লিওনেল মেসি ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন। আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার ২০৭ ম্যাচের দীর্ঘ পথচলায় অসংখ্য রেকর্ড ও অর্জন যুক্ত হয়েছে, যা তাকে সর্বকালের সেরাদের কাতারে রেখেছে।
লিওনেল মেসি ২১ বছরের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন। গতকাল সোমবার ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকাশি-সাদা জার্সিতে তার পথচলার ইতি টানার কথা জানিয়েছেন। অনেকের চোখেই সর্বকালের সেরা এই খেলোয়াড় আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০৭টি ম্যাচ খেলেছেন।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট হাঙ্গেরির বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমে। তার শেষ ম্যাচ ছিল ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি দেশের হয়ে মোট ১৭ হাজার ১২০ মিনিট খেলেছেন।
আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হয়ে মেসি বিশ্বকাপ (২০২২), কোপা আমেরিকা (২০২১ ও ২০২৪) এবং ফিনালিসিমা (২০২২) জয় করেছেন। তার ক্যারিয়ারে এই তিনটি ট্রফি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
মেসি সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে ও চিলির বিপক্ষে। গোল করার ক্ষেত্রে তিনি বলিভিয়ার বিপক্ষে সবচেয়ে সফল ছিলেন। এছাড়া ইকুয়েডর ও ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ৭টি করে গোল করেছেন তিনি।
২০২২ সালে এস্তোনিয়ার বিপক্ষে এক প্রীতি ম্যাচে মেসি একাই ৫ গোল করেন, যা আর্জেন্টিনার জার্সিতে এক ম্যাচে তার সর্বোচ্চ গোল। একই বছর তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ সংখ্যক গোল করার রেকর্ড গড়েন। আর্জেন্টিনার হয়ে মোট ৪৫টি দেশের বিপক্ষে গোল পেয়েছেন মেসি।
লিওনেল মেসি দুটি বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল জেতা একমাত্র ফুটবলার। বিশ্বকাপে তিনি ১৬ বার ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন, যা একটি রেকর্ড। তিনি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সাথে যৌথভাবে ৬টি বিশ্বকাপে খেলেছেন, যা সর্বোচ্চ।
বিশ্বকাপে মেসি ৩৪টি ম্যাচ খেলেছেন, যা সর্বোচ্চ। বিশ্বকাপে তার জয়ের সংখ্যা ২৩টি, যা এই প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ জয়। তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথম একাদশে থাকা একমাত্র খেলোয়াড় তিনি।
৩৯ বছর ২৫ দিন বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলে মেসি সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার রেকর্ড গড়েন। বিশ্বকাপ ও মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট মিলিয়ে তার গোল সংখ্যা ৩৫টি, যা সর্বোচ্চ। বিশ্বকাপে তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১টি গোল করেছেন, কিলিয়ান এমবাপ্পে ২২ গোল নিয়ে তার ওপরে আছেন।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২৫টি গোল করেছেন। পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ১৪৬ গোল নিয়ে তার ওপরে আছেন। আন্তর্জাতিক ম্যাচে তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২০৭টি ম্যাচ খেলেছেন, রোনালদো ২৩৩ ম্যাচ নিয়ে এই রেকর্ডে তার ওপরে রয়েছেন।
মেসির অবসরের ঘোষণায় তার সতীর্থরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। সতীর্থ নিকো পাজ তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, "না, লিওওও। তোমার দেওয়ার মতো আরও অনেক বাকি আছে।" এনজো ফার্নান্দেজ ২০১৬ সালে মেসির প্রথম অবসরের প্রসঙ্গ টেনে ফিরে আসার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং একসঙ্গে বিশ্বকাপ জেতার কথা স্মরণ করেছেন। তিনি বলেন, মেসি ছাড়া পরবর্তী জাতীয় দলের ক্যাম্প কল্পনা করা কঠিন।
রদ্রিগো দি পল ইনস্টাগ্রামে মেসিকে "সর্বকালের সেরা" উল্লেখ করে দেশের প্রতি তার ভালোবাসা, হার না মানার মানসিকতা, অবিচার সহ্য করার শক্তি এবং খেলোয়াড়দের প্রতি মানবিকতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। লাওতারো মার্তিনেজ বলেছেন, মেসি মাঠের বাইরেও তাদের অনেক কিছু শিখিয়েছেন, যেমন কখনো হার না মানা, চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া এবং নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখা। তিনি মেসির নেতৃত্বকে গোল, অ্যাসিস্ট বা শিরোপার ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন।
আনহেল দি মারিয়া ইনস্টাগ্রামে "চিরকালীন ধন্যবাদ, অধিনায়ক" লিখে তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। লিয়ান্দ্রো পারেদেস এই খবর শুনে প্রস্তুত ছিলেন না জানিয়ে মেসির অবদান, খেলোয়াড় হিসেবে মহানুভবতা এবং মানুষ হিসেবে অসাধারণ গুণের জন্য অশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
মতামত (0)