মধুর উপকারিতা ও অপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

মধুর উপকারিতা ও অপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম
মধুর উপকারিতা ও অপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

মধু হল এক প্রকারের মিষ্টি ও ঘন তরল পদার্থ। মধু তৈরি করে মৌমাছি ও অন্যান্য পতঙ্গ ফুলের নির্যাস হতে। মৌমাছি মধু  মৌচাকে সংরক্ষণ করে। এটি উচ্চ ঔষধিগুণ সম্পন্ন একটি ভেষজ তরল পদার্থ।  মধু  অনেক  সুপেয়। বিভিন্ন খাদ্য প্রস্তুতিতে এর ব্যবহারে চিনির চেয়ে এর অনেক সুবিধা রয়েছে।

মধুতে অ্যালুমিনিয়াম, বোরন, ক্রোমিয়াম, কপার, লেড, টিন, জিংক ও জৈব এসিড (যেমন-ম্যালিক এসিড, সাইট্রিক এসিড, টারটারিক এসিড এবং অক্সালিক এসিড), কতিপয় ভিটামিন, প্রোটিন, হরমোনস, এসিটাইল কোলিন, অ্যান্টিবায়োটিকস, ফাইটোনসাইডস, সাইস্টোস্ট্যাটিক্স এবং পানি (১৯-২১%) ছাড়াও অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে। ভিটামিন যেমন- ভিটামিন সি বা অ্যাসকরবিক এসিড, ভিটামিন বি-১, বি-২, বি-৩, বি-৫, বি-৬, ভিটামিন-ই, ভিটামিন-কে, ভিটামিন-এ বা ক্যারোটিন ইত্যাদি বিদ্যমান।

মধুর উপকারিতা

১. হৃদরোগ প্রতিরোধ করে। রক্তনালি প্রসারণের মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে এবং হৃদপেশির কার্যক্রম বৃদ্ধি করে;
২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে;
৩. দাঁতকে পরিষ্কার ও শক্তিশালী করে;
৪. দৃষ্টিশক্তি ও স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করে;
৫. মধুর রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতা, যা দেহকে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের হাত থেকে রক্ষা করে;
৬. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে ও কোষকে ফ্রি রেডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে;
৭. বার্ধক্য অনেক দেরিতে আসে;
৮. মধুর ক্যালরি রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ায়, ফলে রক্তবর্ধক হয়;
৯. যারা রক্ত স্বল্পতায় বেশি ভোগে বিশেষ করে মহিলারা, তাদের জন্য নিয়মিত মধু সেবন অত্যন্ত ফলদায়ক;
১০. গ্লাইকোজেনের লেভেল সুনিয়ন্ত্রিত করে;
১১. আন্ত্রিক রোগে উপকারী। মধুকে এককভাবে ব্যবহার করলে পাকস্থলীর বিভিন্ন রোগের উপকার পাওয়া যায়;
১২. আলচার ও গ্যাস্ট্রিক রোগের জন্য উপকারী;
১৩. দুর্বল শিশুদের মুখের ভেতর পচনশীল ঘায়ের জন্য খুবই উপকারী;
১৪. শরীরের বিভিন্ন ধরনের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং উষ্ণতা বৃদ্ধি করে;
১৫. ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ মধু স্নায়ু এবং মস্তিষ্কের কলা সুদৃঢ় করে;
১৬. মধুতে স্টার্চ ডাইজেস্টি এনজাইমস এবং মিনারেলস থাকায় চুল ও ত্বক ঠিক রাখতে অনন্য ভূমিকা পালন করে;
১৭. মধু কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে;
১৮. ক্ষুধা, হজমশক্তি ও রুচি বৃদ্ধি করে;
১৯. রক্ত পরিশোধন করে;
২০. শরীর ও ফুসফুসকে শক্তিশালী করে;
২১. জিহ্বার জড়তা দূর করে;
২২. মধু মুখের দুর্গন্ধ দূর করে;
২৩. বাতের ব্যথা উপশম করে;
২৪. মাথা ব্যথা দূর করে;
২৫. শিশুদের দৈহিক গড়ন ও ওজন বৃদ্ধি করে;
২৬. গলা ব্যথা, কাশি-হাঁপানি এবং ঠাণ্ডা জনিত রোগে বিশেষ উপকার করে;
২৭. শিশুদের প্রতিদিন অল্প পরিমাণ মধু খাওয়ার অভ্যাস করলে তার ঠাণ্ডা, সর্দি-কাশি, জ্বর ইত্যাদি সহজে হয় না;
২৮. শারীরিক দুর্বলতা দূর করে এবং শক্তি-সামর্থ্য দীর্ঘস্থায়ী করে;
২৯. ব্যায়ামকারীদের শক্তি বাড়ায়;
৩০. মধু খাওয়ার সাথে সাথে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে, ফলে শরীর হয়ে উঠে সুস্থ, সতেজ এবং কর্মক্ষম।

মধুর অপকারিতা  সংক্ষেপে

ব্লাড সুগার লেভেল
পেটে ব্যথা
কোষ্ঠকাঠিন্য
ওজন বৃদ্ধি
দাঁতের জন্য ক্ষতিকর
রক্তচাপ

মধু খাওয়ার নিয়ম

এক্ষেত্রে মধু অবশ্যই রোগ প্রতিরোধে কার্যকরী ওষুধ। এটিতে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ভাইরাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এছাড়া সর্দি-কাশিতেও মধু ভালো কাজ করে। বিশেষ করে সাইনাস এবং কনজেশন পরিষ্কার করে।

যাইহোক, যদি এটি 42 ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে থাকে তবে মধুর গুণমান পরিবর্তিত হয় এবং বিষাক্ত হয়ে যায়। তাই যখন আপনি গরম পানিতে মধু যোগ করেন বা চায়ের জন্য ‘প্রাকৃতিক’ মিষ্টি হিসেবে চিনির পরিবর্তে ব্যবহার করেন, তখন সতর্ক থাকুন যেন এটি অতিরিক্ত গরম না হয়।

পানি বা চা একটু ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। অর্থাৎ গরম পানি বা চায়ের তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকতে হবে। এই অবস্থায় মধু মিশিয়ে পান করুন।

অনেকেই ঘুম থেকে উঠে মধু মিশিয়ে গরম পানি পান করেন, যা শরীরকে সতেজ করে এবং শরীর থেকে টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে। তাদের উষ্ণ গরম পানিতে মধু মিশিয়ে পান করা উচিত।

যাদের ওজন বেশি তারা গরম পানি, লেবুর রস মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন। প্রতিদিন সকালে এই পানীয়টি পান করলে শরীর থেকে টক্সিন বের হয়ে যাবে। দীর্ঘমেয়াদী ওজন নিয়ন্ত্রণে অবদান রাখে।

মধুর উপাদানগুলো গরম কিছুর সংস্পর্শে আসলে বিষাক্ত হয়ে যায়। মধু কখনই গরম করা বা রান্নায় ব্যবহার করা উচিত নয়। এভাবে মধু খাওয়া ভালো। বাজার থেকে কেনা মধু প্রক্রিয়াকরণের সময় ইতিমধ্যে তাপের সংস্পর্শে এসেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের পাত্রে বিক্রি হয়। ফলে এমনিতেই মধুর গুণাগুণ কমে গেছে। গরম কিছুর সঙ্গে মিশিয়ে পান করলে কার্যকারিতা কমে যায়।