গতকাল রোববার রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনের শেষ দিনে ইউক্রেন মস্কোসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে শত শত ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন এবং একটি তেল শোধনাগারে আগুন ধরে গেছে। এই হামলা এমন এক সময় হয়েছে যখন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নির্বাচনকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি জনগণের সমর্থনের পরীক্ষা হিসেবে তুলে ধরেছেন।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন নিশ্চিত করেছেন যে, তার রাজধানীর দিকে ধেয়ে আসা ৪৫০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, শত্রুপক্ষের ড্রোনের সবচেয়ে বড় হামলাটি প্রতিহত করা হয়েছে এবং এটি নির্বাচন পণ্ড করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। হামলায় ২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মস্কোর রাতের আকাশে বিস্ফোরণ ও একটি গুদামে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।
মস্কো অঞ্চলের পাশাপাশি ইউক্রেনের রাশিয়ানিয়ন্ত্রিত খেরসন অঞ্চলে এক নির্বাচন কর্মকর্তাসহ আরও দুজন নিহত হয়েছেন বলে মেয়র ও নির্বাচন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিশ্চিত করেছেন যে, কিয়েভ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ওই অঞ্চলের একটি রুশ তেল শোধনাগার এবং একটি লজিস্টিকস সাইটে আঘাত হেনেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এগুলো শত শত কোটি ডলারের সম্পদ যা রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রকে সক্রিয় রাখছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম স্টেট ডুমা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ক্রেমলিন এই নির্বাচনের ফলাফলকে পুতিনের নীতি এবং ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি জনগণের সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই যুদ্ধ বর্তমানে পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে এবং শিগগিরই শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।


মতামত (0)