকার ফুটবল প্রশাসন নিয়ে কথা বলেন। এর আগে তার ফুটবল ক্যারিয়ার নিয়ে তৈরি একটি তিন পর্বের তথ্যচিত্র প্রচারিত হয়েছে। এই তথ্যচিত্রে তার দীর্ঘদিনের ফুটবল যাত্রা তুলে ধরা হয়েছে।
উয়েফার পাশাপাশি কনক্যাকাফ ও এশিয়ার ফুটবল কর্মকর্তারাও ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন। তবে প্লাতিনি বিশ্বাস করেন, খেলাধুলার প্রতিষ্ঠানগুলো এককভাবে ইনফান্তিনোকে পদ থেকে সরাতে পারবে না। তিনি মনে করেন, উয়েফা যদি ইনফান্তিনোকে পদচ্যুত করতে চায়, তাহলে আদালতের মাধ্যমেই তা করতে হবে।
প্লাতিনি বলেন, "আমি সব সময়ই জানতাম, সে টাকাপয়সা ও ক্ষমতা ভালোবাসে।" ২০১৬ সালে ফিফা সভাপতি হন ইনফান্তিনো, যখন প্লাতিনি দুর্নীতির অভিযোগে ফুটবল থেকে দূরে ছিলেন। প্লাতিনির ভাষায়, ইনফান্তিনো তাকে ফিফার সভাপতির পথ থেকে সরাননি, বরং তার পতনের সুযোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, "সে আমাকে নামায়নি, সে এ থেকে লাভবান হয়েছে।"
মিশেল প্লাতিনি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সন্দেহের ঊর্ধ্বেও রাখছেন না। তিনি বলেন, "এখন তার বিরুদ্ধে সারা বিশ্বে অনেক তদন্ত হচ্ছে।" নির্দিষ্ট কিছু বিষয় সম্পর্কে ইনফান্তিনো কী জানতেন, তা নিয়েও নানা কথা উঠছে।
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আইনি পথেও এগিয়েছেন প্লাতিনি। ২০১৫ সালে ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হওয়া ঠেকাতে তার বিরুদ্ধে যেসব কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল, সেগুলোর কারণে ক্ষতিপূরণ চেয়ে ফ্রান্সে মামলা করেছেন তিনি। এই মামলায় ইনফান্তিনোর পাশাপাশি সাবেক ফিফা কর্মকর্তা মার্কো ভিলিগার ও দোমেনিকো স্কালাকেও আসামি করা হয়েছে। প্লাতিনি মিথ্যা অভিযোগ আনার ষড়যন্ত্র, প্রভাব খাটানোর চেষ্টা এবং প্রভাব খাটাতে সহায়তার অভিযোগ তুলেছেন।
মতামত (0)