রাবি লাইব্রেরিতে হামলা: জ্ঞানচর্চার পরিবেশ ধ্বংসের অপচেষ্টা, ছাত্রদলের তীব্র নিন্দা

রাবি লাইব্রেরিতে হামলা: জ্ঞানচর্চার পরিবেশ ধ্বংসের অপচেষ্টা, ছাত্রদলের তীব্র নিন্দা
রাবি লাইব্রেরিতে হামলা: জ্ঞানচর্চার পরিবেশ ধ্বংসের অপচেষ্টা, ছাত্রদলের তীব্র নিন্দা
জ্ঞানচর্চার পরিবেশ নষ্ট করতেই লাইব্রেরিতে হামলা করেছে শিবির: রাবি ছাত্রদল সভাপতি শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম আইসিটি এন্ড ক্যারিয়ার ৩০ জুলাই ২০২৬, ১২:০১ এএম | আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৬, ১২:০১ এএম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেছেন, লাইব্রেরির মতো একটি নিরাপদ স্থান,

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জ্ঞানচর্চার মূল কেন্দ্র, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে সংঘটিত হামলাকে জ্ঞানচর্চার পরিবেশ নষ্ট করার সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, জঙ্গি ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়ে তাদের আহত করেছে, যেখানে তারা ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ দল তৈরি করেছিল। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল এসব শিক্ষার্থীদের হত্যা করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পড়াশোনার পরিবেশ বিঘ্নিত করা।

বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে সুলতান আহমেদ রাহী এই মন্তব্য করেন। এই মানববন্ধনটি প্রেম ঘটিত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও রাকসুর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে লাইব্রেরিতে হামলার প্রতিবাদ এবং দোষীদের বিচারের দাবিতে আয়োজন করা হয়েছিল। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান যে, এই ধরনের কার্যকলাপ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি বড় হুমকি।

সুলতান আহমেদ রাহী তার বক্তব্যে আরও বলেন, ১৯৭১ সালে যারা আমাদের মা-বোনদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছিল এবং ধর্মের বিভাজনের নামে হিন্দু-মুসলিমদের হত্যা করেছিল, সেই রাজাকারদের আদর্শের অনুসারীরাই আবারও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি অতীতের কিছু ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, ডাকসুর একজন তথাকথিত শিবিরপন্থী ছাত্রনেতা তৃতীয় লিঙ্গের এক হিজড়ার সাথে ধরা পড়েছিলেন এবং শিবিরের সন্ত্রাসীরা রাকসু ভবনে সাংবাদিকদের হুমকি দিয়েছে। এই ঘটনাগুলো তাদের অপতৎপরতার ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে।

তিনি সাংবাদিকদের প্রতি বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা সাংবাদিকদের হুমকি দিচ্ছে, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। অতীতে ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর মতো সংবাদমাধ্যমের ওপর যেভাবে জঙ্গিরা হামলা চালানোর ষড়যন্ত্র করেছিল, একইভাবে তারা আবারও এমন অপচেষ্টা করতে পারে। তাই সাংবাদিক ভাইদের যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের আশ্রয় নিতে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলেন তিনি, যেখানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তাদের পাশে থাকবে।

রাহী আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের বাকস্বাধীনতা ও কর্মপরিসর আরও শক্তিশালী হয়েছে। এই শক্তিশালী অবস্থানে যদি কোনো শিবিরের জঙ্গিরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সাংবাদিকদের পাশে থেকে সেই অপচেষ্টা মোকাবিলা করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, মুক্ত গণমাধ্যম এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা একটি সুস্থ সমাজের জন্য অপরিহার্য।

মানববন্ধনে ইংরেজি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবির হাসান হিমেল অভিযোগ করেন, রাকসু ভবনের ভিপি ও জিএস-এর চেম্বারে নিয়মিত সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানো হয়। সেখানে বোমা তৈরি করা হয়, অস্ত্রের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং শিক্ষার্থীদের রগ কাটার মতো ভয়ংকর ঘটনা ঘটে। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও কেন রাকসু ভবনে কোনো সিসি ক্যামেরা নেই, যা এই ধরনের গোপন ও অবৈধ কার্যক্রমের ইঙ্গিত দেয়।

এ সময় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিঠু বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সম্পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, যাকে এক বুক ভরা আশা নিয়ে জিএস পদে নির্বাচিত করা হয়েছিল এবং যার হাতে কলম থাকার কথা ছিল, সেই ব্যক্তি পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কাছ থেকে বেলচা নিয়ে এসে মানুষকে লাঞ্ছিত ও আহত করার কাজে ব্যবহার করেছেন। পাশাপাশি, ভিপি সাহেব সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

মিঠু আরও বলেন, এই ঘটনার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে, ঠিক যেমনটি ঘটেছিল ১৯৭১ সালে। যে সংগঠনটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করতে চায়নি এবং দেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল, আজ যেন তারই পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই ষড়যন্ত্র পাকিস্তানি ক্যান্টনমেন্ট থেকে পরিচালিত হতে পারে। লাইব্রেরিতে ঢুকে যে ঘটনা তারা ঘটিয়েছে, তার সুষ্ঠু বিচার ও যথাযথ শাস্তি তিনি দাবি করেন।

এই হামলার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং জ্ঞানচর্চার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক আঘাত এবং মানসিক চাপ তাদের শিক্ষাজীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া, সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার ঘটনা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, যা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য শুভকর নয়।

ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সকলের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা জরুরি। যদি এসব সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ আরও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই ঘটনা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী শক্তির পুনরুত্থান এবং তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে তুলনা করা হচ্ছে। ডাকসুর এক তথাকথিত শিবিরপন্থী ছাত্রনেতার ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারির ঘটনা এবং ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর ওপর অতীতে জঙ্গিদের হামলার ষড়যন্ত্রের সাথে বর্তমান হুমকির তুলনা করা হয়েছে। রাকসু ভবনে সিসি ক্যামেরা না থাকার বিষয়টিকে অন্যান্য বিভাগের সিসি ক্যামেরা থাকার সাথে তুলনা করে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যা রাকসু ভবনের কার্যক্রম নিয়ে গুরুতর সন্দেহ তৈরি করেছে।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব হলো দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করা এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রে সহিংসতা এবং অস্থিতিশীলতা রোধ করা অপরিহার্য। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং একটি সুষ্ঠু পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করা সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব। অতীতের অপশক্তির পুনরাবৃত্তি রোধে সবাইকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং যেকোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...