সৌদি আরামকো তেল স্থাপনায় নতুন হামলা, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি

সৌদি আরামকো তেল স্থাপনায় নতুন হামলা, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি
সৌদি আরামকো তেল স্থাপনায় নতুন হামলা, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি
সৌদি আরবের জিজানে আরামকো তেল স্থাপনায় নতুন হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। গত মাসেও একই রিফাইনারিতে হামলা হয়েছিল।

সৌদি আরবের জিজান শহরে অবস্থিত দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর তেল স্থাপনায় আজ নতুন করে হামলা হয়েছে। এই হামলার খবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৭ দশমিক ৪০ ডলারে উঠেছে।

ঘটনার বিষয়ে জানেন এমন দুজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সৌদি আরামকোর তেল অবকাঠামোয় হামলা হয়েছে। হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা বর্তমানে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তাঁদের একজন এবারের হামলার মাত্রা গত মাসের হামলার কাছাকাছি বলে উল্লেখ করেন।

সৌদি আরামকো তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। জিজান ইয়েমেন সীমান্তের সবচেয়ে কাছের শিল্পনগরী। অতীতেও এই শহরটিতে কয়েকবার হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতিরা। তবে সর্বশেষ হামলার দায় এখনো কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি।

গত মাসে একই রিফাইনারিতে আরেকটি হামলায় উৎপাদন কার্যক্রমের কিছু অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ২৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে ওই ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এই হামলা হলো।

ইরান-সমর্থিত হুতিরা গত জুলাইয়ে সৌদি আরবের লোহিত সাগরের বন্দরগুলো অবরোধের ঘোষণা দেয়। এরপর সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের আবার সংঘাত শুরু হয়। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে হুতিরা দেশটির তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে কয়েক দফা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

জিজানে দিনে ৪ লাখ ব্যারেল তেল পরিশোধনের সক্ষমতাসম্পন্ন একটি রিফাইনারি রয়েছে। এটি সৌদি আরবের অন্যতম বড় রিফাইনারি। এর সঙ্গে আরও কয়েকটি কারখানা ও জ্বালানি অবকাঠামোও রয়েছে।

সৌদি আরামকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিন নাসের গত মাসে বলেছিলেন, ২৬ জুলাইয়ের হামলায় কোম্পানিটির তেল উৎপাদনে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছিল। তবে এতে কোম্পানিটির কার্যক্রম বা আর্থিক অবস্থায় উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়েনি।

জ্বালানি ও পণ্যবাজারের তথ্য বিশ্লেষণকারী একটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে জিজান থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিমাণ পরিশোধিত তেলজাত পণ্য রপ্তানি করা হয়েছিল। তবে হুতিরা হামলা আবার শুরু করার পর এই রপ্তানি নাটকীয়ভাবে কমে যায়। আগস্ট মাসে জিজান থেকে কোনো তেলজাত পণ্য পাঠানো হয়নি।

সৌদি আরব ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে হুতিদের বিরুদ্ধে আরব জোটের নেতৃত্ব দেয়। ২০২২ সালের এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর গত জুলাই পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের লড়াই হয়নি।

তবে গত সপ্তাহান্তে হুতিরা সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূল বরাবর স্থল অভিযান শুরু করেছে। বাব আল-মানদেবের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হুতিদের এই অভিযানের ফলে ইয়েমেনে গত ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...
সৌদি আরামকো তেল স্থাপনায় হামলা, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি | বাংলানিউজবিডিহাব