রেজা সেলিম আড়াই দশকের বেশি সময় ধরে 'উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি' ধারণায় কাজ করে আসছেন। তিনি বাংলাদেশে গ্রামে তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে যাওয়া এবং এ নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে চর্চা করার অন্যতম পুরোধা ব্যক্তি। ৪ সেপ্টেম্বর একটি সাক্ষাৎকারে তিনি গ্রামে তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার, ক্যানসার প্রতিরোধে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং জ্ঞানমেলা ইত্যাদি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি 'আমাদের গ্রাম উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি প্রকল্প' এবং 'আমাদের গ্রাম ক্যানসার রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক' হিসেবে তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
'আমাদের গ্রাম উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি প্রকল্প' বা আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট ২০০০-০১ সালের দিকে শুরু হয়। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের কাছে তথ্যপ্রযুক্তি প্রচার করা এবং সাধারণ মানুষকে এর সুবিধা দেওয়া। তখন অবকাঠামোগত চিন্তার পাশাপাশি কম্পিউটার কীভাবে সাশ্রয়ী উপায়ে মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়, তা নিয়ে কাজ করা হয়।
সেই সময় কম্পিউটার অনেক ব্যয়বহুল ছিল। ইন্টারনেট ছিল ডায়ালআপ পদ্ধতির মাধ্যমে। এসব খরচ কমানো এবং প্রযুক্তিকে সাশ্রয়ী রাখার উপায় নিয়েই উন্নয়নের চিন্তা করা হয়। ই-রেডিনেস ছিল মূল ফোকাস, কারণ তথ্যপ্রযুক্তির বিশাল সম্ভাবনা উপলব্ধি করা গিয়েছিল।
তখন একটি বিতর্ক ছিল যে, কম্পিউটারের সম্ভাবনা শুধু করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এটি সাধারণ মানুষের কাছেও পৌঁছাবে। ২০০০ সালে জাপানের ওকিনাওয়ায় জি-৮ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ডট ফোর্স (ডিজিটাল অপরচুনিটি টাস্কফোর্স) গঠিত হয়।
ওকিনাওয়া ঘোষণায় পৃথিবীর আটটি বড় ধনী দেশ তথ্যপ্রযুক্তির বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের প্রস্তাবে এবং জাপানের সমর্থনে সিদ্ধান্ত হয় যে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সম্ভাবনা উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা হবে। তখনো প্রযুক্তিবিদদের কাছেও এই ধারণা পরিষ্কার ছিল না।
এটি মানুষকেন্দ্রিক করার জন্য বিতর্ক শুরু হয়। ডট ফোর্সকে ২০০১ সালের জি-৮ সম্মেলনে (ইতালির রেনোয়া শহরে) একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। বিশ্বব্যাংকে ডট ফোর্সের সচিবালয় ছিল এবং কানাডা এর পৃষ্ঠপোষক ছিল।
জি-৮ এর কনসালটেশনে রেজা সেলিম যুক্ত ছিলেন। প্রথমে কানাডায় জিকে-১ (গ্লোবাল নলেজ) এবং পরে মালয়েশিয়ায় জিকে-২ বৈঠক হয়। সেই বৈঠক দুটি থেকে 'উন্নয়নের জন্য আইসিটি' ধারণার সুপারিশ করা হয়।

মতামত (0)