সুস্থ সংস্কৃতিচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরলেন জামায়াত আমির
সম্পাদক১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · 1 ঘণ্টা আগে
সুস্থ সংস্কৃতিচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরলেন জামায়াত আমির
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ ও চর্চার মাধ্যমেই সমাজ থেকে অপসংস্কৃতি দূর করা সম্ভব।
আজ শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে ‘দেশীয় সংস্কৃতি সংসদ’ আয়োজিত নাত-এ রাসুল ও কাওয়ালি সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ ও চর্চার মাধ্যমেই সমাজ থেকে অপসংস্কৃতি দূর করা সম্ভব।
জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, প্রতিটি জাতিরই একটি নিজস্ব সংস্কৃতি থাকে। তবে নিজেদের সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে লালন ও ধারণ করতে না পারার কারণে সমাজে অপসংস্কৃতি প্রবেশ করেছে। তিনি অপসংস্কৃতিকে সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
শফিকুর রহমান বলেন, সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশই একটি জাতিকে সঠিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুধু মুখের বক্তব্য বা প্রতিবাদ দিয়ে অপসংস্কৃতিকে ঠেকানো সম্ভব নয়। এর জন্য সুস্থ তামাদ্দুন ও সংস্কৃতির উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
জামায়াত আমির তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষক ও গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সমাজে পারস্পরিক মূল্যবোধের অভাব দেখা যাচ্ছে। তিনি শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষা এবং সঠিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্র নির্বাচন বা গণবিপ্লবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর যদি সেই রাষ্ট্রের মানুষ ওই আদর্শকে ধারণ, লালন ও চর্চা করতে না পারে, তাহলে বিপ্লব ধরে রাখা যায় না। এর ফলে প্রতিবিপ্লব ঘটে।
জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা বাংলাদেশে 'জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা' বাস্তবায়নের কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইসলামকে রাষ্ট্রীয় আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। এর জন্য বহুমুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে, যার মধ্যে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক পরিকল্পনা অন্যতম।
আয়োজক সংগঠন ‘দেশীয় সংস্কৃতি সংসদ’–এর উপদেষ্টা মতিউর রহমান আকন্দও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য ১৩৭ থেকে ১৪৭ জন শিশু জীবন দিয়েছে। শিশু ও কিশোরদের মধ্যে সাংস্কৃতিক চেতনা ও উন্মেষ সৃষ্টির জন্য তাদের সংগঠন ভূমিকা রাখছে।
মতিউর রহমান আকন্দ আরও বলেন, এই কার্যক্রম বাংলাদেশে একটি সাংস্কৃতিক বিপ্লব তৈরি করবে। এটি তাদের কাঙ্ক্ষিত ইসলামি সমাজ বিনির্মাণের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করবে।
মতামত (0)