রাজনীতি১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ সফল করতে রাজধানীতে জামায়াতের লিফলেট বিতরণ
১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ সফল করতে রাজধানীতে জামায়াতের লিফলেট বিতরণ
১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ সফল করতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আজ রাজধানীতে লিফলেট বিতরণ করেছে।
১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে এবং সর্বস্তরের জনগণকে এতে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজধানীতে লিফলেট বিতরণ করেছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে এই লংমার্চের প্রচারণায় আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তারা এই কার্যক্রম পরিচালনা করে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের নেতাকর্মীরা লিফলেট বিতরণ শুরু করেন। তারা রাজধানীর গোলাপ শাহ মাজার মসজিদ থেকে এই কার্যক্রম শুরু করে গুলিস্তান এলাকায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিতরণ করেন।
লিফলেট বিতরণ-পূর্ব এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হেলাল উদ্দিন বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, একই দিনে দুটি নির্বাচন হলেও বিএনপি ক্ষমতার জন্য একটি মেনে নিলেও সংস্কারের জন্য অন্যটি মেনে নেয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএনপি রাষ্ট্র সংস্কার চায় না বলেই গণভোটে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণের গণরায় উপেক্ষা করেছে।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার হলে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বিএনপি গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে পুরোনো ফ্যাসিবাদী পথে যাত্রা শুরু করেছে। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন, ক্ষমতার জোরে বিএনপি আজ গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলেও একদিন তাদেরকেই জুলাই সনদের দাবিতে আন্দোলন করতে হবে।
বিএনপির অতীতের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সহজে মেনে না নিয়ে বিএনপি নিজেদের এবং দেশের ক্ষতি করেছে। একইভাবে গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করেও তারা নিজেদের ও দেশের ক্ষতি করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রসঙ্গে বিএনপি একসময় বলেছিল, 'পাগল আর শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়।' পরবর্তীতে বিএনপিকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করতে হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ড. হেলাল উদ্দিন ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো: ‘গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন’, ‘জুলাই গণহত্যার বিচার’, ‘বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন’, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ’, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন’ এবং ‘সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ’। এই ছয় দফা দাবিতেই ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি ঢাকাবাসীকে লংমার্চে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই ছয় দফা দাবি ১১ দলীয় ঐক্যের স্বার্থে নয়, জনগণের স্বার্থে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এসব দাবি আদায়ে ১১ দলীয় ঐক্য সংসদে এবং রাজপথে ভূমিকা রাখবে। সরকার জনগণের গণদাবি সংসদে মেনে না নিলে রাজপথেই ছয় দফা দাবি আদায় করা হবে বলে তিনি জানান।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি নিজের মন্ত্রণালয়ে ব্যর্থ হলেও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের দায়িত্ব পালনে মরিয়া। নিজের মন্ত্রণালয়ে ব্যর্থ হয়ে অন্য মন্ত্রীদের পক্ষে সংসদে ও সংসদের বাইরে বক্তব্য দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘সবজান্তা সর্বমন্ত্রী’ হিসেবে জাতির কাছে হাস্যরসে পরিণত হয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আগামী শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। জামায়াতের নেতাকর্মীরা ঢাকাবাসীর প্রতি এই লংমার্চে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়ে গুলিস্তান এলাকায় লিফলেট বিতরণ করেন।
এ সময় সংগঠনের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য কামরুল আহসান হাসান, শাহবাগ পূর্ব থানা আমীর আহসান হাবীবসহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, একই লংমার্চ সফল করতে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে ফেনীর মহিপাল এলাকায় লিফলেট বিতরণ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। মহিপাল প্লাজা থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়।
নেতাকর্মীরা তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ফ্লাইওভারের নিচ থেকে নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বাস টার্মিনালসহ মহিপালের বিভিন্ন এলাকায় জনসাধারণ ও ব্যবসায়ীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন। এরপর তারা ফ্লাইওভারের নিচে এসে মিলিত হন।
লিফলেট বিতরণে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঞা, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ফেনী জেলা আমির মুফতি আবদুল হান্নান, নায়েবে আমির অধ্যাপক আবু ইউসুফ, ছাগলনাইয়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাফর আহমদ মোল্লা, শহর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি মিজানুর রহমান, মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক জাকির হোসেন রুবেলসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
মতামত (0)