শিক্ষা

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে দুই ইবি শিক্ষার্থীর সন্ধান দাবি, ১৪ বছর পরও মেলেনি খোঁজ

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে দুই ইবি শিক্ষার্থীর সন্ধান দাবি, ১৪ বছর পরও মেলেনি খোঁজ
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে দুই ইবি শিক্ষার্থীর সন্ধান দাবি, ১৪ বছর পরও মেলেনি খোঁজ
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ওয়ালীউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের নিখোঁজ হওয়ার ১৪ বছর পরও তাদের সন্ধান মেলেনি। পরিবার ও শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

আজ ৩০ আগস্ট, আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে বিশ্বজুড়ে এই দিনটি পালিত হয়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছেও দিনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও খোঁজ না মেলা দুই শিক্ষার্থী ওয়ালীউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের ঘটনা প্রতি বছর এই দিনে স্মরণ করা হয়।

আল ফিকহ্ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়ালীউল্লাহ এবং আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আল মুকাদ্দাস ২০১২ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি রাতে নিখোঁজ হন। ২৯ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত তাদের নিখোঁজ হওয়ার পর ১৪ বছর ৬ মাস ২৫ দিন কেটে গেছে। দীর্ঘ এই সময়েও তাঁদের কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মুকাদ্দাস ২০১২ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় গিয়েছিলেন। ৪ঠা ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি ও তার বন্ধু ওয়ালীউল্লাহ রাজধানীর কল্যাণপুর থেকে কুষ্টিয়াগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। বাসের সুপারভাইজারের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসটি দিবাগত রাত ১২টার দিকে সাভারের নবীনগর এলাকায় পৌঁছালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ৮ থেকে ১০ জন লোক বাসে ওঠে। তারা মুকাদ্দাস ও ওয়ালীউল্লাহকে বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ মেলেনি।

ঘটনার পর ৬ ফেব্রুয়ারি মুকাদ্দাসের চাচা আবদুল হাই রাজধানীর দারুস সালাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওয়ালীউল্লাহর নিখোঁজের বিষয়ে তার বড় ভাই খালেদ সাইফুল্লাহ ৮ ফেব্রুয়ারি আশুলিয়া থানায় জিডি দায়ের করেন। পুলিশ ও র‍্যাবসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও কোনো সুরাহা না পেয়ে নিখোঁজ দুই ছাত্রের পরিবার হাইকোর্টে দুটি রিট পিটিশন দায়ের করে।

ওই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুল জারি করেন। তারা স্বরাষ্ট্রসচিব ও আইজিপিসহ ৯ কর্মকর্তার প্রতি নিখোঁজদের কেন আদালতে সশরীর হাজির করা হবে না, তা জানতে চান। নির্ধারিত সময়ে কর্মকর্তারা আদালতকে জানান, তারা দুই ছাত্রের কোনো সন্ধান পাননি।

পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ৯ মে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে লিভ টু আপিল করার নির্দেশ দেন। লিভ টু আপিলের শুনানি শেষে বিচারপতি বজলুর রহমান ও বিচারপতি আকরাম হোসেন চৌধুরীর বেঞ্চ পর্যবেক্ষণসহ রিটটি খারিজ করে দেন। এতে হাইকোর্টের পূর্বের আদেশ বাতিল হয়ে যায়।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, ২০১২ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের সহায়তায় তাদের গুম করা হলেও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। তিনি এটিকে রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেন। গুমের পরিকল্পনায় জড়িত শিক্ষক-কর্মকর্তারা এখনো স্বপদে বহাল থাকায় তিনি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি অবিলম্বে কুশীলবদের আইনের আওতায় আনা এবং দুই শিক্ষার্থীর সন্ধান নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানান। অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন। তিনি আরও বলেন, সন্তানহারা অসুস্থ বাবা-মায়ের দীর্ঘদিনের আহাজারি বন্ধে অবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।

ইউসুফ আলী স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়, তা নিশ্চিত করার কথা বলেন। কোনো স্বাধীনচেতা নাগরিক যেন আর গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার না হন, সে বিষয়ে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে দেশে যেকোনো ধরনের নতুন ফ্যাসিবাদের অপছায়া অঙ্কুরেই উপড়ে ফেলতে তিনি দেশের সচেতন নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “গভর্নমেন্ট এ ব্যাপারে কাজ করছে। আশাকরি গভর্নমেন্ট এটা নিয়ে পদক্ষেপ নিবে।” আজ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে এসে নিখোঁজ ওয়ালীউল্লাহ ও মুকাদ্দাসের পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুনরায় এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছেন। স্বজনরা জীবিত কিংবা মৃত, প্রিয় মানুষগুলোর অন্তত চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে স্পষ্ট সত্য জানতে চান।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...