লিভার সমস্যা দূর করার উপায়

লিভার সমস্যা দূর করার উপায় এর প্রধান কয়েকটি উপায় নিয়ে আলোচনা করব। লিভার হলো আমাদের শরীরের শক্তি তৈরির কারখানা। যেখানে প্রতিনিয়ত আপনার শরীরের শক্তি তৈরি হয়। লিভারকে আমরা  পাওয়ার হাউসও বলতে পারি। যেহেতু লিভার শরীরের পাওয়ার হাউজ সেহেতু, লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমাদের শরীরের এনার্জি কমে যাবে, রোগী অল্প পরিশ্রমেই হাঁপি‍য়ে যাই। এজন্য আমাদের লিভারের যত্ন নিতে হবে এবং লিভারের সকল সমস্যা বের করতে হবে। আজ আমরা প্রধান কয়েকটি লিভার সমস্যা দূর করার উপায় জানব।

লিভার সমস্যা দূর করার উপায়

নির্দিষ্ট অবস্থার উপর নির্ভর করে লিভারের সমস্যাগুলি দূর করার বা চিকিত্সা করার বিভিন্ন উপায় রয়েছে। কিছু সাধারণ চিকিত্সা অন্তর্ভুক্ত:

  • ওষুধ: কিছু ওষুধ লিভারের রোগের লক্ষণগুলি পরিচালনা করতে সাহায্য করতে পারে, যেমন প্রদাহ হ্রাস করা বা অবস্থার অগ্রগতি ধীর করা।
  • জীবনধারা পরিবর্তন: আপনার খাদ্য এবং ব্যায়ামের রুটিনে পরিবর্তন করা লিভারের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সাহায্য করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, অ্যালকোহল এড়ানো, ওজন কমানো এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া লিভারের রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
  • সার্জারি: কিছু ক্ষেত্রে, লিভারের টিউমার বা ক্ষতিগ্রস্থ লিভারের অংশ অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
  • ট্রান্সপ্লান্ট: যদি লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং নিজেকে মেরামত করতে না পারে তবে একটি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রয়োজন হতে পারে।
  • মেডিকেল থেরাপি: ভাইরাল সংক্রমণের কারণে লিভারের সমস্যা দূর করতে অ্যান্টিভাইরাল থেরাপির মতো কিছু মেডিকেল থেরাপি ব্যবহার করা যেতে পারে।

এটি লক্ষ করা গুরুত্বপূর্ণ যে আপনার নির্দিষ্ট অবস্থার জন্য চিকিত্সার সর্বোত্তম কোর্স নির্ধারণ করতে একজন স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারের সাথে পরামর্শ করা সর্বদা সর্বোত্তম।

লিভার ভালো করার উপায়

লিভারের স্বাস্থ্য উন্নত করার বিভিন্ন উপায় রয়েছে:

  • একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য বজায় রাখা: চর্বি কম, ফাইবার বেশি এবং ফল, শাকসবজি এবং গোটা শস্য সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া লিভারকে ভালো অবস্থায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করা: নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ লিভারের রোগের ঝুঁকি কমাতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সাহায্য করতে পারে।
  • অ্যালকোহল এবং তামাক এড়িয়ে চলুন: অ্যালকোহল পান এবং ধূমপান তামাক লিভারের ক্ষতি করতে পারে এবং লিভার রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • ওজন হ্রাস: অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা লিভারের রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তাই স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
  • কিছু ওষুধ এড়িয়ে চলা: কিছু ওষুধ, যেমন অ্যাসিটামিনোফেন, বড় মাত্রায় লিভারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, তাই শুধুমাত্র একজন স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারের নির্দেশ অনুসারে সেগুলি ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ।
  • টিকাকরণ: হেপাটাইটিস এ, বি এবং ই এর বিরুদ্ধে টিকা লিভারকে ভাইরাল সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে যা লিভারের প্রদাহ এবং ক্ষতির কারণ হতে পারে।
  • মেডিকেল থেরাপি: ভাইরাল সংক্রমণের কারণে লিভারের সমস্যা দূর করতে অ্যান্টিভাইরাল থেরাপির মতো কিছু মেডিকেল থেরাপি ব্যবহার করা যেতে পারে।

এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে আপনার খাদ্যতালিকা বা ব্যায়ামের রুটিনে কোনো বড় পরিবর্তন করার আগে একজন স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারের সাথে পরামর্শ করা সর্বদাই ভালো, বিশেষ করে যদি আপনার লিভারের অবস্থা থাকে।

