সর্বজনীন পেনশনের বিনিয়োগে ১১.৭২% পর্যন্ত মুনাফা অনুমোদন

সর্বজনীন পেনশনের বিনিয়োগে ১১.৭২% পর্যন্ত মুনাফা অনুমোদন
সর্বজনীন পেনশনের বিনিয়োগে ১১.৭২% পর্যন্ত মুনাফা অনুমোদন
সর্বজনীন পেনশন স্কিমের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিনিয়োগে গ্রাহকদের জন্য ১১.৬৮% থেকে ১১.৭২% মুনাফা অনুমোদিত হয়েছে। আজ জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সর্বজনীন পেনশন স্কিমের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিনিয়োগের বিপরীতে গ্রাহকদের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ ঢাকায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের (এনপিএ) পরিচালনা পর্ষদের ৪র্থ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই মুনাফা প্রদানের অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভায় মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পেনশন ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব, কার্যকর ও অংশগ্রহণমূলক করার উপর জোর দেন। তিনি ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়।

পেনশন ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে বেশ কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিনিয়োগের অর্জিত মুনাফা গ্রাহকদের নিজ নিজ পেনশন অ্যাকাউন্টে যুক্ত হবে। পেনশনারের মৃত্যুর পর তার নমিনির পেনশন পাওয়ার সময়সীমা ৭৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮০ বছর করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা—এই চার স্কিমের শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর প্রাথমিক প্রস্তুতি ও কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। ন্যূনতম ৫ বছর চাঁদা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক অক্ষমতার মতো জরুরি ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দিতে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গ্রাহক নিবন্ধন বাড়াতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের কমিশন ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক, ডাক বিভাগ ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS)-এর জন্য কমিশন নির্ধারণের আলোচনা হয়।

সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতাভুক্ত গ্রাহকদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা চালুর বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের সকল পেশার মানুষকে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তায় এনে পেনশন ব্যবস্থার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে।

উক্ত পর্ষদ সভায় অর্থ সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রতিনিধি, বিএসইসি চেয়ারম্যান এবং এফবিসিসিআই-এর প্রশাসকসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাবৃন্দও এতে অংশ নেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...