সবুজবাগে প্রবাসী খুন, সাবেক প্রেমিকসহ দুজন গ্রেপ্তার

সবুজবাগে প্রবাসী খুন, সাবেক প্রেমিকসহ দুজন গ্রেপ্তার
সবুজবাগে প্রবাসী খুন, সাবেক প্রেমিকসহ দুজন গ্রেপ্তার
রাজধানীর সবুজবাগে কাতারপ্রবাসী সিফাত উল্লাহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার প্রেমিকার সাবেক প্রেমিকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। পূর্ব ক্ষোভের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

রাজধানীর সবুজবাগে কাতারপ্রবাসী সিফাত উল্লাহকে (২৭) ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আল আমিন হোসেন (২৭) ও মো. সাজিদুল ইসলাম সাজিদ (২৪)। গত সোমবার দিবাগত রাত দুইটা ও আজ মঙ্গলবার ভোর পাঁচটার দিকে খিলগাঁও থানার দুটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, সিফাত প্রায় দেড় মাস আগে কাতার থেকে দেশে ফিরেছিলেন। তার সঙ্গে এক তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অন্যদিকে, ওই তরুণীর সঙ্গে সাজিদের চার বছরের বেশি সময় ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

সাজিদ তরুণীর সঙ্গে সিফাতের সম্পর্কের বিষয়টি জানতেন না। গত ২৫ আগস্ট ওই তরুণীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে সাজিদ সিফাতের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা জানতে পারেন। এরপর তাদের প্রেমের সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটে বলে র‍্যাব জানিয়েছে।

অন্যদিকে, আল আমিন ওই তরুণীর সঙ্গে একই বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সূত্রে বন্ধুত্ব স্থাপন করেন। আল আমিন একই এলাকার বড় ভাই এবং এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তিনি মাঝেমধ্যে বন্ধুদের নিয়ে ওই তরুণীর বাসায় গিয়ে মাদক সেবন করতেন।

সিফাত তাদের ওই বাসায় আসতে নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে আল আমিন ও তার সহযোগীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল বলে র‍্যাব জানিয়েছে। গত রোববার বেলা তিনটার দিকে সিফাত মাদারটেকের বরইতলা এলাকায় ওই তরুণীর ভাড়া বাসায় তার সঙ্গে দেখা করতে যান।

সিফাতের সেখানে আসার খবর পেয়ে আল আমিনের সহযোগী ইয়াছিন, অনিক, তুহিন, রাজুসহ আরও কয়েকজন ওই বাসায় যান। আল আমিন তখন ভবনের নিচে অবস্থান করছিলেন। র‍্যাব জানায়, আল আমিনের সহযোগীরা বাসায় প্রবেশ করলে সিফাতের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

একপর্যায়ে ইয়াছিন ও রাজু আহত হন। এরপর সবাই নিচে নেমে আসেন। তাদের পেছনে সিফাতও নিচে নেমে মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় আল আমিনের সহযোগীরা তাকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়েন।

ইটের আঘাতে সিফাত মাটিতে পড়ে গেলে আল আমিন তার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এরপর সবাই মিলে তাকে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যান। সিফাতের মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করা হয়।

স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় সিফাতকে প্রথমে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিফাতের মৃত্যু হয়।

ঘটনার প্রায় ১১ ঘণ্টার মধ্যে গত সোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে খিলগাঁওয়ের হাজীবাড়ি বালুরপাড় এলাকা থেকে সাজিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ মঙ্গলবার ভোর পাঁচটার দিকে খিলগাঁওয়ের শেখের জায়গা বাজার এলাকা থেকে প্রধান আসামি আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...