পঞ্চগড়ে প্রযুক্তি গ্রাম পরিদর্শনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল
সম্পাদক৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · 1 ঘণ্টা আগে
পঞ্চগড়ে প্রযুক্তি গ্রাম পরিদর্শনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল
কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল গত শুক্রবার পঞ্চগড় সদর উপজেলার ঘাটিয়ারপাড়া প্রযুক্তি গ্রাম পরিদর্শন করেছে। তারা এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত কার্যক্রম ও কৃষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সরেজমিনে দেখেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল গত শুক্রবার পঞ্চগড় সদর উপজেলার ঘাটিয়ারপাড়া প্রযুক্তি গ্রাম পরিদর্শন করেছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) স্যাটেলাইট স্টেশন, পঞ্চগড়ে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন (এলএসটিডি) প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত প্রযুক্তি গ্রাম ও কৃষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্য এই দল পঞ্চগড় যায়।
পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দল পঞ্চগড়ের কৃষির সম্ভাবনা, ধান উৎপাদনের বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করে। তারা স্থানীয় কৃষি-জলবায়ু ও মাটির বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ধানের জাত নির্বাচন এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ নিয়ে কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রতিনিধি দল এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে বাস্তবায়িত ঘাটিয়ারপাড়া প্রযুক্তি গ্রাম সরেজমিনে পরিদর্শন করে।
সেখানে চলমান গবেষণা ও প্রদর্শনী কার্যক্রম, আধুনিক ধান উৎপাদন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষকের মাঠে গবেষণালব্ধ প্রযুক্তির প্রয়োগ তারা পর্যবেক্ষণ করেন। প্রযুক্তি গ্রামের বিভিন্ন কার্যক্রম, কৃষকদের অংশগ্রহণ এবং মাঠপর্যায়ে প্রযুক্তি প্রয়োগের বাস্তব চিত্র সম্পর্কে অতিথিরা অবহিত হন। পরে প্রযুক্তি গ্রামের আওতায় এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে আয়োজিত কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অতিথিরা অংশ নেন।
প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে তারা কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং ধান চাষে তাদের অভিজ্ঞতা, সমস্যা, প্রয়োজন ও প্রত্যাশার কথা শোনেন। কৃষকেরা উৎপাদন ব্যয়, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-৩ শাখার উপসচিব মো. মনিরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পঞ্চগড়ের উপপরিচালক মো. আব্দুল মতিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেন।
এছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-৩ শাখার গবেষণা অনুসন্ধানী মোহাম্মদ শফিকুল আলম, পঞ্চগড় সদর উপজেলার ৪ নম্বর কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তোফায়েল প্রধান এবং ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন, পঞ্চগড়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান মো. মাসুদ রানা উপস্থিত ছিলেন।
পরে ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন, পঞ্চগড়ের কার্যক্রম এবং পঞ্চগড় অঞ্চলে এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় চলমান গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম সম্পর্কে অতিথিদের অবহিত করা হয়। এ সময় পঞ্চগড় অঞ্চলের কৃষি-প্রতিবেশ, ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা এবং স্থানীয় কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও এসব সমস্যা সমাধানে গৃহীত গবেষণা কার্যক্রমের ওপর আলোকপাত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও চাহিদার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত চলমান গবেষণা, প্রযুক্তি গ্রাম এবং কৃষকবান্ধব কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে গবেষণালব্ধ প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ এবং তা দ্রুত কৃষকের মাঠে সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রকল্পের সুফল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কৃষকের প্রয়োজন ও স্থানীয় বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম আরও জোরদার করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের উৎসাহিত করেন। সভাপতির বক্তব্যে এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেন পঞ্চগড় অঞ্চলের কৃষি-জলবায়ু, মাটি ও স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে কৃষকদের সমস্যাভিত্তিক গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি ধানের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, আধুনিক প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে গবেষণা ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কার্যক্রম আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে কৃষকদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও চাহিদাকে গবেষণা পরিকল্পনায় যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। গবেষণার মূল লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তি উদ্ভাবন নয়, বরং উদ্ভাবিত প্রযুক্তি কৃষকের মাঠে সফলভাবে প্রয়োগ করা এবং এর সুফল কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ লক্ষ্যে গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সম্প্রসারণ বিভাগ ও কৃষকের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। পরে তিনি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, স্থানীয় চাহিদা ও বাস্তবতার ভিত্তিতে পরিচালিত এসব কার্যক্রম পঞ্চগড় অঞ্চলে ধান চাষের বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে। এটি কৃষকের উৎপাদন ঝুঁকি হ্রাস এবং কৃষি উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তারা মনে করেন।
মতামত (0)