পূজায় ভারতের ইলিশ প্রাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা

পূজায় ভারতের ইলিশ প্রাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা
পূজায় ভারতের ইলিশ প্রাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা
দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতের জন্য বাংলাদেশের ইলিশ রপ্তানি সাত বছর পর অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সরকারের তরফে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত মেলেনি, এবং কর্মকর্তারা মনে করছেন এবার ইলিশ রপ্তানি সম্ভব নাও হতে পারে।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবার ভারতের জন্য বাংলাদেশের ইলিশ রপ্তানি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সাত বছর পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শনিবার মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে।

বুধবার মধ্যরাত থেকে ইলিশ মাছ ধরা, কেনা-বেচা, পরিবহন, মজুদ ও বাজারজাতকরণের ওপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এর মধ্যেই ভারতের ইলিশ আমদানির বিষয়ে সরকারের তরফে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তিনি এ সম্পর্কে সর্বশেষ পরিস্থিতি অবগত নন এবং অফিসে খোঁজ নিয়ে জানাতে পারবেন।

ভারতের ব্যবসায়ীরা গত আগস্ট মাসে ইলিশ আমদানির জন্য বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি পাঠায়। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ৯ সেপ্টেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছে মতামত চেয়ে চিঠি দেয়। এই চিঠিতে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এবং এ বছর ইলিশ মাছের উৎপাদন পর্যালোচনা করে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতির বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছিল।

এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এখনো কোনো মতামত পাওয়া যায়নি। ফলে একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, এবছর পূজার আগে ভারতে ইলিশ মাছ রপ্তানি সম্ভব হবে না। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতামত ছাড়া ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন বা নাকচ করার সুযোগ নেই। একজন কর্মকর্তা বলেছেন, যদি ইতিবাচক মতামত মেলে, তবে অনুমোদনের প্রক্রিয়ার জন্য সাধারণত দুই থেকে তিন দিন সময় লাগে। এরপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে অনুমোদনের জন্য অন্তত এক দিন সময় লাগে।

এরপর রপ্তানির প্রক্রিয়া শুরু হতে আরও প্রায় ১০ দিন সময় লাগে, যা পূজার আগে সম্পন্ন করা কঠিন হতে পারে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ও কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে মা ইলিশ রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বরিশাল, চাঁদপুর ও ভোলাসহ ইলিশের প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোতে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

২০১৯ সাল থেকে প্রতিবছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ইলিশ রপ্তানি করে আসছিল বাংলাদেশ। সাত বছর পর এবারই প্রথম এই রপ্তানি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এই রপ্তানি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও আসামে বাংলাদেশের ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সেখানকার মানুষ চড়া দামে হলেও পদ্মার ইলিশ কেনার জন্য আগ্রহী থাকেন। মাছ ব্যবসায়ীদেরও পদ্মার ইলিশ বিক্রি নিয়ে আগ্রহ দেখা যায়।

২০২৪ সালের গণআন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তবে ওই সময়ও ভারতে ইলিশ পাঠানো বন্ধ হয়নি। তৎকালীন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার তখন বলেছিলেন, ভারতের ‘বিশেষ অনুরোধে’ সেখানে ইলিশ পাঠানো হচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের নির্বাচনে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নের জন্য বিভিন্ন ফোরামে চেষ্টা চলছে। এর মধ্যেই পূজার সময়ে ভারতে ইলিশ রপ্তানি নিয়ে নতুন করে সংশয় দেখা দিল।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...