শ্রমিকদের অধিকার ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতে ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়নের দাবি

শ্রমিকদের অধিকার ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতে ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়নের দাবি
শ্রমিকদের অধিকার ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতে ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়নের দাবি
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আতিকুর রহমান সুনামগঞ্জে এক সমাবেশে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অর্জনে শ্রমজীবী মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও দীর্ঘ ৫৫ বছরেও তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়ন অনিবার্য।

গত শনিবার (২২ আগস্ট) সুনামগঞ্জ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হলরুমে এক শ্রমিক দায়িত্বশীল সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সুনামগঞ্জ জেলা শাখা ‘শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়ন অনিবার্য’ স্লোগান নিয়ে এই সমাবেশের আয়োজন করে।

অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান তার বক্তব্যে শ্রমিকের মৌলিক অধিকারের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ, আট ঘণ্টা বিশ্রাম এবং আট ঘণ্টা বিনোদন শ্রমিকের মৌলিক অধিকার। তবে বাস্তবে দেশের অনেক শ্রমিককে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, কোথাও ওভারটাইম দেওয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে শ্রমিকরা তাদের প্রাপ্য ওভারটাইম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শ্রমিকের এসব অধিকার নিশ্চিত করা মালিকপক্ষের দায়িত্ব বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে চার সদস্যের একটি পরিবারের ন্যূনতম জীবনযাপনে মাসে ২৬-২৭ হাজার টাকা প্রয়োজন।

ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বোর্ড কর্তৃক ছয় হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মজুরিতে একজন শ্রমিক কীভাবে তার পরিবার চালাবেন, তা ভাবাও কঠিন। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও মালিকপক্ষ উভয়ের দায়িত্ব।

আতিকুর রহমান দেশের প্রতিটি গণআন্দোলন ও জাতীয় অর্জনে শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক জুলাই-আগস্টের আন্দোলনেও শ্রমিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তারা জীবন-জীবিকার ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে নেমেছেন।

তিনি কর্মক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত শ্রমিকের মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কৃষকসহ দেশের সব উৎপাদনশীল মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও তিনি জোর দেন। দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে কাজ করতে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন সরকার ক্ষমতায় এলেও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের ভাগ্যের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হয়নি।

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এর পাশাপাশি ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি মমতাজুল হাসান আবেদ সভাপতিত্ব করেন। জেলা সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান দুলালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসাইন বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। এ সময় ফেডারেশনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...