রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেওয়া রবিউল ইসলামকে চতুর্থ দফায় রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুল্লাহ পিয়াসের আদালত শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এই তথ্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) রমনা বিভাগের ধানমন্ডি জোনাল টিমের পরিদর্শক মো. নূর আলম আসামিকে আদালতে হাজির করেন। তিনি আদালতের কাছে রবিউলের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছিলেন। শুনানিতে আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন পেশ করে।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষ রবিউলের রিমান্ডের পক্ষে জোর যুক্তি তুলে ধরে। উভয় পক্ষের বিস্তারিত শুনানি শেষে আদালত রবিউলের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রবিউল ইসলাম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গৌরিভোজ গ্রামের বাসিন্দা। তাকে রাজধানী ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর রোডের ৬০ নম্বর বাসার সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩-এর ৩, ৩এ, ৪, ৫ ও ৯ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, রবিউলের কাছ থেকে জব্দ করা পাসপোর্ট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স পর্যালোচনা করে তথ্যে বড় ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে। তিনি নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে দাবি করলেও, তার পাসপোর্টে জন্মস্থান হিসেবে সৌদি আরবের ‘রিয়াদ’ উল্লেখ করা আছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, গত ১০ থেকে ১২ বছরে রবিউল ১৫ বারের বেশি ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসায় বাংলাদেশে যাতায়াত করেছেন। তবে এই ঘন ঘন সফরের বিষয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেননি। সর্বশেষ তিনি গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন এবং ১৫ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অবস্থান করেন।



মতামত (0)