রাজনীতি

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনার দাবি বিরোধীদলীয় নেতার

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনার দাবি বিরোধীদলীয় নেতার
আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনার দাবি বিরোধীদলীয় নেতার
সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী চারজন হাফেজকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সংবর্ধনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী চারজন হাফেজকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সংবর্ধনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া এই চার প্রতিযোগীই বিজয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং বাকি তিনজন বিভিন্ন গ্রুপে দ্বিতীয় হন। এই সাফল্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ শতভাগ সফলতা অর্জন করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ডা: শফিকুর রহমান আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে অবস্থিত বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান। বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা দেওয়ার পর এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, বিশ্বমঞ্চে, বিশেষ করে বায়তুল হারামের মতো সম্মানিত স্থানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সময় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা প্রদর্শিত হয়েছে। এটি একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। এর আগে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা দেখা গেলেও এই অর্জনকে তিনি অনন্য হিসেবে তুলে ধরেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রীড়া, সংস্কৃতিসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সংবর্ধনা ও সম্মাননা দেওয়া হয়। তবে হাফেজে কোরআনরা বারবার বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে উজ্জ্বল করলেও রাষ্ট্র তাদের জন্য তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তিনি এই বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানান।

গতকাল সংসদে বিরোধীদলীয় সদস্য ডা: শফিকুল ইসলাম মাসুদ এই বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি সরকারকে বিজয়ীদের সম্মানিত করার দাবি জানিয়েছিলেন। ডা: শফিকুর রহমান আজ আবারও একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, তাদের সম্মানিত করা হলে দেশও সম্মানিত হবে।

বিরোধীদলীয় নেতা আরও মন্তব্য করেন, শুধু সংবর্ধনা নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে যারা সাফল্য অর্জন করেছেন, তাদের আরও বিভিন্নভাবে সম্মানিত করার সুযোগ রয়েছে। সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ডা: শফিকুর রহমান নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নৈতিক শিক্ষার যত বেশি বিকাশ হবে, রাষ্ট্রে তত বেশি ভালো নাগরিক তৈরি হবে। একটি উন্নত দেশ গড়তে ভালো নাগরিকের প্রয়োজন অপরিহার্য।

তিনি বলেন, ইসলামী শিক্ষা অনেকটা উপেক্ষিত। তারা সংসদে এ বিষয়ে কথা বলেছেন এবং ভবিষ্যতেও বলবেন। ধর্মীয় শিক্ষার বিকাশের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্র আরও উপকৃত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কওমি ও হিফজ শিক্ষাব্যবস্থার সাথে যুক্তদের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার ন্যায্য অংশ দেওয়ার দাবি জানান ডা: শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, যারা কওমি শিক্ষাব্যবস্থা ও হিফজের শিক্ষা ধরে রেখেছেন, তাদের প্রতি সরকারের যথাযথ ‘কমিটমেন্ট বা ডেলিভারি’ নেই।

তিনি এটিকে বৈষম্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এর বিরুদ্ধে তারা কথা বলেছেন এবং তাদের প্রাপ্য অংশ তাদের দিতে হবে। এটি চাওয়ার বিষয় নয়, এটি দেওয়ার এবং কর্তব্য পালনের বিষয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিজয়ী হাফেজদের পাশাপাশি তাদের গড়ে তোলা শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। তাদের দুনিয়া ও আখেরাতে মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য তিনি দোয়া করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণে সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদও সেখানে ছিলেন। তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ডক্টর খলিলুর রহমান মাদানীও উপস্থিত ছিলেন। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ছাত্র, শিক্ষক এবং অভিভাবকরাও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...