খেলাধুলাবেটিং তদন্তে ফোন জব্দ, আদালতের পর আইসিসিতে রিজওয়ান
বেটিং তদন্তে ফোন জব্দ, আদালতের পর আইসিসিতে রিজওয়ান
মোহাম্মদ রিজওয়ানের মুঠোফোন বেটিং তদন্তে জব্দ হওয়ার পর আদালতের আবেদন খারিজ হয়। এরপর তিনি আইসিসির দ্বারস্থ হয়েছেন।
মোহাম্মদ রিজওয়ানের মুঠোফোন এখনো তাঁর কাছে নেই। ইংল্যান্ড সফরের সময় পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ) তাঁর ফোনটি জব্দ করে। পরে সেটি পাকিস্তানে নিয়ে ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় পাকিস্তানের ইংল্যান্ড সফরকে ঘিরে। সেই টেস্ট সিরিজ চলাকালে পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমের কিছু তথ্য বাইরে চলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে এনসিসিআইএ।
তদন্তের অংশ হিসেবে রিজওয়ান ও পাকিস্তানের টেস্ট ওপেনার ইমাম-উল-হককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। চলতি মাসের শুরুতে লাহোরের কার্যালয়ে তাঁদের দুজনকে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে প্রশ্ন করা হয়। ইংল্যান্ডে অনুশীলন ও ম্যাচের সময় তাঁরা কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং কার সঙ্গে দেখা করেছেন, এসব বিষয়েও তথ্য জানতে চাওয়া হয়।
এনসিসিআইএ শুধু ড্রেসিংরুমের তথ্য ফাঁসের বিষয়েই তদন্ত করছে না। তারা অনলাইন বেটিং ও জুয়াসংক্রান্ত বিষয়েও তদন্ত পরিচালনা করছে। জিও নিউজের খবর অনুযায়ী, রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হককে এই বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।
এনসিসিআইএর তলব পাওয়ার পর থেকেই রিজওয়ান এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, সংস্থাটির নোটিশে অনলাইন বেটিং ও জুয়া নিয়ে তদন্তের কথা বলা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ উল্লেখ করা হয়নি। এনসিসিআইএর সামনে হাজির হয়েও তিনি অভিযোগের বিস্তারিত জানতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁকে স্পষ্ট কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ কারণে রিজওয়ান ফোন জব্দের প্রক্রিয়া ও এনসিসিআইএর নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছিলেন। লাহোর হাইকোর্টে গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁর আবেদনের ওপর শুনানি হয়। শুনানিতে রিজওয়ানের আইনজীবী জানান, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।
তবে শুনানির এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি আলিয়া নীলম আইনজীবীর ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপরই লাহোর হাইকোর্ট রিজওয়ানের আবেদন খারিজ করে দেন। এতে আদালতের মাধ্যমে তিনি কোনো প্রতিকার পাননি।
আদালতের আবেদন খারিজ হওয়ার পর রিজওয়ান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-এর দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের কাছে বিষয়টি নিয়ে গেছেন।
রিজওয়ান আইসিসিকে জানতে চেয়েছেন যে, তাঁর মুঠোফোন জব্দ করা, সেটি ইংল্যান্ড থেকে পাকিস্তানে নেওয়া এবং ফরেনসিক পরীক্ষা করার বিষয়ে আইসিসি বা ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) কিছু জানত কি না। তিনি আরও জানতে চেয়েছেন যে, এই প্রক্রিয়ায় তারা জড়িত ছিল কি না।
জিও নিউজের খবর অনুযায়ী, রিজওয়ানের এই অনুসন্ধান কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ হিসেবে করা হয়নি। বরং তিনি জানতে চেয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ধারা অনুযায়ী হয়েছে কি না। একই সঙ্গে সামনে তাঁর কী করা উচিত, সে বিষয়েও আইসিসির দিকনির্দেশনা চেয়েছেন তিনি।
রিজওয়ানের ফোন জব্দের আগে সেটি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) হেফাজতে ছিল। পরে পরীক্ষার জন্য ফোনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। চলমান তদন্তের কারণে এ বিষয়ে পিসিবি বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।
এই ঘটনাগুলোর সময়েই পাকিস্তানের টেস্ট দলেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে হারের পর রিজওয়ান, ইমাম-উল-হকসহ সাত ক্রিকেটারকে টেস্ট দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। একই সময়ে হেড কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকেও তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
মতামত (0)