স্মার্ট টিভিতে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ নিয়ে উদ্বেগ
সম্পাদক১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · 3 ঘণ্টা আগে
স্মার্ট টিভিতে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ নিয়ে উদ্বেগ
এলজির স্মার্ট টিভি ব্যবহারকারীর কথাবার্তা ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে সার্ভারে পাঠাতে পারে বলে এক তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, এমনকি স্ট্যান্ডবাই মোডেও।
দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের স্মার্ট টিভি নিয়ে সাম্প্রতিক এক তদন্তে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, এই স্মার্ট টিভিগুলো ঘরের কথাবার্তা রেকর্ড করতে পারে এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে এসব তথ্য প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে পাঠাতে পারে। এমনকি টিভি ‘স্ট্যান্ডবাই মোডে’ থাকা অবস্থাতেও এমনটি ঘটতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
ইউটিউব চ্যানেল গেমার্স নেক্সাস ও লেভেল ১ টেকস দুজন নিরাপত্তা বিশ্লেষকের সহায়তায় এই তদন্ত পরিচালনা করে। তদন্তকারীদের মতে, স্মার্ট টিভিগুলো ব্যবহারকারীর দেখা কনটেন্টের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি একই নেটওয়ার্কে যুক্ত অন্যান্য যন্ত্র এবং আশপাশের ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করে। টিভির মাইক্রোফোনের মাধ্যমে ধারণ করা অডিও তথ্যও সংগ্রহ করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানান, এসব তথ্য লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের কাজে ব্যবহার করা হয়। গেমার্স নেক্সাসের প্রধান স্টিভ বার্ক উল্লেখ করেন, একটি টেলিভিশনকে এ ধরনের তথ্য সংগ্রহের ক্ষমতা দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তিনি এই ধরনের তথ্য সংগ্রহকে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তার জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে বর্ণনা করেন।
এলজি টিভির তথ্য সংগ্রহের অন্যতম প্রধান প্রযুক্তি হিসেবে অটোমেটিক কনটেন্ট রিকগনিশন (এসিআর) চিহ্নিত করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে টিভি অডিও ও ভিডিওর ছোট অংশ সংগ্রহ করে বিভিন্ন কনটেন্টের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। এর ফলে টিভির পর্দায় কী দেখা হচ্ছে বা স্পিকারে কী শোনা হচ্ছে, তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
এসিআর প্রযুক্তির সাহায্যে ব্যবহারকারীর টেলিভিশন দেখার ও অডিও শোনার অভ্যাস সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা যায়। পরে সংগৃহীত এসব তথ্য ব্যবহার করে বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যবহারকারীর আগ্রহ ও আচরণের ভিত্তিতে প্রোফাইল তৈরি করা হতে পারে বলে তদন্তে দাবি করা হয়েছে। বিভিন্ন নির্মাতার স্মার্ট টিভিতে এসিআর প্রযুক্তি ব্যবহার করে দর্শকের দেখার অভ্যাস সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
তবে এলজি টিভির ভয়েস রিকগনিশন ব্যবস্থা নিয়ে গেমার্স নেক্সাসের তদন্তে কিছু ভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, টিভি কোনো ভয়েস কমান্ড শনাক্ত করার পরেও ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড পর্যন্ত ‘ট্রিগার উইন্ডো’ সক্রিয় থাকে। এই সময় ঘরে বলা কথাবার্তা টিভি রেকর্ড করতে পারে।
রেকর্ড করা কথাগুলো লিখিত রূপে রূপান্তর করে টিভির মেমোরিতে সংরক্ষণ করা হতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে। তাদের আরও দাবি, টিভি ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন থাকলেও অডিও তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। এ সময় সংগৃহীত তথ্য টিভিতে সংরক্ষিত থাকার পর আবার ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হলে সার্ভারে পাঠানো হতে পারে।
তদন্তকারীদের দাবি, এলজি টিভির তথ্য সংগ্রহ শুধু টেলিভিশনে দেখা কনটেন্ট বা ঘরের কথাবার্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। একই ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে যুক্ত অন্যান্য যন্ত্র সম্পর্কেও টিভি তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। টিভি ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক স্ক্যান করে স্মার্টফোন, স্মার্টওয়াচসহ বিভিন্ন যন্ত্র শনাক্ত করতে পারে বলে তদন্তে বলা হয়েছে।
এভাবে একটি পরিবারের কোন কোন যন্ত্র রয়েছে, সেগুলো কীভাবে নেটওয়ার্কে যুক্ত আছে এবং পরিবারের প্রযুক্তি ব্যবহারের ধরন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। এলজির তথ্য অনুযায়ী, শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই প্রতিষ্ঠানটি ৩৮ কোটি ৬০ লাখ তথাকথিত ‘সেকেন্ডারি ডিভাইস’ শনাক্ত করেছে। বিশ্বজুড়ে বিক্রি হওয়া স্মার্ট টিভির সংখ্যা ২১ কোটি ৬০ লাখের তুলনায় এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
গেমার্স নেক্সাস এলজির কর্মকর্তাদের বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে এসব সক্ষমতা তুলে ধরার কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করেছে। এলজি অ্যাড সলিউশন্সের ডেটা সলিউশন্স বিভাগের প্রধান জুলিয়ান জিলবারব্র্যান্ড একটি বিপণন প্ল্যাটফর্মকে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, একটি পরিবারের সদস্য কারা, সেখানে কোন কোন যন্ত্র রয়েছে এবং টেলিভিশনে ব্যবহারকারীরা কী দেখছেন—এসব তথ্য এলজির জানা থাকে।
তিনি আরও জানান, টেলিভিশনে দেখানো বিজ্ঞাপনের প্রভাব একই পরিবারের মোবাইল ডিভাইসেও ছড়িয়ে দিতে এসব তথ্য কাজে লাগানো যায়। এলজি অ্যাড সলিউশন্সের প্রেসিডেন্ট সার্জ মাত্তা এক ভিডিওতে বলেন, টেলিভিশনের পর্দা যেহেতু এলজির নিয়ন্ত্রণে, তাই টিভির ওপরও তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা বিভাগের প্রধান জাস্টিন ফ্রমও এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এলজির নিজস্ব এসিআর তথ্যের মাধ্যমে টেলিভিশনের পর্দায় কী দেখানো হচ্ছে, তা তারা জানতে পারে।
মতামত (0)