সিলেটে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, উচ্ছ্বাসে ভাসল হাজারো প্রাণ

সিলেটে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, উচ্ছ্বাসে ভাসল হাজারো প্রাণ
সিলেটে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, উচ্ছ্বাসে ভাসল হাজারো প্রাণ
আজ সিলেটে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হাজারো শিক্ষার্থী উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। প্রচণ্ড গরমেও তাদের আনন্দে কোনো ভাটা পড়েনি।

আজ শুক্রবার সিলেটে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এই বিশাল আয়োজন সম্পন্ন হয়। প্রচণ্ড গরমের মাঝেও হাজারো শিক্ষার্থীর উচ্ছ্বাসে একচুলও ছেদ পড়েনি। শিক্ষার্থীরা দিনভর আনন্দ উৎসবে মেতে ছিল।

সকাল ৯টার আগেই অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হতে শুরু করে কৃতী শিক্ষার্থীরা। কেউ তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আসে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পদচারণায় একসময় পুরো মিলনায়তন ভরে যায়। সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়।

‘স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো’ এই স্লোগানে সারাদেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। একটি জাতীয় দৈনিকের আয়োজনে এবং একটি ডিজিটাল শিক্ষা প্ল্যাটফর্মের পৃষ্ঠপোষকতায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আজকের সিলেট পর্ব ছিল এই ধারাবাহিক আয়োজনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সিলেটের কিশোরী মোহন উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ঋধি দে ও অর্চি সূত্রধর। তারা সংবর্ধনা নিতে এসে ফটো বুথে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিল। তাদের বাবা ছবি তুলে দিচ্ছিলেন, এবং প্রচণ্ড গরমে ঘামলেও তাদের মুখে ছিল আনন্দের ঝিলিক।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নানা বিষয়ে পরামর্শ দেন ও অনুপ্রেরণামূলক কথা বলেন শিক্ষক ও গুণীজনেরা। তারা কৃতী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পথচলায় দিকনির্দেশনা দেন। কুইজ প্রতিযোগিতাসহ নাচে-গানে দিনভর এক উৎসবমুখর পরিবেশে মেতে ছিল শিক্ষার্থীরা।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আলিমুল ইসলাম কৃতী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, জিপিএ-৫ পাওয়ার পরও হয়তো অনেকে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ নাও পেতে পারে। এতে কোনোভাবেই হতাশ হওয়ার কিছু নেই।

উপাচার্য আরও উল্লেখ করেন, সাধারণত চিকিৎসা, প্রকৌশল কিংবা কৃষি শিক্ষায় পড়লে চাকরির নিশ্চয়তা থাকবে এমনটা মনে করা হয়। কিন্তু এর বাইরে অন্যান্য বিষয়ে পড়েও বিসিএসসহ নানা পেশায় প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঝরে গিয়েও বিল গেটস বা মার্ক জাকারবার্গের মতো সফল উদ্যোক্তা হওয়া সম্ভব বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাদক, মিথ্যা ও মুখস্থকে ‘না’ বলতে শপথ পড়ানো হয়। একজন জ্যেষ্ঠ সংবাদকর্মী এই শপথ বাক্য পাঠ করান। শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে এই শপথ গ্রহণ করে।

কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ইউসুফ আহমেদ ও প্রজ্ঞা দে নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য দেয়। তারা তাদের এই অসাধারণ ফলাফল অর্জনে অভিভাবক, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রাণোচ্ছল ঘোরাঘুরিতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তৈরি হয় এক উৎসবের আমেজ। অনুষ্ঠানকে ঘিরে স্থাপন করা বিভিন্ন স্টলে ভিড় বাড়তে থাকে। কেউ কুইজে অংশ নিচ্ছিল, আবার কেউ একটি বিশেষ চরকি ঘুরিয়ে বিভিন্ন পুরস্কার জিতে নিচ্ছিল।

সাংস্কৃতিক পর্বে শিল্পী বাঁধন মোদক গান পরিবেশন করেন। তার মনোমুগ্ধকর গানের সঙ্গে শিক্ষার্থীরাও গলা মেলায়। এছাড়া একটি স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের সদস্যরাও গান পরিবেশন করে অনুষ্ঠানের আনন্দ আরও বাড়িয়ে তোলে।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠানে এসেছিল মহিউদ্দিন শারফ। সিলেটের দক্ষিণ সুরমার জাফরাবাদ উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। মহিউদ্দিন জানায়, তার বাবা ও মা দুজনেই শিক্ষক এবং সেও ভবিষ্যতে শিক্ষক হয়ে জাতি ও দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে চায়।

সিলেট স্কলার্স হোম শাহী ঈদগাহ শাখা থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ অর্জনকারী তাসনিমুল হক ও ফারহান আহমেদ খানও পুরস্কার জেতে। তারা জানায়, দুই বন্ধু সকালে একসঙ্গে অনুষ্ঠানে এসেছে এবং অন্য বন্ধুদের সঙ্গে তাদের দেখা হয়েছে ও গল্প হয়েছে। ভবিষ্যতে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়তে চায় বলে জানায়।

এই আয়োজনে বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা সহায়তা প্রদান করে। দিনব্যাপী এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান কৃতী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...