তৃণমূল থেকে নারী ফুটবল প্রতিভা অন্বেষণে নতুন টুর্নামেন্ট শুরু
সম্পাদক২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · 1 ঘণ্টা আগে
তৃণমূল থেকে নারী ফুটবল প্রতিভা অন্বেষণে নতুন টুর্নামেন্ট শুরু
দেশের নারী ফুটবলে তৃণমূল থেকে নতুন প্রতিভা খুঁজতে প্রথমবারের মতো একটি টুর্নামেন্ট শুরু হচ্ছে। ৩৬টি একাডেমি নিয়ে এই আয়োজন ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে মাঠে গড়াবে।
তৃণমূল থেকে দেশের নারী ফুটবলের জন্য নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করতে প্রথমবারের মতো একটি নারী ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহযোগিতায় এই আয়োজনে বাফুফের ওয়ান স্টার-ভুক্ত ৩৬টি একাডেমি অংশ নেবে। একাডেমিগুলো ছয়টি অঞ্চলে ভাগ হয়ে খেলবে এবং আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর রংপুর অঞ্চলের খেলার মাধ্যমে দেশব্যাপী এই ফুটবল উৎসবের পর্দা উঠবে।
গতকাল ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে এই টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন ও ড্র অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাওয়া বিভিন্ন নারী ফুটবল একাডেমির প্রতিনিধি, দেশের সাবেক তারকা ফুটবলার এবং ক্রীড়া সংগঠকেরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধান ক্রীড়া সম্পাদক উৎপল শুভ্র।
বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে মঞ্চে ছিলেন একাডেমি থেকে উঠে এসে বর্তমানে বয়সভিত্তিক জাতীয় পর্যায়ে আলো ছড়ানো দুই নারী ফুটবলার—বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় নারী দলের অধিনায়ক মেঘলা রাণী রায় ও সহ-অধিনায়ক আলপি আক্তার। আয়োজক ও অতিথিরা এই উদ্যোগকে দেশের নারী ফুটবলের অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
স্টার নিউজের সিইও মোখছেদুল কামাল তাঁর বক্তব্যে বলেন, "আজ একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে উপনীত হয়েছি আমরা। এটি শুধু সংবাদ সম্মেলন বা টুর্নামেন্টের ড্র অনুষ্ঠান নয়, সত্যিকার অর্থে এটি বাংলাদেশের নারী ফুটবলের জন্য নতুন এক মঞ্চ।" বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক দুই খেলোয়াড় মামুনুল ইসলাম ও জাহিদ হাসান এমিলি ড্র-তে নাম তোলেন।
বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম ফুটবলের যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ ব্যতিক্রমী ও অসাধারণ এবং অবশ্যই প্রশংসনীয়। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে এই উদ্যোগ দেশের নারী ফুটবলের পাইপলাইনে সাহায্য করবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও জানান, এখান থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় পাওয়া গেলে বাফুফে তাদের জাতীয় পর্যায়ে সুযোগ দেবে।
অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত দুই তরুণ তারকা মেঘলা ও আলপির ফুটবলার হয়ে ওঠার গল্প উপস্থিত সবাইকে অনুপ্রাণিত করে। ঠাকুরগাঁওয়ের মেয়ে মেঘলা উঠে এসেছেন স্থানীয় জনগাঁও নারী ফুটবল একাডেমি থেকে। তিনি ২০২৪ সালে বাফুফে ভবনে আবাসিক ক্যাম্পে সুযোগ পান এবং গত বছর ভুটানে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ টুর্নামেন্টে সেরা গোলকিপার হয়েছিলেন। এই গোলরক্ষক সর্বশেষ ১০ ও ১৩ সেপ্টেম্বর জর্ডানের মাটিতে তাদেরই অনূর্ধ্ব-১৭ দলের বিপক্ষে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেন।
অন্যদিকে ঢাকায় গত নারী লিগে রাজশাহী স্টারসের হয়ে খেলা স্ট্রাইকার আলপি চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে নেপালে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতা (৭ গোল) ও টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের জোড়া পুরস্কার জেতেন। তিনি গত নারী লিগে চ্যাম্পিয়ন দল রাজশাহী স্টারসের হয়ে ১০ ম্যাচে ২৯টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন এবং এরই মধ্যে বাংলাদেশের সিনিয়র দলে ডাক পেয়েছেন।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে মেঘলা বলেন, "আমি নিজেও একাডেমিতে খেলে উঠে এসেছি। চাইব, এই টুর্নামেন্ট থেকে ভালো ভালো খেলোয়াড় এবং আমাদের চেয়েও ভালো খেলোয়াড় উঠে আসবে।" আলপি এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, "আমরা যখন খেলতাম, তখন এমন টুর্নামেন্ট ছিল না। তখন ভাবতাম, কীভাবে নিজের পারফরম্যান্স তুলে ধরব। অনেকে ঢাকা পর্যন্ত আসতে পারে না, তাদের জন্য এই টুর্নামেন্ট ভালো উদ্যোগ।"
জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আলফাজ আহমেদ বলেন, "এই টুর্নামেন্ট আলোড়ন ফেলবে।" টুর্নামেন্টের ঢাকা অঞ্চল ও চূড়ান্ত পর্বের ভেন্যু সাভারের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আর কবির আশা প্রকাশ করেন, "এই টুর্নামেন্ট নারী ফুটবলারদের প্রতিভা বিকাশে একটা মঞ্চ তৈরি করবে।"
মতামত (0)