সখীপুরে মায়ের বিরুদ্ধে সন্তান হত্যা ও আহত করার অভিযোগ

সখীপুরে মায়ের বিরুদ্ধে সন্তান হত্যা ও আহত করার অভিযোগ
সখীপুরে মায়ের বিরুদ্ধে সন্তান হত্যা ও আহত করার অভিযোগ
সখীপুরে মায়ের বিরুদ্ধে তিন বছর বয়সী ছেলেকে ছুরিকাঘাতে হত্যা এবং সাত বছর বয়সী সৎমেয়েকে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রাতে এ ঘটনা ঘটে।

সখীপুর উপজেলার বড়চওনা ইউনিয়নের মুজিবনগর মোড় এলাকায় ছুরিকাঘাতে তিন বছর চার মাস বয়সী শিশু মো. আশরাফুল ইসলাম নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় আশরাফুলের মা আকলিমা বেগমের (৩২) বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। একই হামলায় আশরাফুলের সাত বছর বয়সী সৎবোন সিদরাতুল মুনতাহাও গুরুতর আহত হয়েছে।

গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত মুনতাহাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ আকলিমা বেগমকে আটক করেছে।

নিহত আশরাফুলের বাবা শাহীন মিয়া (৫০) বলেন, "ওই ঘরেই আলাদা কক্ষে আমার বৃদ্ধ মা শুয়েছিল। বাচ্চাদের কান্না শুনে আমার মা ঘুম থেকে জেগে ঘরের দরজা খুলে দেন। গিয়ে দেখি দুই সন্তানকেই কুপিয়েছে আকলিমা। আকলিমা কীভাবে এটা পারল? নিজের সন্তানকে কি কেউ মেরে ফেলতে পারে?" কথাগুলো বলতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

শাহীন মিয়া আজ বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে জানান, গতকাল রাত ১০টার দিকে তিনি বাড়িতে আসেন। আশরাফুলের ঠান্ডা-কাশি ছিল এবং শ্বাস নিতে পারছিল না। পরে তিনি তাকে গ্যাস দেন। আনুমানিক রাত সাড়ে ১১টার দিকে আশরাফুলের মা আকলিমা তাকে নিয়ে আলাদা ঘরে ঘুমাতে যান।

শাহীন মিয়া আরও জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ছেলে ও মেয়ের কান্না শোনা যায়। তার বৃদ্ধ মা বাচ্চাদের কান্না শুনে ঘুম থেকে জেগে ঘরের দরজা খুলে আকলিমাকে দুই সন্তানকে কোপাতে দেখেন। এরপর বাড়ির লোকজন ওই ঘরে গিয়ে আকলিমাকে আটক করে বাড়ির উঠানে বেঁধে রাখে। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয় এবং পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয় লোকজন আহত দুই শিশুকে প্রথমে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশরাফুলকে মৃত ঘোষণা করেন। সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহিনুর রহমান জানান, দুই সন্তানকে ছুরি দিয়ে আঘাত করার পর আকলিমা নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তার বাঁ হাতে ছুরির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে শাহীন মিয়া নাসিমা আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের কোনো সন্তান না হওয়ায় নাসিমার সম্মতিতে প্রায় পাঁচ বছর আগে আকলিমাকে বিয়ে করেন শাহীন। আকলিমার আগের ঘরের মেয়ে সিদরাতুল মুনতাহাকেও তিনি নিজের সংসারে নিয়ে আসেন। বিয়ের প্রায় এক বছর পর আকলিমার ঘরে আশরাফুলের জন্ম হয়।

আশরাফুলের বয়স যখন প্রায় এক বছর, তখন আকলিমা ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। চাকরির কারণে তিনি মুনতাহা ও আশরাফুলকে বাড়িতে রেখে যান। দুই সন্তান বড় মা নাসিমার কাছেই বড় হতে থাকে। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, আশরাফুল নাসিমাকে ‘মা’ বলে ডাকত।

তিন দিন আগে, সোমবার, আকলিমা পোশাক কারখানা থেকে সাত দিনের ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসেন। গতকাল রাতে আশরাফুল বড় মায়ের সঙ্গে থাকতে চাইলে নাসিমা ও আকলিমার মধ্যে এ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে আশরাফুল আকলিমার ঘরেই ছিল। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘুম থেকে উঠে সে বড় মায়ের ঘরে যেতে চায়। এ সময় আকলিমা ক্ষিপ্ত হয়ে আশরাফুল ও মুনতাহাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করতে থাকেন বলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য।

সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজহারুল ইসলাম জানান, নিহত আশরাফুলের বাবা শাহীন মিয়া এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...