সৌদি আরবের কাছে ৫০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

সৌদি আরবের কাছে ৫০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের
সৌদি আরবের কাছে ৫০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের
যুক্তরাষ্ট্র গত শুক্রবার সৌদি আরবের কাছে ৫০০ কোটি ডলারের বোমা, গাইডেন্স কিট ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে, যা এখনো কংগ্রেসের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই অনুমোদন আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলায় সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

যুক্তরাষ্ট্র গত শুক্রবার সৌদি আরবের কাছে ৫০০ কোটি ডলারের বোমা, গাইডেন্স কিট ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে এই অনুমোদনের কথা জানিয়েছে। ইরান যুদ্ধ চলাকালে সৌদিকে অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেওয়া নিয়ে আলোচনা চলছে।

প্রস্তাবিত এই অস্ত্র বিক্রি বর্তমান ও ভবিষ্যতের আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলায় সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াবে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর উল্লেখ করেছে। এটি তাদের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করবে এবং মার্কিন বাহিনী ও উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য অংশীদারদের ব্যবহৃত ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় উন্নত করবে। এই বিক্রয় ন্যাটোবহির্ভূত প্রধান এক মিত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য ও জাতীয় নিরাপত্তার উদ্দেশ্যগুলোকে সমর্থন করবে।

সৌদি আরবের কাছে ৫ হাজার ৪টি কেএমইউ-৫৭২ এবং ৫ হাজার কেএমইউ-৫৫৬ জেডিএএম গাইডেন্স কিট বিক্রির প্রস্তাব করা হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে ৫ হাজার ৪টি ব্লু-১১১ ৫০০-পাউন্ড সাধারণ ব্যবহারের বোমা এবং ৫ হাজার ব্লু-১১৭ দুই হাজার-পাউন্ড বোমা। এই প্যাকেজের প্রধান ঠিকাদার হিসেবে ভার্জিনিয়াভিত্তিক বোয়িং কাজ করবে।

শুধু বোমা ও গাইডেন্স কিট নয়, সম্ভাব্য চুক্তিতে এফএমইউ-১৩৯ ফিউজ সিস্টেম, ডিএসইউ-৩৮ ও ডিএসইউ-৪০ টার্গেট ডিটেক্টরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া কনটেইনার, সহায়ক সরঞ্জাম, খুচরা যন্ত্রাংশ, ভোগ্যপণ্য এবং আনুষঙ্গিক সরঞ্জামও সরবরাহ করা হবে। মেরামত ও ফেরত-সেবাও এই চুক্তির অংশ।

মার্কিন সরকার ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রকৌশল, কারিগরি ও লজিস্টিক সহায়তাও দেওয়া হবে। জেডিএএম-ইআর প্যাকেজের পাশাপাশি সৌদি আরবের কাছে আরও ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের এজিটি-১৫০০ ইঞ্জিন বিক্রির সম্ভাব্য অনুমোদন দিয়েছে ওয়াশিংটন। এই চুক্তির প্রধান ঠিকাদার হিসেবে হানিওয়েলকে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ইরানি বাহিনী এবং তেহরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছে সৌদি আরব। এই অনুমোদনের মাধ্যমে ওয়াশিংটন একদিকে পারস্য উপসাগর রক্ষার দায়িত্ব পরোক্ষভাবে রিয়াদের কাঁধে দিচ্ছে। অন্যদিকে, এই অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখছে বলে ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইঞ্জিন সরবরাহ সৌদি সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতি ও কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াবে। এটি ভবিষ্যৎ হুমকি মোকাবিলায় দেশটির সক্ষমতা জোরদার করবে। প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলেও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে।

চুক্তি বাস্তবায়নে সৌদি আরবে অতিরিক্ত মার্কিন সরকারি বা ঠিকাদারি কর্মী মোতায়েনের প্রয়োজন হবে না। এতে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান অ-ন্যাটো মিত্র হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এই চুক্তি উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সহায়তা করবে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মনে করে। রিয়াদের কাছে এই বোমা বিক্রির প্রস্তাবের বিষয়টি কংগ্রেসকে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এই চুক্তি বাস্তবায়নে এখনো মার্কিন আইনপ্রণেতাদের অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...