প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষার প্রকৃত সাফল্য কেবল নতুন ভবন নির্মাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন অথবা বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে কতটা কার্যকরভাবে শেখানো হচ্ছে এবং তাদের জ্ঞানার্জনের ফলে ব্যক্তিগত জীবনে কী ধরনের ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন আসছে, সেটিই শিক্ষার সাফল্যের মূল মাপকাঠি হওয়া উচিত। এই দৃষ্টিভঙ্গিই প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হওয়া প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার গুলশানের লেকশোর হোটেলে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন। ‘নাগরিক প্ল্যাটফর্ম সংলাপ : সরকার কতখানি এগোলো? প্রাথমিক শিক্ষার ওপর আলোকপাত’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করেছিল এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ। এই অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ, নীতি নির্ধারক এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
ববি হাজ্জাজ তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়ন, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিভিন্ন প্রকল্পভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন যে, এসব উদ্যোগের নিজস্ব একটি প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে, এখন শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক বিন্যাসকে আরও কার্যকরভাবে ঢেলে সাজানোর ওপর জোর দেওয়া দরকার। এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া অবশ্যই শিক্ষার্থীদের শেখার ফলাফলকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হওয়া উচিত বলে তিনি দৃঢ়ভাবে মন্তব্য করেন।
তিনি পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করেন যে, বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ একটি নির্দিষ্ট ধরনের প্রকৌশলগত কাজ এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও তাদের মধ্যে জ্ঞান সঞ্চালনের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি শিক্ষাগত প্রক্রিয়া। এই দুটি মৌলিক বিষয়কে কোনোভাবেই এক করে দেখার সুযোগ নেই বা এক পাল্লায় মাপা উচিত নয়। শিক্ষার্থীদের জন্য কাঙ্ক্ষিত শেখার ফলাফল নিশ্চিত করাই শিক্ষাব্যবস্থার প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া জরুরি এবং এই লক্ষ্য অর্জনে সব প্রচেষ্টা নিবদ্ধ করা প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া, তাদের পেশাগত কর্মজীবনের ধারাবাহিক উন্নয়ন, সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন পদ্ধতি, উন্নত মানের প্রশিক্ষণ এবং সামগ্রিক পেশাগত উন্নয়নসহ সব বিষয়কে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। শিক্ষক নিয়োগের পদ্ধতি থেকে শুরু করে তাদের কর্মজীবনের গতিপথ কেমন হবে, কীভাবে তাদের কর্মক্ষমতার মূল্যায়ন করা হবে এবং কোন পদ্ধতিতে কার্যকর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে, এসব গুরুত্বপূর্ণ দিক বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক উপায়ে সুবিন্যস্ত করা হচ্ছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সূচি নির্ধারণ, বিদ্যালয়ে এক শিফট চালু করার সম্ভাব্যতা যাচাই এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর শিখনসময় নিশ্চিত করার বিষয়ে নতুনভাবে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে ববি হাজ্জাজ উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, কারিকুলাম প্রণয়নের ক্ষেত্রে শিশু মনোবিজ্ঞানী এবং প্রারম্ভিক শিক্ষার বিশেষজ্ঞদের আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শিশুদের মানসিক বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তাদের শেখার আগ্রহ ধরে রাখতে সক্ষম একটি শিক্ষাক্রম তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।


মতামত (0)