প্রধানমন্ত্রী: লংমার্চে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধান সম্ভব নয়
সম্পাদক১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · 2 ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী: লংমার্চে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধান সম্ভব নয়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, গাড়ির লংমার্চ করে গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করা গেলে তার সরকারই সবার আগে লংমার্চের আয়োজন করত। তিনি জানান, সরকার এই সংকট সমাধানে বিরোধী দলের সহায়তা আশা করেছিল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, গাড়ির লংমার্চ করে গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করা গেলে তার সরকারই সবার আগে লংমার্চের আয়োজন করত। বিরোধী দলের লংমার্চের প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সরকার এই সংকট সমাধানে তাদের সহায়তা আশা করেছিল। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া এসব সমস্যাকে অজুহাত হিসেবে না দেখিয়ে সমাধানে কাজ করছে সরকার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা এসব কথা বলেন। গত ২৭ আগস্ট এই অধিবেশন শুরু হয়েছিল এবং আজ বৃহস্পতিবার তিনি সমাপনী বক্তব্য দেন। তিনি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, সরকারের উদ্যোগ, বিভিন্ন খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি এবং সরকারি ও বিরোধী দলের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন।
সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় গ্যাস-বিদ্যুৎ, শিল্পকারখানা, শিক্ষাব্যবস্থা ও ব্যাংক খাতসহ প্রতিটি খাতে অনিয়ম-দুর্নীতির পাহাড় ছিল বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। এসব বিষয়ে দেশের জনগণ ওয়াকিবহাল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, এর নামে কিছু মানুষকে সুবিধা দিয়ে রাষ্ট্রকে ঋণগ্রস্ত করা হয়েছে।
বিগত সরকার বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে পারেনি বলেও তিনি মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা দেখলাম, একটি বিশাল গাড়ির লংমার্চ আয়োজন করা হয়েছিল।" তিনি আরও যোগ করেন, বাইরে বিভিন্ন মানুষ একটি কথা বলে যে, জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে অন্য কিছু করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল কি না।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ২০২২ সালে তৎকালীন সরকারের নেওয়া কিছু উদ্যোগের প্রসঙ্গও তিনি তুলে ধরেন। যারা ২০০৯ সাল থেকে বছরের পর বছর ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিল, মানুষের কথা বলা ও ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তাদেরও বিদ্যুৎ সমস্যা মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনো চলছে।
এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশে একটি এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনা ঘটেছে। এরপরও সরকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। বাস্তব পরিস্থিতি জনগণের সামনে তুলে ধরা সব সংসদ সদস্যের দায়িত্ব বলেও সংসদ নেতা উল্লেখ করেন।
এই অধিবেশনেই বিদ্যুৎ সমস্যা মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলেও তিনি জানান। ইতিমধ্যে সরকার অনেকগুলো ব্যবস্থা নিয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করতে পারবে বলে সরকার দৃঢ়ভাবে আশাবাদী। তারেক রহমান বলেন, বিএনপি যতবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, প্রতিবার দেশকে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছে।
এ সময় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিভিন্ন অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। সংসদ নেতা দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনে বিগত সরকারের উদ্যোগের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের ডানে এবং বামে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলো সমুদ্র থেকে গ্যাস আহরণ করছে।"
কোনো এক অদৃশ্য ইশারায় মধ্যখানে বাংলাদেশের অংশে বঙ্গোপসাগর থেকে গ্যাস উত্তোলনের কোনো চেষ্টা করা হয়নি বলে তারেক রহমান উল্লেখ করেন। অনেকে বলে থাকে, বিশেষ কোনো দেশ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তারা যাতে নির্বিঘ্নে গ্যাস নিয়ে যেতে পারে, সেই জন্যই বাংলাদেশের অংশে বঙ্গোপসাগরে গ্যাসকূপ খনন করা হয়নি। মধ্যপ্রাচ্য ছিল বাংলাদেশের গ্যাস আমদানির প্রধান উৎস, দেশকে পুরোপুরি আমদানিনির্ভর করে ফেলা হয়েছিল বলে তিনি জানান।
বর্তমান সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের ১০-১২ দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হয়। এতে ওই অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাস আমদানিতে সমস্যা দেখা দেয়। এর মধ্যে দেশে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিটের (এফএসআরইউ) একটিতে দুর্ঘটনা ঘটে। সেটি বিকল হয়ে যাওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে বলে তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট অপশক্তি ২০০১ সালের জুনে বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে জুলাই মাসে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়েছিল। তাঁর দাবি, বিএনপি সরকার ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশকে দুর্নীতির কলঙ্ক থেকে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছিল।
মতামত (0)