গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করে মুখে কালো কাপড় বেঁধে সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে যান বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা। তারা তিনটি বিলের বিরোধিতা করেন এবং স্পিকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তোলেন।
গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা। তিনটি বিলের বিরোধিতা করে তারা এই পদক্ষেপ নেন। এরপর সংসদ সদস্যরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে যান।
রবিবার রাত ৮টার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন চলছিল। এ সময় ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’ এবং ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল’ পাসের বিরোধিতা করে বিরোধীদল। প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ বিরোধীদলের সদস্যরা ওয়াকআউট করেন।
পরে সংসদের টানেলে বিরোধীদল একটি সংবাদ সম্মেলন করে। সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলের নেতারা এই দিনটিকে সংসদের জন্য একটি ‘কালো দিন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তারা স্পিকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তোলেন।
বিরোধীদল দাবি করে, বিলগুলোর মাধ্যমে জনগণের মানবাধিকার হরণ করা হয়েছে এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ চরমভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্পিকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা সংসদে কথা বলতে চাইলেও স্পিকার তাকে সুযোগ না দিয়ে উল্টো মশকরা করেছেন।
চিফ হুইপ স্পিকারের এমন আচরণকে চরম হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীদলের মতামতের তোয়াক্কা না করে সরকার তড়িঘড়ি করে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল সংসদে উত্থাপন ও পাস করেছে। নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, এই বিলে স্বাধীন কোনো তদন্ত করার ন্যূনতম সুযোগ রাখা হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় মুখপাত্র নজিবুর রহমান সংসদে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর বিলটিকে সুস্পষ্টভাবে কোরআন ও সুন্নাহবিরোধী বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি আইনমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করে বলেন, ইসলামের কোনো ধারণা না রেখেই তিনি সংসদে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন। নজিবুর রহমানের মতে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা স্পিকারের প্রধান দায়িত্ব ছিল, কিন্তু তিনি তা পালনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ বিলকে শক্তিশালী করার বদলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আরও হালকা করে সংসদে পাস করেছে। এই আইনকে ‘কালো আইন’ অভিহিত করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। নজিবুর রহমান বলেন, এর মাধ্যমে জনগণের মানবাধিকার হরণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে গুম ও খুনের নতুন সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার ১৭ বছরের সীমাহীন নির্যাতনের কথা ভুলে গিয়ে আবারও পুরোনো নিয়মেই দেশ চালাচ্ছে। নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, সরকার দেশে মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকুক, তা চায় না। তিনি দাবি করেন, বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী আমলে যেভাবে মানবাধিকার হরণ ও গুম হয়েছিল, সরকার আবারও সেই পথ খোলা রাখতে চায়। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকার আগে শক্তিশালী ও কার্যকর আইন করার কথা বললেও এখন তুলনামূলক দুর্বল বিল আনা হয়েছে।
মতামত (0)