স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াতের একক অংশগ্রহণের ভাবনা, জোটের ভিন্ন কৌশল
সম্পাদক১ আগস্ট, ২০২৬ · 67 দিন আগে
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে অংশ নিতে চায়, তবে জোটের কয়েকটি দল সমন্বিত কৌশলের পক্ষে। জোটের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে অসন্তোষও রয়েছে।
একসময়ে বিএনপি জোটের অংশীদার জামায়াতে ইসলামী এ বছরের শুরুতে ১১–দলীয় ঐক্য গড়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। তবে বছরের মাঝামাঝিতে এসে সেই জোটের মধ্যে মতভেদ দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় সামনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াত এককভাবে অংশ নেওয়ার চিন্তা করছে। জোটভুক্ত কয়েকটি দলের ভাবনা অবশ্য ভিন্ন।
জামায়াত মনে করে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় সাংগঠনিক সক্ষমতা ও স্থানীয় নেতৃত্ব যাচাইয়ের ক্ষেত্র। তাই কেন্দ্রীয়ভাবে সমঝোতার বদলে এককভাবে নির্বাচন করাই বাস্তবসম্মত। জামায়াতের নেতাদের যুক্তি, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি করপোরেশন পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক পদে কেন্দ্রীয়ভাবে সমঝোতা করা বাস্তবসম্মত নয়। এ নির্বাচন দলীয় সাংগঠনিক শক্তি ও স্থানীয় নেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্র।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ২০ জুলাই বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে সমঝোতা করতেই কয়েক মাস সময় লেগেছিল। স্থানীয় সরকারের বিপুলসংখ্যক পদে সে ধরনের সমঝোতা বাস্তবসম্মত নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে কখনো জোটবদ্ধভাবে স্থানীয় নির্বাচনও হয়নি। তবে স্থানীয় পর্যায়ে কোথাও সমঝোতা হলে কেন্দ্র থেকে কোনো বাধা থাকবে না।
অন্যদিকে ১১–দলীয় ঐক্যভুক্ত কয়েকটি দলের যুক্তি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জোটগত সমন্বয় না থাকলে মাঠপর্যায়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। যেসব এলাকায় ঐক্যভুক্ত একাধিক দলের শক্ত অবস্থান রয়েছে, সেখানে একক প্রার্থী না দিলে ভোট ভাগ হয়ে যাবে।
১১–দলীয় ঐক্যের একাধিক সূত্র জানায়, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা না হলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস বিকল্প নির্বাচনী বোঝাপড়ার চিন্তা করছে। এ আলোচনায় জাতীয় নাগরিক পার্টিকেও (এনসিপি) যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। অন্য কয়েকটি দল জাতীয় নির্বাচনের মতোই সমন্বিত কৌশলের পক্ষপাতী।
জামায়াতকে বাদ দিয়ে কয়েকটি দলের সমঝোতার আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এমন কোনো আলোচনার বিষয়ে তাঁর জানা নেই। পরিস্থিতি তৈরি হলে তখন বিষয়টি বিবেচনা করা যাবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দীর্ঘ আলোচনার পর আসন সমঝোতা হলেও প্রত্যাশার তুলনায় কম আসন পাওয়া নিয়ে ১১–দলীয় ঐক্যভুক্ত কয়েকটি দলের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। বৃহত্তর রাজনৈতিক লক্ষ্য সামনে রেখে তারা তখন সমঝোতায় গেলেও সেই অসন্তোষ পুরোপুরি কাটেনি।
সবচেয়ে বেশি অসন্তোষ ছিল মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ ও আহমদ আবদুল কাদেরের নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজলিসের। ১০টি আসনে সমঝোতা হলেও দলটির দাবি ছিল আরও বেশি আসন। সংরক্ষিত নারী আসন না পাওয়া দলটি মনে করে, জোটে তাদের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে।
সর্বশেষ ২৫ জুলাই খেলাফত মজলিস সিদ্ধান্ত জানায়, তারা আর ১১–দলীয় ঐক্যের কোনো কর্মসূচিতে যাবে না। খেলাফত মজলিসের নেতারা বলছেন, তাঁরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। সেটি সম্ভব না হলে দুটি বিকল্প পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এককভাবে নির্বাচন অথবা জামায়াতের বাইরে কয়েকটি দলের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচন। তবে এ আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
আগামী অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকারের কয়েকটি স্তরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের কৌশল সাজাচ্ছে। ইসি সূত্র জানায়, আগস্টের শেষে বা সেপ্টেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। শুরুতে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটিই হবে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলগুলোর প্রথম বড় নির্বাচনী পরীক্ষা। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সাংগঠনিক শক্তি যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবে দেখছে প্রায় সব দল। সে কারণেই প্রার্থী ও সমঝোতা নিয়ে আলোচনা আগেভাগেই শুরু হয়েছে। ইসি ১০ থেকে ১২ মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা করেছে।
মতামত (0)