প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘গুপ্ত’ বিষয়ক মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি ছিনতাইকারীদের উদাহরণ দিয়ে ‘গুপ্ত’ কারা, তা ব্যাখ্যা করেন।
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘গুপ্ত’ বিষয়ক বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের লালদীঘির ময়দানে ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে তিনি এই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন। তার বক্তব্যে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম উল্লেখ করেননি।
সমাবেশে জামায়াতের আমির বলেন, "সরকারি দলের লোকেরা এখন সন্ত্রাসে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। চুরি-ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "চার দিন আগে আপনারা দেখেছেন, ঢাকা বিমানবন্দরে একজন প্রবাসীর স্বর্ণ নিয়ে গেছে ছিনতাইকারীরা।"
শফিকুর রহমান বলেন, "যখন ছিনতাই করে তখন বলে, আমরা আওয়ামী লীগের লোক। ধরা পড়ার পরে দেখা যায়, সবগুলা বিএনপির লোক। একেই বলে গুপ্ত।" তিনি যোগ করেন, "যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করে, দুর্নীতি করে, সেই হচ্ছে সবচেয়ে বড় গুপ্ত।" এই সমাবেশটি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাপনী অনুষ্ঠান ছিল।
এর আগে গতকাল শনিবার বিকেলে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানেই তিনি ‘গুপ্ত’ প্রসঙ্গটি প্রথম তোলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রশ্ন তোলেন, বিগত স্বৈরাচারের সময় যারা ‘গুপ্ত’ অবস্থায় লুকিয়ে ছিল, এখন তাদের মধ্য থেকে স্বৈরাচারীরা দেশে অরাজকতা উসকে দিচ্ছে কি না। তিনি সতর্ক করেন, বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কেউ অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তারেক রহমান একটি বিরোধী রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের সময় দলটি ‘গুপ্ত বেশ’ ধারণ করেছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরে তাদের নিজেদের লোকজনই বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর পেছনে কারা রয়েছে, তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। তিনি আরও প্রশ্ন করেন, স্বৈরাচারের সময়ে যে গুপ্তরা স্বৈরাচারের আড়ালে লুকিয়ে ছিল, এখন কি সেই গুপ্তদের ভেতর স্বৈরাচার লুকিয়ে থেকে এই অরাজকতা উসকে দিতে চাইছে?
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, দেশের চলমান বিভিন্ন সংকটকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, স্বৈরাচারের সময়ে ‘গুপ্ত’ অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের কেউ এখনো স্বৈরাচারকে আড়াল করে অস্থিতিশীলতা উসকে দিচ্ছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। তিনি জাতীয়তাবাদী শক্তির সকল নেতাকর্মীকে জনগণের কাছে কে কাকে মুক্ত করার দায়িত্ব নিচ্ছে, তা উন্মুক্ত করে দেওয়ার আহ্বান জানান।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে কোনো দলের নাম উল্লেখ করেননি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, তিনি জামায়াতে ইসলামীর দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।
মতামত (0)