স্বাস্থ্যব্রেন টিউমারের প্রধান লক্ষণগুলো কী কী
ব্রেন টিউমারের প্রধান লক্ষণগুলো কী কী
মস্তিষ্কের টিউমারের দুটি প্রধান ধরন রয়েছে, প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি। তীব্র মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, বমি, খিঁচুনি ও অচেতন হয়ে পড়া এর প্রধান লক্ষণ।
অধ্যাপক ডা. হারাধন দেবনাথ মস্তিষ্কের টিউমারকে প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন। এর মধ্যে একটি হলো প্রাইমারি টিউমার, যা মস্তিষ্কের কোষ বা আবরণী থেকে উৎপন্ন হয়। গ্লিওমা এবং মেনিনজিওমা এই ধরনের টিউমারের উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
অন্য প্রকারটি হলো সেকেন্ডারি টিউমার, যেখানে ক্যানসার কোষ শরীরের অন্য কোনো স্থান থেকে মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে। ফুসফুসের ক্যানসার বা লিভারের ক্যানসার থেকে এমনটি হতে পারে।
মাথাব্যথা মস্তিষ্কের টিউমারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ হিসেবে বিবেচিত হয়। নিত্যদিনের পরিচিত সমস্যা হলেও কিছু নির্দিষ্ট ধরনের মাথাব্যথাকে অবহেলা করা উচিত নয়।
যে মাথাব্যথা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে, সকালের দিকে বা ঘুম ভাঙার পর তীব্র আকার ধারণ করছে, তা সন্দেহজনক। হাঁচি-কাশি বা যেকোনো ধরনের চাপে মাথাব্যথা বেড়ে যাওয়া কিংবা কোনো সাধারণ ওষুধে আরাম না পাওয়া গেলে এই মাথাব্যথা বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
মাথাব্যথা ছাড়াও আরও কিছু লক্ষণ মস্তিষ্কের টিউমারের ইঙ্গিত দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে চোখে ঝাপসা দেখা, বমি হওয়া, খিঁচুনি এবং হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়া।
অনেক সময় চক্ষুবিশেষজ্ঞরা ব্রেন টিউমার শনাক্ত করতে পারেন। মস্তিষ্কের অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়লে চোখের পেছনে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা যায়, যা তাদের দৃষ্টিগোচর হয়।
যদি মস্তিষ্কে টিউমারের সন্দেহ হয়, তবে মস্তিষ্কের ইমেজিং পরীক্ষা করানো জরুরি। এমআরআই (MRI) বা সিটি স্ক্যান (CT scan) এর মাধ্যমে টিউমার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব।
মস্তিষ্কের টিউমারের চিকিৎসায় বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বায়োপসি, সার্জিক্যাল রিসেকশন বা অস্ত্রোপচার, রেডিয়েশন থেরাপি এবং কেমোথেরাপি। এই পদ্ধতিগুলোর কিছু সংমিশ্রণ ব্যবহার করা হয়।
সঠিক চিকিৎসার কৌশল টিউমারের নির্দিষ্ট প্রকারের ওপর নির্ভর করে। কোনো চিকিৎসা পরিকল্পনা শুরু করার আগে স্টেরিওট্যাকটিক সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। মস্তিষ্কের টিউমার অস্ত্রোপচারের জন্য থ্রি-টি ইন্ট্রাঅপারেটিভ এমআরআই নিউরোসার্জারি একটি যুগান্তকারী প্রযুক্তি।
বাংলাদেশে ব্রেন টিউমারের নির্ভরযোগ্য অস্ত্রোপচারের জন্য বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় নিউরোসায়েন্সেস ইনস্টিটিউট এবং সরকারি মেডিকেল কলেজের নিউরোসার্জারি বিভাগ উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও বেসরকারি উদ্যোগেও এই ধরনের অস্ত্রোপচার পরিচালিত হয়।
সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারলে মৃত্যুর আশঙ্কা অনেকাংশে কমে যায়। তাই যত দ্রুত সম্ভব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মতামত (0)