জাতীয়

বিশিষ্ট সাহিত্যিক আখতার হুসেনের জীবনাবসান

বিশিষ্ট সাহিত্যিক আখতার হুসেনের জীবনাবসান
বিশিষ্ট সাহিত্যিক আখতার হুসেনের জীবনাবসান
বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সংবাদ মাধ্যমের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আখতার হুসেন আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মারা গেছেন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণসহ দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় ভুগে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বিশিষ্ট সাহিত্যিক এবং একটি সুপরিচিত সংবাদ মাধ্যমের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আখতার হুসেন আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মারা গেছেন। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেলা একটার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্যানসার, হৃদ্‌রোগ এবং অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের মতো জটিল শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকরা তার সুস্থতার বিষয়ে আশাবাদী ছিলেন, কিন্তু তার শরীর আর লড়াই চালিয়ে যেতে পারেনি।

আখতার হুসেন শুভ্রতার প্রতীক ও সরলতার উদাহরণ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাকে দেশের অন্যতম সেরা কিশোর সাহিত্যিক ও ছড়াকার হিসেবে গণ্য করা হতো। বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রাপ্তির সময় তার হাসি ও নম্রতা অনেককে মুগ্ধ করেছিল।

তিনি নিজেকে কখনো বড় করে দেখাতেন না। বহু অসহায় পরিবারকে তিনি নীরবে সহায়তা করতেন। মানুষের কষ্টের খবর পেলে তিনি তাদের পাশে দাঁড়াতেন, যা তার সাহিত্যের মতোই সরল ও নিঃশব্দ ছিল।

তার লেখা ছড়াগুলো স্কুলের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা শিশুরা এখনো মুখস্থ করে। তার একটি পরিচিত ছড়ার শুরু এমন ছিল: "হ্যাঁরে, খবরটা কি উড়ো? শুনতে পেলাম নিখিলপুরের চার–চারটে বুড়ো কাঁদেন কেবল লাগিয়ে চোখে শুকনো মরিচ গুঁড়ো"। আরেকটি ছড়ায় তিনি শিশুদের অভিযোগ ও আত্মপক্ষ সমর্থন অত্যন্ত সহজে তুলে ধরেছিলেন: "মা-ও বলেন, বাবা-ও বলেন আমি নাকি আলসে এবং কুঁড়ে"।

ছাত্র ইউনিয়ন ও খেলাঘরের সংগঠন সংগীত, 'আমরা তো সৈনিক, শান্তির সৈনিক', তার লেখা। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি লিখেছিলেন, 'স্বাধীন স্বাধীন দিকে আজ জাগছে বাঙালিরা/ আর রুখবে তাদের কারা'।

তিনি ১৯৪৫ সালের ১ নভেম্বর নাটোরের লালপুরের নুরুল্লাপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা টি আই এম সিকান্দার রেলওয়ের চাকরি করতেন। খুলনা, গফরগাঁও, কুলাউড়া—দেশের নানা প্রান্তে তার শৈশব কেটেছে। মা আয়শা খাতুনের স্নেহছায়ায় বেড়ে ওঠা সেই ঘুরে বেড়ানো দিনগুলোই পরে তার শিশুসাহিত্যের মূল উৎস হয়ে ওঠে।

আখতার হুসেন উদীচীর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। প্রথম দিককার নাটকের রচয়িতা ও নির্দেশক হিসেবেও তার ভূমিকা ছিল। তিনি খেলাঘরের প্রথম সারির একজন সংগঠক ছিলেন।

সাংবাদিকতা দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু হয়েছিল। শিশু-বিশ্বকোষে তিনি সর্বোচ্চসংখ্যক ভুক্তি লিখেছেন। ছড়া, গল্প ও নাটক মিলিয়ে প্রায় ৮০টি বই তার প্রকাশিত হয়েছে।

হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে তার শেষ দেখা হয়েছিল। ডাক্তার যখন তাকে ডাকলেন, তিনি চোখ মেলে তাকিয়েছিলেন। কয়েক দিন আগে আমিরুল ইসলামের মৃত্যুর খবর তিনিই ফোনে জানিয়েছিলেন, এরপর নিজেই অচেতন হয়ে পড়েন।

তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে। পরিবার, বিশেষ করে তার ছেলে প্রমিত হুসেন ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...