রাজাপুর মডেল মসজিদে সাতদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই, ভোগান্তিতে মুসল্লিরা

রাজাপুর মডেল মসজিদে সাতদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই, ভোগান্তিতে মুসল্লিরা
রাজাপুর মডেল মসজিদে সাতদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই, ভোগান্তিতে মুসল্লিরা
ঝালকাঠির রাজাপুর মডেল মসজিদে টানা সাতদিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় তীব্র গরমে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন মুসল্লিরা। অজুর পানির সংকটেও ভোগান্তি বেড়েছে।

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে টানা সাতদিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় মুসল্লিরা তীব্র গরমে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। মসজিদের বৈদ্যুতিক পাখা, আলো, মাইক ও এসিসহ বিভিন্ন অত্যাবশ্যকীয় সরঞ্জাম অচল হয়ে আছে।

বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় মসজিদের পানির পাম্পও বন্ধ রয়েছে। এর ফলে ওজু করার পানির ব্যবস্থায় গুরুতর ব্যাঘাত ঘটছে, যা নামাজ আদায়ে আসা নারী-পুরুষ উভয় মুসল্লিদের জন্য দৈনন্দিন কার্যক্রমে বড় ধরনের ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে। এই মসজিদে প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন শতাধিক মুসল্লি এবং শুক্রবার জুমার নামাজে ছয় থেকে সাত শতাধিক মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন।

গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মসজিদের জেনারেটর কক্ষে হঠাৎ করে একটি বিকট শব্দ শোনা যায়। মসজিদের খাদেম মো. দেলোয়ার হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেন। পরে কক্ষের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, ব্রেকারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ মেঝেতে পড়ে আছে। এই ঘটনার পর থেকেই মসজিদের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে অচল হয়ে পড়েছে।

মসজিদের খাদেম মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় বর্তমানে মুসল্লিদের জন্য ওজু করার ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। এমনকি মসজিদের স্টাফদেরও তাদের প্রয়োজনীয় কাজের জন্য বাইরে থেকে বালতিতে করে পুকুরের পানি এনে ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা তাদের দৈনন্দিন কাজে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি আলি হোসেন জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় মসজিদের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে তীব্র গরমের কারণে মুসল্লিদের নামাজ আদায় করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। ওজুর পানি না থাকায় নামাজের সময় মুসল্লিদের মসজিদের বাইরে গিয়ে অজু করে আসতে হচ্ছে। তিনি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হলে মুসল্লিদের দুর্ভোগ কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

মুসল্লি মো. সরোয়ার হোসেন তালুকদার তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, মসজিদে ওজুর ব্যবস্থা নেই, এটা অনেক সময় খেয়াল থাকে না। নামাজের সময় দ্রুত জামাত ধরতে মসজিদে ওজু করতে এসে পানি না পেয়ে আবার বাইরে গিয়ে অজু করে আসতে হয়। এতে অনেক সময় জামাত চলে যায় এবং তাকে একা নামাজ আদায় করতে হয়। তিনি দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার গণপূর্ত বিভাগের একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মসজিদটির বৈদ্যুতিক সমস্যা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। মসজিদটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে গণপূর্ত বিভাগ থেকে হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে মসজিদের অভ্যন্তরের বৈদ্যুতিক সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাজাপুর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আতাউর রহমান বলেন, বিদ্যুতের খুঁটি থেকে মিটার হয়ে মেইন সুইচ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদের। ওই পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ সচল রয়েছে। মেইন সুইচের পরের ভেতরের অংশে কী হয়েছে, সেটি তাদের বিষয় এবং সেখানে হাত দেওয়া তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।

রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি নিশ্চিত করেছেন যে, গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এসে সমস্যা দেখে গেছেন। ভেতরের কিছু যন্ত্রাংশ পড়ে গেছে বলে তারা জানিয়েছেন এবং এটি ঠিক করতে কিছুটা সময় লাগবে বলেও তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

টানা সাতদিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় মুসল্লিদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে গত শুক্রবার জুমার নামাজে বিপুলসংখ্যক মুসল্লির সমাগম হওয়ায় ভোগান্তি আরও তীব্র আকার ধারণ করে। বিদ্যুৎ না থাকায় পাখা, আলো, মাইক ও এসি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। একইসাথে পানির পাম্প বন্ধ থাকায় ওজুর পানির তীব্র সংকটও তৈরি হয়েছে।

মুসল্লিরা অভিযোগ করেছেন, একটি মডেল মসজিদে যেখানে নিয়মিত বিপুলসংখ্যক মানুষ নামাজ আদায় করেন, সেখানে টানা সাতদিন ধরে বিদ্যুৎ ও ওজুর পানির মতো মৌলিক সুবিধা বন্ধ থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা দ্রুত বৈদ্যুতিক ত্রুটি মেরামত করে মসজিদের বিদ্যুৎ ও ওজুর পানির ব্যবস্থা সচল করার জোর দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান করবে—এমন প্রত্যাশা নিয়ে মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা অপেক্ষা করছেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...