রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি থেকে একচুলও পিছিয়ে যাবো না: ডা. শফিকুর রহমান

রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি থেকে একচুলও পিছিয়ে যাবো না: ডা. শফিকুর রহমান
রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি থেকে একচুলও পিছিয়ে যাবো না: ডা. শফিকুর রহমান
ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই যোদ্ধারা ক্ষমতার নয়, সিস্টেমের পরিবর্তন চেয়েছে এবং তারা রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি থেকে পিছিয়ে যাবেন না।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই যোদ্ধারা ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং সিস্টেমের পরিবর্তন চেয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের চেতনাই ছিল রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের একটি মিলনায়তনে জুলাই যোদ্ধাদের মতবিনিময় সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান জানান, জুলাই চেতনা থেকে সরে আসার জন্য যত আপসের প্রস্তাব এসেছে, জামায়াতে ইসলামী তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি বলেন, গণভোটের পক্ষে কথা বলে যারা আজ অস্বীকার করছেন, আমরা গণভোটের পক্ষে কথা বলে আজও স্বীকার করছি এবং ভবিষ্যতেও করবো। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি থেকে তারা একচুলও পিছিয়ে যাবেন না।

আমীরে জামায়াত আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করার এখনো সময় আছে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার ভুল থেকে বেরিয়ে আসতে। ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, ভুল ব্যক্তি, দল ও সরকার সবারই হতে পারে, কিন্তু ভুলের ওপর অটুট থাকা যাবে না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে নির্লজ্জভাবে দলীয়করণ চলছে। রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক সকল প্রতিষ্ঠানে সরকার দলীয় লোকজন নিয়োগ দিয়ে সেগুলোকে দলীয় প্রতিষ্ঠানে রূপ দিয়েছে। আমীরে জামায়াত সতর্ক করে বলেন, এই সরকার পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের পথে হাঁটলে একই পরিণতি ভোগ করবে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, শহীদের রক্ত কখনো বৃথা যায় না। তিনি বলেন, যে দেশে জালিম শাসক ও ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে শিশুরা পর্যন্ত জীবন উৎসর্গ করে দেয়, সেই দেশে শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে না। শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামী আপসহীন ভূমিকা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি জানান।

শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম এমপি শহীদ পরিবারের পক্ষে সংসদে গণহত্যার বিচারের দাবি তুলেছেন। তিনি ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরকে স্মারকলিপি দিয়েছেন এবং এক বছরের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার আশ্বাস পেয়েছেন। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালগুলোতে লোকবল ও বেঞ্চের অভাবে বিচার ধীরগতিতে চলছে।

গণহত্যার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে ট্রাইব্যুনালগুলোতে বেঞ্চ ও জনবল বৃদ্ধির দাবি জানান রোকেয়া বেগম এমপি। রাষ্ট্রচিন্তক দিলারা চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, বিএনপি যদি জুলাই চেতনা ধারণ করতে পারে, তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্থায়ী প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারবে। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে আপামর জনতার অংশগ্রহণে অর্জিত এক সফল বিপ্লব হিসেবে বর্ণনা করেন।

দিলারা চৌধুরী আরও বলেন, এই বিপ্লব কোনো দলের অর্জন নয়, জাতি অন্যায়ের বিরুদ্ধে জেহাদ করে জুলাই বিপ্লব অর্জন করেছে। তিনি দেশ রক্ষায় জুলাইকে ধারণ করাকে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। সরকার ও বিরোধীদলকে জুলাইকে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ জুলাইযোদ্ধা সংসদের সভাপতি ও আহত জুলাইযোদ্ধা নেছার উদ্দিন নাঈম বলেন, গুলীর যন্ত্রণা ও ব্যথার চেয়েও বেশি ব্যথা লাগে যখন সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে বলা হয়, নির্বাচনের জন্য সংস্কারের পক্ষে বিএনপি মত দিয়েছে। তিনি জানান, তারা চান সরকার সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করুক। তিনি সতর্ক করেন, সরকার যদি গণহত্যার বিচার ও রাষ্ট্র সংস্কার না করে, তবে যেখান থেকে দেশে এসেছেন আবারও সেখানে চলে যেতে হতে পারে।

দুই চোখ হারানো জুলাইযোদ্ধা মো. রাকিব বলেন, তারা বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করলেও নিজেরাই বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা না দিয়ে তাদের এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি। তিনি জুলাই শহীদ ও আহতদের রাষ্ট্রীয় খেতাবে ভূষিত করার দাবি জানান। তিনি বলেন, জুলাই মুছে দিতে যেই ষড়যন্ত্র চলছে, সেই ষড়যন্ত্র বন্ধে রাষ্ট্রকে জুলাইয়ের সঠিক ইতিহাস লিখতে ও সংরক্ষণ করতে হবে।

মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিরোধীদল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিকের যৌথ পরিচালনায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...