রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি
সম্পাদক২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · 1 ঘণ্টা আগে
রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি
রাজনৈতিক দলগুলো জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং অবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। গতকাল সোমবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
রাজনৈতিক দলগুলো সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি এক লাফে ২০ টাকা বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। নেতারা সরকারের প্রতি অবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন। গতকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দেওয়া প্রতিক্রিয়া এবং পৃথক বিবৃতিতে দলগুলোর নেতারা এই মূল্যবৃদ্ধির তীব্র প্রতিবাদ জানান।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গতকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ডিজেলের দাম বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা লিটার করা হয়েছে। এর আগে ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা ও অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছে।
এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ দাম। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দাবি করেছে যে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর বাড়ায় আমদানি ব্যয়ও দ্রুত বেড়েছে। এতে লোকসানের কারণে জ্বালানির দাম বাড়াতে হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেছে।
দলগুলোর নেতারা বলেছেন, জ্বালানির এই দাম বৃদ্ধির ফলে গাড়ি ভাড়া তথা পণ্য পরিবহন ও যাতায়াত খরচ বাড়বে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণে বেড়ে গিয়ে তাদের দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ করে তুলবে।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, এমনিতেই গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত। দ্রব্যমূল্যে ঊর্ধ্বগতিতে জনসাধারণের নাভিশ্বাস উঠছে। সরকার এসব সমস্যার কোনো কার্যকর সমাধান করতে পারছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, মুক্তবাজারের নিষ্ঠুর কষাঘাতে পিষ্ট সাধারণ মানুষের ওপর রাষ্ট্র আবারও এক চরম জুলুমের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি এক লাফে ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে কৃষি ও গণপরিবহনের চালিকাশক্তি ডিজেলের দাম ১৭.৪ শতাংশ বেড়ে ১৩৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
বজলুর রশীদ ফিরোজ আরও উল্লেখ করেন, এটি সরাসরি সেচ ও উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে প্রান্তিক কৃষকদের খাদের কিনারায় ঠেলে দেবে। অন্যদিকে পেট্রোল ১৬০ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং গ্রামীণ মেহনতি মানুষের আলোর উৎস কেরোসিনের দাম ১৪.৮ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫৫ টাকা করায় তাদের জীবনে তীব্র সংকট সৃষ্টি হবে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, যখন মূল্যস্ফীতির তীব্র চাপে মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে, তখন বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ না করে দাম বৃদ্ধি ও জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে সরকারের তথাকথিত লোকসান কমানোর এই নীতি সরাসরি আমজনতার পকেট কাটার সামিল। জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি চাল, ডাল, সবজিসহ প্রতিটি মৌলিক পণ্যের দামের ওপর প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ প্রভাব ফেলবে।
তিনি আরও যোগ করেন, এটি সাধারণ শ্রমজীবী ও দরিদ্র মানুষের মুখের আহার কেড়ে নেবে। বর্তমান সরকার পাঁচ মাসে তিনবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে, যা সরকারের গণবিরোধী নীতির প্রকাশ। তিনি অবিলম্বে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির সংকট নিরসন এবং দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখার দাবি জানান।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুল হাসান মানিক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুর আহমদ বকুল পৃথক বিবৃতিতে ফের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকটময় পরিস্থিতিতে গৃহস্থালি, অফিস, কারখানা, কৃষি শিল্প, উৎপাদন পরিপূর্ণ হুমকির মুখে। ক্রমাগত মুদ্রাস্ফীতির কারণে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির লাগাম টানা যাচ্ছে না।
তারা আরও উল্লেখ করেন, সারাদেশে অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং মানুষ ক্রমাগত ক্রয়ক্ষমতা হারাচ্ছে। গরিবের সূচক মাত্রা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে পুনরায় তেলের মূল্যবৃদ্ধি- বাজার থেকে উৎপাদন পর্যন্ত সর্বত্র নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তারা মনে করেন।
বাসদের (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা বলেন, বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে মূল্যবৃদ্ধির চাপে পিষ্ট জনগণের কাঁধে আরও মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপিয়েছে।
মতামত (0)