চাকরিচাকরির বাজারে নতুন সুযোগ, বাড়ছে পদ সংখ্যা
চাকরির বাজারে নতুন সুযোগ, বাড়ছে পদ সংখ্যা
বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস ও বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতির বিস্তারিত দিকনির্দেশনা এবং সফলতার গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। এই বিসিএসে বিভিন্ন ক্যাডারে মোট এক হাজার ৩২০ জনকে এবং নন-ক্যাডারে ২০১ জনকে সাময়িকভাবে সুপারিশ করা হয়েছে। কর্মপদ্ধতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপক পরিবর্তন আনছে, যা কাজের ধরন ও দক্ষতার চাহিদাও বদলে দিচ্ছে। এর ফলে নতুন পেশা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ১৪৬০ জন মিটার রিডার-কাম-ম্যাসেঞ্জার পদে কর্মী নিয়োগ দেবে। এই পদটি মাঠ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ, যেখানে বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত, গ্রাহকসেবা এবং অফিসের বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করতে হয়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ২৮০ জন অফিস সহায়ক পদে কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীরা ২০২৬ সালের ৮ জুলাই বিকাল ৪টার মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে সিপাহি পদে চাকরির সুযোগ রয়েছে, যেখানে দেশের সব জেলার প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। এই পদের জন্য বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে সফিপুর, গাজীপুরে অবস্থিত একাডেমিতে। সমাজসেবা অধিদপ্তরে একটি বড় নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে কিছু পদে অষ্টম শ্রেণি পাস প্রার্থীরাও আবেদনের সুযোগ পাচ্ছেন। পদভেদে সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে স্নাতক, তবে বেশ কিছু পদে কম্পিউটার ও অন্যান্য দক্ষতা প্রয়োজন।
অনার্স পরীক্ষা শেষ করার পর শিক্ষার্থীরা একাডেমিক চাপমুক্ত হলেও কর্মজীবন নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। এই সময়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি চাকরির প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের (বিজেএস) নিয়োগ পরীক্ষাকে একটি সুদীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভাইভা বোর্ডে সফল হওয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতিকে মূল পুঁজি হিসেবে দেখা হয়।
ভাইভা প্রস্তুতির জন্য প্রিলিমিনারি ও রিটেনের পড়াগুলো পুনরায় গভীরভাবে রিভিশন দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। একজন প্রার্থী ২০২৩ সাল থেকে বাসায় বসে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন এবং ভাইভার জন্য এই পদ্ধতি অনুসরণ করেন। কম সিজিপিএ নিয়ে পরপর তিনবার ব্যর্থ হওয়ার পরও একজন প্রার্থী অবশেষে সফল হয়েছেন। তার সফলতার পেছনে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতিই ছিল মূল পুঁজি।
বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার ভাইভা বোর্ডে প্রার্থীরা প্রায় ১৫ মিনিটের মতো সময় কাটান। একজন প্রার্থীকে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের একটি উদাহরণ দিতে বলা হয়েছিল। অন্য একজন প্রার্থীর কাছে কথায় কথায় আন্দোলনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা জানতে চাওয়া হয়। ক্যাডার পছন্দক্রমে প্রশাসন, ট্যাক্স ও কাস্টমস প্রথম দিকে থাকার কথা উল্লেখ করেছেন একজন সফল প্রার্থী।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে পড়াশোনা করা একজন প্রার্থী ভাইভা বোর্ডের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। তিনি সালাম দিয়ে অনুমতি নিয়ে ভাইভা কক্ষে প্রবেশ করেন এবং প্রায় ১৫ মিনিট বোর্ডে ছিলেন। ক্যাডেট কলেজে পড়ার সময় থেকে সেনাবাহিনীতে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও, আইএসএসবিতে প্রথমবার তিনি স্ক্রিন্ড আউট হন এবং পরবর্তীতে বিসিএস ক্যাডারে সফল হন।
নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মীদের চাহিদা বাড়ছে। তারা সুনির্দিষ্ট পোশাক পরে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমান চাকরির বাজারে সফট স্কিল বা নমনীয় দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই দক্ষতার মাধ্যমে প্রার্থীরা প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে এগিয়ে থাকতে পারেন।
মতামত (0)