লিভার ভালো করার উপায়

লিভার সমস্যা দূর করার প্রথম উপায় হলো খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবার রাখা। লিভার ভালো রাখতে হলে অবশ্যই আপনার খাদ্যতালিকায় শাক-সবজি ও ফল-মূল রাখতে হবে।

লিভার ভালো রাখার খাদ্য তালিকাঃ শাক-সবজি ও ফল-মূল ছাড়াও রসুন, সাইট্রাস ফল, হলুদ, আখরোট, বিট, গাজর, সবুজ চা, আপেল ও অ্যাভোকাডো খাদ্যতালিকায় অবশ্যই রাখুন।

লিভার ভালো রাখার ২য় উপায় হলো অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলা। যেমন তেলেভাঁজা, চর্বি ও লবণযুক্ত খাবার।

লিভারের জন্য অস্বাস্থ্যকর খাবার তেলেভাঁজা, চর্বি ও লবণযুক্ত খাবার এগুলো চর্বিজাতীয় খাবার, যা ফ্যাটি লিভার ও লিভার সিরোসিস হওয়ার মূল কারণ।

লিভারের জন্য অস্বাস্থ্যকর হলো বাদাম, নারকেল, আখরোট, চিয়া বীজ, ফ্লেক্স বীজ, কুমড়ার বীজ, ডিম এবং চর্বিযুক্ত মাছ (স্যামন) খেতে পারে। এসবে স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে।

লিভার সমস্যা দূর করার ৩য় উপায় হলো চিনি জাতীয় খাবার কম খাওয়া। লিভার ভালো রাখতে প্রতিদিন চিনি খাওয়ার পরিমান ২০-৩০ গ্রাম রাখা উচিত। আপনি যেদিন চিনি খাবেন সেদিন ২০-৩০ গ্রামের বেশি খাবেন না। কারন চিনি মাত্র রক্তে বেশি হলে লিভারের কার্যকারিতা ও হজম শক্তি নষ্ট করে দেয়।

লিভার ভালো রাখার প্রধান উপায় হলো

লিভারের সমস্যা দূর করতে আপনাকে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, শাক-সবজি ও ফল-মূল বেশী খাওয়া। যে সকল খাবার লিভারের জন্য ক্ষতিকর সে-সকল খাদ্য এড়িয়ে চলা। পানি ও ফলমূলের জূষ পান করা। আপনার ওজন বেশি হলে ওজন কমানো, নিয়মিত মেডিটেশন ও ইয়োগা করা। অস্বাস্থ্যকর চর্বি ও লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা। নিয়মিত ডাক্তারের কাছে যাওয়া এবং আপনার লিভার এর অবস্থা যানা ইত্যাদি।

আশা করি এসকল নিয়োম খাবার এর তালিকা ঠিক রাখলে আপনার লিভারো ঠিক থাকবে। সাম্প্রতি আমরা লিভার খারাপ হওয়ার লক্ষণ আলোচানা করেছি সুতরাং অবশ্যই পড়ুন।

লিভার সমস্যা দূর করার উপায় – FAQ

ফ্যাটি লিভার হলে কি সমস্যা হয়

লিভারে চর্বি জমলে স্বাভাবিক কাজ কিছুটা ব্যহত হয়। খাওয়ার ইচ্ছে কমে যায়, খাবারে অরুচি হয়, দ্রুত ওজন কমা, বমি বমি ভাব, বমিও হওয়া, খুব দুর্বল লাগা ও কোনো কাজ করতে ইচ্ছে করে না। ৪. ফ্যাটি লিভার হলে মাথাব্যথা, মন খারাপ ও ডিপ্রেশন, আচমকা কাঁপুনিসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়।

লিভারে চর্বি জমলে স্বাভাবিক কাজ কিছুটা ব্যহত হয়। খাওয়ার ইচ্ছে কমে যায়, খাবারে অরুচি হয়, দ্রুত ওজন কমা, বমি বমি ভাব, বমিও হওয়া, খুব দুর্বল লাগা ও কোনো কাজ করতে ইচ্ছে করে না। ৪. ফ্যাটি লিভার হলে মাথাব্যথা, মন খারাপ ও ডিপ্রেশন, আচমকা কাঁপুনিসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়।

ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে প্রধান চিকিৎসা হলো ওজন নিয়ন্ত্রণ করা। কারও ডায়াবেটিস, ব্লাড প্রেসার, কোলেস্টেরল থাকলে সেগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ফ্যাটি লিভার অনেক কমন একটি রোগ এবং এটি প্রতিরোধযোগ্য।

মন্তব্য করুন