শেখ হাসিনার মৃত্যু কিংবা কবর বাংলাদেশে হবে না: সারজিস আলম
সম্পাদক৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · 41 মিনিট আগে
শেখ হাসিনার মৃত্যু কিংবা কবর বাংলাদেশে হবে না: সারজিস আলম
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, শেখ হাসিনাকে আর কোনোদিন বাংলাদেশে ফিরতে দেওয়া হবে না এবং তার মৃত্যু বা কবর এদেশে হবে না।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, শেখ হাসিনাকে আর কোনোদিন বাংলাদেশে ফিরতে দেওয়া হবে না। তিনি মন্তব্য করেন, শেখ হাসিনার মৃত্যু কিংবা তার কবর কোনোটিই বাংলাদেশে হবে না। সারজিস আলম আরও উল্লেখ করেছেন যে, শেখ হাসিনা ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যার পর ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।
বরগুনা পৌরশহরের প্রেসক্লাব সংলগ্ন হোটেল বে-অব বেঙ্গলে এসব কথা বলেন তিনি। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এনসিপির জেলা শাখা আয়োজিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সারজিস আলম বর্তমান বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়া প্রসঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার ইতোমধ্যে ছয় মাস পার করেছে এবং এখন আর একে ‘মাত্র ক্ষমতায় এসেছে’ কিংবা ‘শিশু সরকার’ বলার সুযোগ নেই। তিনি প্রশ্ন করেন, পাঁচ বছরের মেয়াদের মধ্যে ছয় মাস পার হয়ে গেলেও যদি সরকারকে শিশু বলা হয়, তাহলে কখন তারা পরিপক্ব হবে।
তিনি আরও বলেন, এখন সরকারের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। এনসিপির এই নেতা জানান, বিএনপি যদি নিজেদের সমস্যাগুলো স্বীকার করে এবং একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে, তাহলে তাদের সহযোগিতা করার মানসিকতা এনসিপির সবসময় ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
তবে সমস্যার অস্তিত্বই যদি অস্বীকার করা হয়, তাহলে তা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। সারজিস আলম বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে—এ কথা বলার পরও যদি কোথাও চাঁদাবাজি হচ্ছে না বলে দাবি করা হয়, কিংবা প্রশাসনে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দলীয়করণের বিষয়টি স্বীকার না করা হয়, তাহলে সমস্যার সমাধান করা কঠিন।
সারাদেশে যারা শুধু কোনো দলের প্রতীকে ভোট দিয়েছেন কিংবা শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলেন, কিন্তু কোনো অপরাধে জড়িত নন, তারা চাইলে বিএনপি, জামায়াত বা এনসিপিসহ অন্য যেকোনো দলে যেতে পারেন। তবে অপরাধীদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে বলে তিনি জোর দেন।
বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অপরাধীদের বিষয়ে যেন কোনো ছাড় দেওয়া না হয়। ভোট কিংবা প্রার্থী জেতানোর স্বার্থে এখন কোনো ধরনের সমঝোতা করা হলে ভবিষ্যতে তা বিএনপির জন্যই হিতে বিপরীত হতে পারে। তবে এনসিপি তাদের শক্তিশালী হতে দেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, তারা আর ‘কথার ফুলঝুরি’ কিংবা শুধু বিভিন্ন বিষয়ের প্রেজেন্টেশন দেখতে চান না। সরকারের নেওয়া উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়েছে, তা দেখতে চান তারা। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবলয় অতিক্রম করে একজন ব্যক্তি তাকে সালাম দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা সবসময় নিশ্চিত রাখা প্রয়োজন।
দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থেই প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। দেশজুড়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের পরামর্শ দিতে বলেছিলেন। পরবর্তীতে এনসিপির সংসদ সদস্যরা লিখিতভাবে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংসদেও বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন।
তবে সরকারি দল শুধু লোক দেখানোর জন্য পরামর্শ চাইলে কোনো ফল আসবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, পরামর্শ নেওয়ার পর সেগুলো কাজে লাগাতে হবে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। সারজিস আলম বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকারের সদিচ্ছা থাকলে এনসিপি যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, গত ছয় মাসে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি মোকাবিলায় শুধু বক্তব্য নয়, কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। সরকার বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাইলে তারা সহযোগিতা করবেন। কিন্তু কে কীভাবে সুবিধা নেবে, কতটুকু অংশ পাবে কিংবা ভাগ-বাটোয়ারার চিন্তা প্রাধান্য পেলে বিরোধী দলকে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কর্মসূচিতে যেতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিত্ব আজমিরী হক বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনায় সারজিস আলম বলেন, স্বৈরাচারের সহযোগী ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের সহযোদ্ধা আজমিরী হক বাঁধন স্বৈরাচার ও হত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাকে যখন পতিত স্বৈরাচারের পক্ষের লোকজন হেনস্তা করেছেন, তখন ঐক্যবদ্ধভাবে এর প্রতিবাদ করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো দলীয় বিবৃতি বা ব্যবস্থা দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সারজিস আলম বলেন, বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের উচিত সংশ্লিষ্ট দেশের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা। একজন নারীকে এভাবে হেনস্তার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। হামলায় চোখ হারানো অলিফ প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, তাদের সহযোদ্ধা অলিফের একটি চোখ রড দিয়ে আঘাত করে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
মতামত (0)