স্বর্ণের দাম কমল, ওষুধের মূল্য নির্ধারণে নতুন নীতি
সম্পাদক৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · 1 ঘণ্টা আগে
স্বর্ণের দাম কমল, ওষুধের মূল্য নির্ধারণে নতুন নীতি
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমানো হয়েছে। একইসাথে, ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণে উৎপাদন খরচ ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনার নতুন সরকারি নীতি ঘোষণা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্য কমিয়েছে। তেজাবি স্বর্ণের দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমানো হয়েছে। এতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম এখন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা।
ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ ও সংশোধনের ক্ষেত্রে সরকার নতুন নীতি গ্রহণ করেছে। উৎপাদন ও আমদানি খরচ, শুল্ক-কর, সরবরাহ চেইনের ব্যয় এবং দেশি-বিদেশি বাজার দর এক্ষেত্রে বিবেচনা করা হবে। এছাড়াও বিকল্প ওষুধের সহজলভ্যতা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গত সোমবার জাতীয় সংসদে এসব তথ্য জানান। সংসদ সদস্য নেওয়াজ হালিমা আরলীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই বিস্তারিত তুলে ধরেন। মন্ত্রী জানান, এই সংক্রান্ত গঠিত কমিটি ওষুধের প্রয়োজনীয়তা, রোগের প্রাদুর্ভাব এবং যৌক্তিক মুনাফাও খতিয়ে দেখবে।
সরকারি স্বাস্থ্য খরচের ওপর ওষুধের দামের প্রভাব এবং বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও বিবেচিত হবে। ওষুধ ও প্রসাধন আইন ২০২৩-এর ১২ ধারা অনুযায়ী গঠিত ১৫ সদস্যের ‘ওষুধ মূল্য নির্ধারণ কমিটি’ পুনর্গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে চারজন পর্যবেক্ষক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার তালিকায় থাকা ১১৭টি ওষুধের বিভিন্ন মাত্রার দাম সরকার বেঞ্চমার্ক হিসেবে নির্ধারণ করে দেয়। ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই বেঁধে দেওয়া মূল্যের মধ্যে নির্ধারিত ফরমে আবেদন জমা দিতে হয়। যাচাই-বাছাই শেষে কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ করে প্রাইজ সার্টিফিকেট ইস্যু করে।
প্রাথমিক তালিকার বাইরে থাকা অন্যান্য ওষুধের ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দেশক মূল্যের ভিত্তিতে নিজেরাই দাম নির্ধারণ করে থাকে। তবে মূল্যসংযোজন কর বা ভ্যাট সংক্রান্ত কাজের জন্য এসব ওষুধের ক্ষেত্রেও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নিকট আবেদন জানিয়ে মূল্য সনদ সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক।
স্বাস্থ্য খাতের নতুন এই শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ওষুধ বিক্রি করাকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। ওষুধ ও প্রসাধন আইন ২০২৩-এর ৩০(৪) ধারা অনুযায়ী এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অনধিক দুই লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ওষুধের বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মতামত (0)