স্বাস্থ্য

বর্ষায় জরুরি দুই সংকট: করণীয় কী

বর্ষায় জরুরি দুই সংকট: করণীয় কী
বর্ষায় জরুরি দুই সংকট: করণীয় কী
বর্ষায় জলাবদ্ধতা ও পিচ্ছিল রাস্তায় পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। পানিতে ডুবে যাওয়া বা আঘাত লাগলে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা ও হাসপাতালে নেওয়া জীবন বাঁচাতে পারে।

বর্ষাকালীন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশে জলাবদ্ধতা, বন্যা, বজ্রপাত এবং পানিতে ডুবে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এই সময়ে পিচ্ছিল রাস্তাঘাটও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, সাপের উপদ্রব বাড়ে। এসব জরুরি পরিস্থিতিতে জীবন বাঁচাতে তাৎক্ষণিক সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা জানা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক সময়ে নেওয়া পদক্ষেপ অনেক সময় বড় বিপদ বা মৃত্যুঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে।

বর্ষায় নদীনালা, পুকুর বা রাস্তায় জমে থাকা পানিতে শিশুরা ডুবে যেতে পারে। পানি থেকে তোলার পরপরই রোগীর মুখ ও নাক পরিষ্কার করে শ্বাসনালি সচল করতে হবে। যদি রোগী অচেতন থাকে কিন্তু শ্বাস নেয়, তবে তাকে একপাশে কাত করে শুইয়ে দিন। এতে পেটের পানি মুখ দিয়ে সহজে বের হয়ে আসবে এবং শ্বাসনালি পরিষ্কার থাকবে।

যদি রোগীর শ্বাস বন্ধ থাকে, তবে দ্রুত কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস বা সিপিআর শুরু করা প্রয়োজন। বুকের মাঝখানে হাত রেখে (হাত সোজা থাকবে) প্রতি মিনিটে ১০০ থেকে ১২০ বার গতিতে চাপ দিতে থাকুন। এরপর প্রতি ৩০ বার বুকের চাপের পর মুখ দিয়ে ২ বার করে শ্বাস দিতে হবে।

প্রাথমিক চিকিৎসার পর দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন। কারণ, ফুসফুসে পানি জমে যাওয়ার কারণে পরবর্তীতে ‘সেকেন্ডারি ড্রাউনিং’-এর ঝুঁকি থাকে। এই ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া আবশ্যক।

এই সময়ে ভেজা রাস্তায় পা পিছলে পড়ে হাত-পা ভাঙা, মচকে যাওয়া বা আঘাত পাওয়ার ঘটনা খুব বেশি ঘটে। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের ক্ষেত্রে এই ধরনের আঘাত মারাত্মক হতে পারে। পড়ে যাওয়ার পর রোগীকে হুট করে টেনে তুলে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা উচিত নয়।

আঘাত কোথায় লেগেছে, তা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। যদি হাত বা পা মচকে যায়, তবে ‘রাইস’ (আরআইসিই) পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। ‘রাইস’ মানে হলো বিশ্রাম (রেস্ট), বরফ দেওয়া (আইস), ইলাস্টিক ব্যান্ডেজ দিয়ে হালকা পেঁচিয়ে রাখা (কমপ্রেশন) এবং আঘাতপ্রাপ্ত অঙ্গটি একটু উঁচুতে রাখা (ইলিভেশন)।

আঘাতের জায়গাটি ভালো করে সাবানপানিতে পরিষ্কার করে নিন। এটি না করলে পরে ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। যদি হাড় ভেঙে যাওয়ার সন্দেহ হয়, তবে শক্ত কোনো কাঠ বা কার্ডবোর্ড দিয়ে স্থানটি হালকাভাবে ব্যান্ডেজ করে স্পিন্ট করুন।

এতে হাড় নড়াচড়া করলেও ক্ষতির পরিমাণ কম হবে। তবে ব্যান্ডেজ অবশ্যই হালকাভাবে করতে হবে। মাথায় বা মেরুদণ্ডে আঘাত পেলে রোগীকে যতটা সম্ভব কম নড়াচড়া করিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জরুরি।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...