সারাদেশকুমিল্লায় কিশোর গ্যাং 'আর স্কোয়াড' প্রধান রতন গ্রেপ্তার
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং 'আর স্কোয়াড' প্রধান রতন গ্রেপ্তার
কুমিল্লায় আলোচিত কিশোর গ্যাং 'আর স্কোয়াড'-এর প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতন ও তাঁর সহযোগী সাইফুল ইসলামকে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা ডিবি পুলিশ। রতনের বিরুদ্ধে খুনসহ ৯টি মামলা রয়েছে।
কুমিল্লা নগরের আলোচিত কিশোর গ্যাং ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াড’-এর প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গতকাল শুক্রবার কক্সবাজার থেকে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাইফুল ইসলামসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ শনিবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা ডিবি পুলিশের কার্যালয়ের সামনে গ্রেপ্তার হওয়া চারজন কিশোর গ্যাং নেতাকে দেখা গেছে।
২৫ বছর বয়সী রতনকে ‘আর স্কোয়াড’ বা ‘র (Raw) স্কোয়াড’-এর মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পুলিশ চিহ্নিত করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে খুনসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৯টি মামলা রয়েছে। ২০ বছর বয়সী সাইফুল ইসলামকে রতনের ‘ডান হাত’ হিসেবে দাবি করেছে পুলিশ। সাইফুলের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অপরাধে ১০টি মামলা রয়েছে।
কিশোর গ্যাংবিরোধী পুলিশের পঞ্চম দফার অভিযানে রতন ও সাইফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই অভিযানে মোট ৩৭০ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৭৯ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
বাকি ৯১ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই ৯১ জনের মধ্যে ‘ক্রাইম সেটআপ’ নামের আরেকটি কিশোর গ্যাংয়ের শীর্ষ নেতা মো. সাব্বির ওরফে ‘পয়েন্ট সাব্বির’ (২৪) ও তাঁর সহযোগী রবিউল ইসলাম নবী ওরফে ‘কিং মেকার’ (২৪) রয়েছেন। কুমিল্লা জেলা ডিবি পুলিশের কার্যালয়ের সামনে রতন, সাইফুল, সাব্বির এবং নবীকে দেখা গেছে।
গত কয়েক বছর ধরে কুমিল্লা নগরের মানুষের কাছে ‘আর স্কোয়াড’ আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়ায়। এই গ্যাংয়ের প্রধান রতন এর আগেও পুলিশ, র্যাব এবং সেনাবাহিনীর অভিযানে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁর সহযোগীরাও বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
সচেতন নাগরিকেরা বলছেন, সদস্যদের গ্রেপ্তার হওয়ার পরও ‘আর স্কোয়াডের’ দৌরাত্ম্য বেড়েছে। একজন গ্রেপ্তার হওয়ার পর অন্য কেউ গ্যাংটির সামনে এসেছেন, অথবা নেতা আত্মগোপনে গেলে ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমে গ্রুপের কার্যক্রম চালু থাকে।
২০২২ সালের ১৯ আগস্ট কুমিল্লা নগর উদ্যানের সামনের সড়কে আওয়ার লেডি অব ফাতিমা স্কুলের সামনে ১৭ বছর বয়সী কিশোর শাহাদাত হোসেনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পর রতন গ্রুপ বা ‘আর স্কোয়াড’ আলোচনায় আসে। র্যাব তখন রতনকে ওই মামলার প্রধান আসামি এবং রতন গ্রুপের প্রধান হিসেবে উল্লেখ করেছিল।
ওই ঘটনায় র্যাব জানিয়েছিল, রতন ও ইগল গ্রুপের আধিপত্যের দ্বন্দ্বের জেরে শাহাদাতকে হত্যা করা হয়। পুলিশ, র্যাব ও ডিবির অভিযানে মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানানো হয়েছিল। শাহাদাত হত্যা মামলার পর থেকেই কুমিল্লা নগরের কিশোর গ্যাংয়ের আলোচনায় রতন গ্রুপের নাম স্থায়ীভাবে চলে আসে।
পুলিশের ভাষ্য ও বিভিন্ন মামলার তথ্য অনুযায়ী, এই গ্রুপটির সদস্যদের বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার, সংঘর্ষ, অস্ত্রের মহড়া, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০১৫ সালের পর কুমিল্লা নগরে এই ‘গ্যাং কালচার’ ছড়িয়ে পড়েছিল। শুরুর দিকের আতঙ্ক ছড়ানো গ্রুপগুলোর মধ্যে ‘আর স্কোয়াড’ অন্যতম।
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল নগরের ধর্মসাগরপাড়ের রানীর কুঠি এলাকায় নাফিজ অময় নামের এক যুবককে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটে। তাঁকে কুপিয়ে একটি হাত প্রায় বিচ্ছিন্ন করা হয়। এই ঘটনায় করা মামলায় রতন, তাঁর সহযোগী সাইফুলসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল।
এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৫০ জনকে আসামি করা হয়। ওই সময়ে নাফিজের এক বন্ধুর বক্তব্যে রতন ও সাইফুলের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দলের হামলার অভিযোগ উঠে আসে।
২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল নগরের রানীর দিঘির পাড়, তালপুকুর পাড় ও আদালতপাড়ায় কিশোর গ্যাংয়ের বিভিন্ন পক্ষের অস্ত্রের মহড়ার খবর আসে। এর পরদিন ২৬ এপ্রিল রাতে র্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে রতনসহ ১৮ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রকার অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়।
মতামত (0)