বিনোদন

আইয়ুব বাচ্চুর গানের ‘উত্তরাধিকার’ প্রকল্প স্থগিত, প্রত্যাহার ৪ গান

আইয়ুব বাচ্চুর গানের ‘উত্তরাধিকার’ প্রকল্প স্থগিত, প্রত্যাহার ৪ গান
আইয়ুব বাচ্চুর গানের ‘উত্তরাধিকার’ প্রকল্প স্থগিত, প্রত্যাহার ৪ গান
আইয়ুব বাচ্চুর জনপ্রিয় ২০টি গান নতুন সংগীতায়োজনে প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া ‘উত্তরাধিকার’ প্রকল্পটি সমালোচনার মুখে স্থগিত করা হয়েছে। প্রকাশিত ৭টি গানের মধ্যে ৪টি প্রত্যাহার এবং বাকি ১৩টি অপ্রকাশিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আইয়ুব বাচ্চুর জনপ্রিয় ২০টি গান নতুন সংগীতায়োজনে প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া ‘উত্তরাধিকার’ নামের প্রকল্পটি স্থগিত করা হয়েছে। এই প্রকল্পে আটটি ব্যান্ড ও ১২ জন শিল্পীর গান করার কথা ছিল। গত ১৬ আগস্ট শিল্পীর জন্মদিনে প্রকল্পটি বেশ আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়।

প্রকল্পের আওতায় ৭টি গান প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে এই সিদ্ধান্ত আসে। প্রকাশিত গানগুলোর মধ্যে তিনটি গান ছাড়া বাকি চারটি ইউটিউব, স্পটিফাইসহ সব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রত্যাহার করে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বাকি ১৩টি গানও আপাতত প্রকাশ করা হবে না।

আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিনে সিডি আকারে অ্যালবামটি প্রকাশের কথা থাকলেও তা সেদিন সম্ভব হয়নি। এর বদলে স্পটিফাই, ইউটিউবসহ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গানগুলো প্রকাশ শুরু হয়। প্রথম গান হিসেবে বাপ্পা মজুমদারের কণ্ঠে ‘রুপালি গিটার’ প্রকাশিত হয়।

এরপর একে একে আরও ছয়টি গান প্রকাশ করা হয়। সোনার বাংলা সার্কাস ব্যান্ড গেয়েছে ‘গতকাল রাতে’, কানিজ সুবর্ণার কণ্ঠে এসেছে ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, জয় শাহরিয়ার গেয়েছেন ‘কষ্ট কাকে বলে’। এছাড়া পলাশের কণ্ঠে ‘আপন কেহ নাই’, অটামনাল মুনের কণ্ঠে ‘হকার’ এবং অদিত গেয়েছেন ‘ঘুমন্ত শহরে’।

প্রকাশিত এই সাতটি গানের মধ্যে বাপ্পা মজুমদার, সোনার বাংলা সার্কাস ও পলাশের গাওয়া গান তিনটি ছাড়া বাকিগুলো তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। বাচ্চুভক্তরা এসব গানের গায়কির পাশাপাশি নতুন সংগীতায়োজন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

এই সমালোচনার পর ‘উত্তরাধিকার’ প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কয়েক দফা আলোচনা করেন। গত রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার ধানমন্ডির একটি কফি শপে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সব অংশীজন বৈঠকে মিলিত হন।

সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, প্রকাশিত চারটি গান প্রত্যাহার করা হবে এবং অপ্রকাশিত ১৩টি গান আপাতত প্রকাশ করা হবে না। আইয়ুব বাচ্চুর দীর্ঘদিনের সহযাত্রী ও এলআরবি সদস্য শামীম আহমেদ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

শামীম আহমেদ বলেন, আইয়ুব বাচ্চু সবার কাছে একটা আবেগের বিষয়। তাঁর কালজয়ী সৃষ্টির এভাবে অবমূল্যায়ন হতে পারে না, এ ব্যাপারে সবাই একমত হয়েছেন। শিগগিরই বসের পরিবারের সবার সঙ্গে কথা বলে তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে একটি প্যানেল করা হবে।

তিনি আরও জানান, সেই প্যানেল গানগুলো ঠিকঠাক মনে করলে তখন সেগুলো প্রকাশ করা হবে। আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী ফেরদৌস আক্তারও প্রকল্পটি আপাতত স্থগিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ কেউ জানিয়েছেন, আইয়ুব বাচ্চুকে ভালোবেসে এসব গান তাঁদের পক্ষ থেকে একটি ট্রিবিউট। এই প্রকল্পে তাঁরা কেউই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হননি বলে দাবি করেন। গান ভালো না লাগার অধিকার সবার আছে, তবে আইয়ুব বাচ্চুর গান কেউ গাইতে পারবেন না, এমনটা বলা এক রকম উগ্রবাদী আচরণ বলে তাঁরা মন্তব্য করেন।

প্রকল্প থেকে অর্জিত অর্থ আইয়ুব বাচ্চু মিউজিয়াম তৈরিতে ব্যয় করার কথা ছিল।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...