বিনোদন

ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে দেখার আহ্বান শাবানার

ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে দেখার আহ্বান শাবানার
ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে দেখার আহ্বান শাবানার
অভিনেত্রী শাবানা আজমি ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে মানুষকে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ও জাভেদ আখতার তাদের এই অবস্থানের জন্য উগ্রপন্থীদের আক্রমণের শিকার হয়েছেন।

অভিনেত্রী শাবানা আজমি সম্প্রতি ধর্মীয় বিভাজন নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। তিনি এবং তার স্বামী, গীতিকার-চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার মানুষকে ধর্মের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বিশ্বাস করেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দিক।

শাবানা আজমি জানিয়েছেন, তাদের এই অবস্থানের কারণে ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের কাছ থেকে তারা নানা আক্রমণের শিকার হয়েছেন। কখনো তাদের সন্ত্রাসবাদী বলা হয়েছে, আবার কখনো ফতোয়া পাঠানো হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও তারা নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেননি।

অভিনেত্রী মনে করেন, এই বিভাজনকে শুধু হিন্দু-মুসলিম হিসেবে দেখা ভুল। তার ভাষায়, আসল বিভাজন হলো উদারপন্থী ও উগ্রপন্থীদের মধ্যে। একজন উদারপন্থী হিন্দু এবং একজন উদারপন্থী মুসলমানের চিন্তাভাবনার মধ্যে অনেক মিল রয়েছে।

একইভাবে, উগ্রপন্থী হিন্দু ও উগ্রপন্থী মুসলমানের চিন্তাভাবনার মধ্যেও মিল দেখা যায়। শাবানা এমন একটি ভারতীয় সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করেন, যেখানে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে। তিনি ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে তার বৈচিত্র্য ও সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে উল্লেখ করেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’ ছবির প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। ওই ছবিতে সানি দেওল একজন মুসলিমের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, কিন্তু ছবিটি দর্শকদের মধ্যে প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি। শাবানা মনে করেন, বর্তমান সময়ের ধর্মীয় বিভাজনের পরিবেশ এর একটি কারণ হতে পারে।

তিনি অতীতের হিন্দি ছবির উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, একসময় অভিনেতাদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে দর্শকদের এতটা ভাবনা ছিল না। অভিনেতারা সহজেই ভিন্ন ধর্মের চরিত্রে অভিনয় করতেন এবং দর্শকেরা তা স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতেন।

অমিতাভ বচ্চনের অভিনয় প্রসঙ্গে শাবানা উল্লেখ করেন, তিনি ‘কুলি’ ছবিতে একজন মুসলিমের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ‘দিওয়ার’ ছবিতেও তার চরিত্রের সঙ্গে ‘৭৮৬’ সংখ্যাটির বিশেষ সম্পর্ক ছিল। তখন এসব নিয়ে দর্শকদের মধ্যে কোনো আপত্তি দেখা যায়নি।

শাবানা প্রশ্ন তোলেন, সময়ের সঙ্গে কি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে? এখন কি কোনো অভিনেতা কোন ধর্মের চরিত্রে অভিনয় করছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে? তার মতে, এমন পরিস্থিতি সমাজের জন্য ভালো নয়।

তিনি আরও জানান, তারা ধর্মকে মানুষের পরিচয়ের একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে দেখেন না। বরং মানুষের চিন্তাভাবনা, মূল্যবোধ ও আচরণই তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

শাবানা ও জাভেদ আখতার দুজনই বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় উগ্রতার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তাদের এই অবস্থানের কারণে নানা সময়ে সমালোচনা ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। শাবানার বক্তব্য, এসব চাপ বা হুমকি তাদের বিশ্বাস বদলাতে পারেনি, বরং তারা মনে করেন, ধর্মীয় বিভাজনের বদলে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সহনশীলতা বাড়ানো প্রয়োজন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...