স্বাস্থ্য

সম্পর্কের পাঁচটি কঠিন নিয়ম: যা প্রায়শই উপেক্ষা করা হয়

সম্পর্কের পাঁচটি কঠিন নিয়ম: যা প্রায়শই উপেক্ষা করা হয়
সম্পর্কের পাঁচটি কঠিন নিয়ম: যা প্রায়শই উপেক্ষা করা হয়
বিশেষজ্ঞ সাবরিনা বেন্ডরি সম্পর্কের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম তুলে ধরেছেন, যা সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়তে সহায়ক। তিনি জোর দেন যে, প্রয়োজন আর ভালোবাসা এক নয় এবং নিজেকে হারিয়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা উচিত নয়।

প্রেমের সম্পর্ক বা সঠিক জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়ার পথ সব সময় সহজ হয় না। অনেকে ডেটিংয়ের জগতে প্রবেশ করে বারবার একই ধরনের ভুল করেন, যার ফলে মানসিক যন্ত্রণা ও একাকীত্ব দেখা দেয়। সম্পর্ক-বিষয়ক মার্কিন বিশেষজ্ঞ সাবরিনা বেন্ডরি মনে করেন, অধিকাংশ মানুষই সম্পর্কের কঠিন শিক্ষাগুলো নিজেরা চরমভাবে আঘাত পাওয়ার আগে বুঝতে পারেন না।

সাবরিনা বেন্ডরি ১৭ বছর ধরে ডেটিং ও সম্পর্ক-বিষয়ক প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। এই অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি নিজের জীবনের ভুলগুলো বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়মের কথা বলেছেন, যা জানা থাকলে সম্পর্কের ভুল পথ থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব।

প্রথমত, সঙ্গীর বর্তমান রূপকে ভালোবাসতে হবে, তার ভবিষ্যতের কল্পিত রূপকে নয়। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরও অনেকে পুরোনো সঙ্গীকে ভুলতে পারেন না। সাবরিনা বেন্ডরির মতে, মানুষ আসলে সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তির অভাব বোধ করে না, বরং তাকে নিয়ে মনে মনে যে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল, সেটার অভাবে ভোগে।

উদাহরণস্বরূপ, কেউ ভাবতে পারেন, ‘সে যদি কর্মজীবন নিয়ে সিরিয়াস হত, তবে কত ভালো আর্থিক সাহায্য পাওয়া যেত’, অথবা ‘সে যদি নিজেকে একটু বদলে নিতো, তবে কত চমৎকার সঙ্গী হত।’ এই ধরনের অবাস্তব কল্পনা মানুষকে সম্পর্কের মধ্যে আটকে রাখে। সাবরিনা উল্লেখ করেন, কাউকে জোর করে বা শুধু ভালোবেসে বদলে দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি পরামর্শ দেন, নিজেকে প্রশ্ন করুন: যদি এই মানুষটি জীবনে আর কখনও একবিন্দুও না বদলায়, তবে কি আপনি তার বর্তমান রূপের সঙ্গেই সারাজীবন কাটাতে রাজি আছেন? উত্তর যদি 'না' হয়, তবে সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা অর্থহীন।

দ্বিতীয়ত, 'প্রয়োজন' আর 'ভালোবাসা' এক নয়। অনেকে ভুল করে মনে করেন, সঙ্গী যদি তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হন, তবে সেটি গভীর ভালোবাসার লক্ষণ। সাবরিনা বলেন, "কেউ আপনার ওপর নির্ভরশীল বা আপনাকে তার প্রয়োজন মানে এই নয় যে, সে আপনাকে মন থেকে ভালোবাসে, শ্রদ্ধা করে বা আপনার মূল্য বোঝে।" সুস্থ ও সুন্দর সম্পর্কে প্রতিনিয়ত প্রমাণ করতে হয় না যে, আপনি ভালোবাসার যোগ্য। কাউকে মানসিক বা যেকোনো সহায়তা দেওয়ার অর্থ এই নয় যে, তার জীবনের সব বোঝা আপনাকে একাই বইতে হবে বলে এই লেখিকা পরামর্শ দেন।

তৃতীয়ত, অনুভূতির চেয়ে সঙ্গীর আচরণে নিজের মানসিক অবস্থার ওপর জোর দেওয়া উচিত। কারও প্রতি তীব্র আকর্ষণ বা ভালো রসায়ন থাকলেই যে, সে আপনার জন্য উপযুক্ত সঙ্গী, তা ঠিক নয়। সাবরিনা নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানান, "খুব খারাপ বা ক্ষতিকর একজন মানুষের প্রতিও আপনার মনে তীব্র অনুভূতি তৈরি হতে পারে।" তাই সঙ্গী আপনাকে কতটা ভালোবাসে শুধু সেই হিসাব না করে ভাবুন, তার সঙ্গে থাকার সময় নিজের কেমন অনুভূতি হয়।

আপনি কি শান্ত ও স্বাভাবিক থাকেন, নাকি সারাক্ষণ তার একটি বার্তা বা সামান্য মেজাজ পরিবর্তনের কারণে মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন? যে সম্পর্কে নিজের স্বাভাবিকতা হারিয়ে যায়, তা কখনই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।

চতুর্থত, অন্যের সীমাবদ্ধতাকে নিজের খামতি ভাবা উচিত নয়। কেউ সম্পর্ক থেকে চলে গেলে বা অবহেলা করলে, মানুষ সাধারণত নিজেদের দোষ খুঁজতে বসে। 'আমার মাঝে কী কমতি ছিল' বা 'আমি কী ভুল করলাম'— এই ধরনের চিন্তা নিজের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দেয়। মনে রাখতে হবে, কখনও কখনও অপর মানুষটির নিজস্ব কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে, যার কারণে সে হয়তো আপনার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে না, বা সে যা চায় আপনার সঙ্গে তা মেলে না। সাবরিনা বলেন, "এর অর্থ এই নয় যে আপনার কোনও যোগ্যতা কম। এটি একটি ভুল বোঝাপড়া বা অমিল, যাকে ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখা উচিত নয়।"

পঞ্চমত, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে গিয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলা সবচেয়ে বড় এবং মারাত্মক ভুল। সাবরিনা জানান, তরুণ বয়সে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য তিনি নিজের ভালোলাগা-মন্দলাগা বা আপত্তিগুলো চেপে রাখতেন, যাতে সঙ্গী তাকে ছেড়ে চলে না যায়। নিজেকে খুব ‘সহজ-সরল’ বা ‘কুল’ হিসেবে জাহির করার এই চেষ্টা একসময় মানুষকে নিজের অস্তিত্ব সংকটে ফেলে দেয়। নিজের মনের কথা চেপে যাওয়া, অন্যের অন্যায় আবদার মুখ বুজে মেনে নেওয়া এবং বারবার নিজের আত্মসম্মানের সীমারেখা ভাঙার মাধ্যমে মানুষ ধীরে ধীরে নিজেকেই হারিয়ে ফেলে। কোনো সম্পর্কই নিজের আত্মসম্মান ও ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দিয়ে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...